ভেড়ীবাঁধের ওপর সাড়ে ৩ হাজার মানুষের মানবেতর জীবনযাপন : খুলনায় আইলা’র সাত বছর পরের হালচিত্র

Daily Somoyer Khobor, Khulna
বুধবার, ২৫ মে ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দ
————————————–
নিজস্ব প্রতিবেদক : উপকূলবর্তী জেলা খুলনায় আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে তিন হাজার মানুষ শিবসা, পশুর ও শাকবাড়িয়া নদীর তীরে ভেড়ীবাঁধের ওপর বসবাস করছে। তাদের এখনও মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়নি। নিজস্ব জমি না থাকায় গৃহ নির্মাণের তহবিলের সহায়তাও পায়নি। এমনকি তাদের জন্য খাস জমিরও ব্যবস্থা করা হয়নি। ভেড়ীবাঁধের ওপর বসবাসকারী এলাকাগুলো হচ্ছে কয়রার উত্তর বেদকাশি, মহারাজপুর ইউনিয়ন, দাকোপ উপজেলার কামারখোলা ও সুতারখালী ইউনিয়ন। আইলায় জেলায় ৫৭ জনের প্রাণহানী হয়। ২০০৯ সালের ২৫ মে আইলা নামক ঘূর্ণিঝড় এ অঞ্চলে আঘাত হানে।
গতকাল উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন), এ্যাওসেড, জেজেএস, রূপায়ন ও এসপিএস ‘আইলা’র সাত বছর পূর্তি উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আইলার পর জরুরী ভিত্তিতে নির্মিত ভেড়ীবাঁধগুলো মানসম্মত উপায়ে তৈরি করা হয়নি। ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু আঘাত না হানলেও খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার ৬টি স্থানে ভেড়ীবাঁধে ফাটল ধরেছে। খুলনার দক্ষিণ প্রান্তের উপজেলা কয়রার মহারাজপুর ও দাকোপের কালাবগিতে জলোচ্ছ্বাসে পানি ভেড়ীবাঁধ উপচে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে মেরামতের উদ্যোগ নেয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপকূলের ৫৭ লাখ জনগোষ্ঠীর ঝুঁকিপূর্ণ জীবন-যাপন ও সম্পদ রক্ষার্থে এ সংগঠনের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি তোলা হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, প্রয়োজনীয় বিধিমালা, দাপ্তরিক আদেশ কার্যকর, ভেড়ীবাঁধ কাটার সাথে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে খাস জমি বিতরণ, পুনর্বাসনের পদক্ষেপ এবং নোনা পানির চিংড়ি ঘের বন্ধ করা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ক্লিন-এর প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সংগঠক মনিরুল হক বাচ্চু, জিল্লুর রহমান, ক্লিন-এর চেয়ারপারসন সাজ্জাদুর রহিম পান্থ, এ্যাওসেড-এর নির্বাহী পরিচালক শামীম আরফিন, বেলা’র বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল, পরিবর্তন-খুলনা’র নির্বাহী পরিচালক নাজমুল আযম ডেভিড, ক্লিন-এর সুবর্ণা ইসলাম দিশা ও নাসিম রহমান কিরণ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, আইলায় জেলার কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ, বটিয়াঘাটা, ডুমুরিয়া উপজেলার ৪৫ টি ইউনিয়ন, চালনা ও পাইকগাছা পৌরসভা এলাকার ৫ লাখ ৪৬ হাজার মানুষ সম্পদ হারায়। এছাড়া ৬৮ হাজার ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ এবং ৪৪ হাজার আংশিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ৫৯৭ কিলোমিটার পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভেড়ীবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সিডরে ৫ লাখ ২৫ হাজার মানুষের সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসময় ১৮ জনের প্রাণহানী হয় এবং ৪৩. ৩০ কিলোমিটার ভেড়ীবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গেল শনিবার রোয়ানু নামক ঘূর্ণিঝড় আঘাত না হানলেও জেলার ৩২ কিলোমিটার ভেড়ীবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>