৭ বছরেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি উপকূলের মানুষ

Banglapress.com.bd
বুধবার, ২৫ মে ২০১৬, ০৮:২৯ পূর্বাহ্ণ
———————————-

A village in Dacope after cyclone Aila
সৈয়দা লায়লা আক্তার, খুলনা: আজ সেই ২৫ মে। উপকূলে আইলার আঘাতের ৭ বছর পূর্তি। ভয়ংকর আইলার দানবীয় আঘাতের ক্ষত চিহ্ন এখনও মুছেনি। এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি উপকূলের ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ।
২০০৯ সালের ২৫ মে এ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে উপকূলে। এতে লন্ডভন্ড হয়ে যায় সবকিছু। আজ আইলা’র সপ্তম বর্ষপূর্তি। কিন্তুএখন পর্যন্ত আইলাবিদ্ধস্ত উপকূলবাসীর দিন-রাত কাটছে সেই বেড়িবাঁধের ওপর। এখনও নিশ্চিত করা যায়নি তাদের মাথাগোজার সামান্য ঠাঁই টুকুও।
কয়রার উত্তর বেদকাশী, মহারাজপুর এবং দাকোপের কামারখোলা ও সুতারখালী ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষ এখনও বেড়িবাঁধের উপরে বাস করছেন। কারণ আইলার সময় তাদের ঘরবাড়ি-জমিজমা সব বিলীন হয়। নিজস্ব কোনো জমি না থাকায় তারা সরকারের গৃহনির্মাণ তহবিলের সহায়তাও পাননি। এমনকি তাদেরকে কোনো খাস জমিও বরাদ্দ দেয়া হয়নি। আইলার পরে জরুরীভিত্তিতে যে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিলো সেগুলোও মানসম্মত উপায়ে তৈরি করা হয়নি। ইতোমধ্যে বর্ষা মৌসুম শুরু হয়ে গেছে। ফলে উপকূলবাসী নতুন আতংকে রয়েছেন।

২০০৯ সালের ২৫ মে ঘূর্ণিঝড় আইলা আঘাত হানে। উপকূলের ১১টি জেলায় প্রায় ৬ লাখ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়, ৮ হাজার ৮শ’ কিলোমিটার রাস্তাঘাট ভেঙে যায়। খুলনা ও সাতক্ষীরার ৭১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে প্রায় দেড় লাখ একর জমি নোনা পানিতে তলিয়ে যায়। ঘূর্ণিঝড় আইলা আঘাত হানার পর ইতোমধ্যেই বঙ্গোপসাগরে লায়লা, গিরি, হুদহুদ, নিলোফার, নার্গিস ইত্যাদি নামের ১৭টি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়। মহাসেন ও কোমেন ছাড়া এ অঞ্চলে কোন ঝড় আঘাত হানেনি। ২০১৩ সালে ঘূর্ণিঝড় মহাসেন মধ্য উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানলে ১২ জন, এবং ২০১৫ সালে ঘূর্ণিঝড় কোমেন-এর আঘাতে ৪ জনের মৃত্যু হয়।

Pratapsarani Primary School, High School and Community Clinic was grabbed by the new current made by cyclone Aila
সর্বশেষ আইলার ৭ বছর পর গত ২১ মে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু দুর্বল হয়ে মধ্য ও পূর্ব উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানে। এতে ঝরে যায় ২৪টি প্রাণ। ক্ষতিগ্রস্থ হয় প্রায় ২ লাখ মানুষ। এবারও অন্তত ৮শ’ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে, লোনা পানিতে প্লাবিত হয়েছে ১ লাখ একর ফসলি জমি। এ ঘূর্ণিঝড় খুলনা-সাতক্ষীরা-বাগেরহাটে আঘাত না হানলেও কমপক্ষে ৬টি স্থানে বেড়িবাঁধে ফাঁটল ধরেছে। এছাড়া খুলনার ৪ নম্বর কয়রা, মহারাজপুর ও কালাবগীতে জলোচ্ছ্বাসের পানি বেড়িবাঁধ উপচে পড়ার উপক্রম হয়।
শ্যামনগরের গাবুরা ও পদ্মপুকুর, আশাশুনির প্রতাপনগরের মানুষ। তাদের রাস্তা ও বাঁধ নির্মাণ হয়েছে। নতুন ঘর তৈরি হয়েছে। কিন্তু এলাকায় কৃষি নেই, চিংড়ি চাষেও মন্দা। কর্মসংস্থান না থাকায় দক্ষিণের এই মানুষ কাজের সন্ধানে এখন ভিটেমাটি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন ভিন্ন জেলায়।
গাবুরা ইউনিয়নে গেলে ৯নং সোরা গ্রামের কৃষিজীবী হাসান মোল্লা, ডুুমুরিয়া গ্রামের রেজাউল করিম ও নেবুবুনিয়া গ্রামের রাবেয়া খাতুন জানান, টানা দুই বছর পর তারা সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে ঘর বাড়ি পেয়েছেন। কিন্তু এলাকায় কাজ না থাকা আর বারবার দুর্যোগের মুখে বসতি টিকছে না তাদের। কাজের খোঁজে বেরিয়ে যাচ্ছেন দুর্গত মানুষ। তারা জানান, গাবুরা ইউনিয়নের ১৮টি গ্রামে কোনো কৃষি জমি নেই বললেই চলে। আছে শুধু নোনা পাানির চিংড়ি ঘের। এ সব ঘেরে কাজ হয় বছরে পাঁচ মাস। বাকি সময় তাদের থাকতে হয় বেকার। কাজের অভাবে তারা নদীতে পোনা ধরতেন। তাও বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। আর জলদস্যু ও বাঘের ভয়ে সুন্দরবনে যেতে পারছেন না তারা। তারা আরো জানান, ক্ষতিগ্রস্ত অনেকেই এখনো বাড়ি বানাতে পারেনি।
জোয়ারের তাণ্ডবে প্রতি বছর নতুন নতুন জায়গায় নদীর বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। আইলায় ভেঙ্গে জমিতে বালি ভরাট হয়ে গেছে। মাছও হয় না। খাবার পানি , চিকিৎসার সুযোগও নেই। সাইক্লোন সেন্টার ও কমিউনিটি ক্লিনিকের সংখ্যা যথেষ্ট কম। চার কিলোমিটার দূর থেকে পানি আনতে হয়। এছাড়া বৃষ্টির পানি ধরে রেখে সারা বছর পান করতে হয়। পাত্রের অভাবে বৃষ্টির পানি সঞ্চয় করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। পুকুরের মিষ্টি পানিই দু’টি ইউনিয়নের ৭৬ হাজার মানুষের খাওয়ার পানির প্রধান উৎস। অসুস্থ্য হলে এক কিলোমিটার নদীর খেয়াঘাট পার করে ৩০ কিলোমিটার দুরে শ্যামনগরে বা ৮০ কিলোমিটার দূরে সাতক্ষীরা শহরে নিয়ে যেতে হয়। কিন্তু নদী খাল এলাকা হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই খারাপ।

পাউবোর আমাদীর উপ-বিভাগীয় শাখার সা্েবক কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মতিন বাংলাপ্রেস.কম.বিডিকে বলেন, ঝুকিপূর্ণ কিছু বাঁধে মাটি দেয়ার কাজ চলছে। তাছাড়া ভাঙন কবলিত বাঁধে ডাম্পিং ব্লক ফেলা হয়েছে। এছাড়া ভয়াবহ ভাঙনের কবলে থাকা বাঁধগুলো মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ বদিউজ্জামান বাংলাপ্রেস.কম.বিডিকে জানান, প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময় উপকূলবাসীদের আশ্রয়ের জন্য সরকারের তত্ত্বাবধায়নে ঘুর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, উপকূলবর্তী কয়রা উপজেলাবাসীর জন্য ২ শতাধিক আশ্রয় কেন্দ্র জরুরী প্রয়োজন। তিনি বলেন, আইলা বিধ্বস্ত কয়রা এলাকার মানুষের পুর্নবাসনে সরকারিভাবে সহায়তা করা হচ্ছে। কয়রাকে আইলার পূর্ব অবস্থায় ফিরে যেতে সব রকমের সাহায্য সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি জানান।
কয়রা উপজেলা চেয়ারম্যান আ খ ম তমিজ উদ্দীন বাংলাপ্রেস.কম.বিডিকে বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ কয়রাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যহত রাখা হয়েছে।
উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন) এর প্রধান সির্বাহী হাসান মেহেদী বাংলাপ্রেস.কম.বিডিকে বলেন, ৭ বছর কেটে গেলেও এখনও কয়রার উল্টর কেবদকাশি ও মহারাজপুর এবং দাকোপের কামারখোলা ও সুতারখালী ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষ বেড়িবাঁধের ওপর বসবাস করছেন। কেননা আইলার সময় তাদের ঘর-বাড়ি, জমি-জমা সব বিলীন হয়ে গেছে। নিজস্ব কোন জমি না থাকার কারণে তারা সরকারের গৃহনির্মাণ তহবিলের সহায়তা পাননি। এমনকি আজ পর্যন্ত তাদের কোন খাস জমিসতেও বরাদ্দ দেয়া হয়নি। আইলার পর জরুরীভিত্তিতে যে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল, সেগুলোও মানসম্মত উপায়ে তৈরী করা হয়নি। ফলে জোয়ারের চাপ বা ভারী বর্ষণে বাঁধগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২১ মে খুলনায় ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাত না পড়লেও সামান্য চাপেই ৬টি স্থানে বাধে ফাটল দেখা দেয়। তাই পরিবেশ সম্মত উপায়ে প্রতিরোধক্ষম বেড়িবাধ নির্মাণ ছাড়া সামনে আর কোন বিকল্প নেই।
কয়রার পরিবেশবিদ আঃ আজিজ বাংলাপ্রেস.কম.বিডিকে বলেন, পৃথিবীর বৈশ্বায়িক উষ্ণায়নের ফলে ঘটছে জলবায়ুর পরিবর্তন। পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম দূর্যোগ ঝুকিপূর্ণ দেশ। আর দেশের মধ্যে সবচেয়ে ঝুকিপূর্ণ রয়েছে দক্ষিণ উপকূলীয় বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী সুন্দরবন কোলঘেষা খুলনার কয়রা।
Nalian Ferry Ghat had been vanished several times after cyclone Aila
উপেজলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার রায় বাংলাপ্রেস.কম.বিডিকে বলেন, দূর্যোগ মোকাবেলায় সার্বিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার অভাবে ঘুর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাসে প্লাবিত হওয়ার আতংক রয়েছে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ৩ লাখ মানুষ। যে জন্য দূর্যোগে হাইরেক্স জোন হিসেবে কয়রা এলাকায় পর্যাপ্ত সাইক্লোন সেন্টারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
কয়রা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডঃ শেখ আব্দুর রশিদ বাংলাপ্রেস.কম.বিডিকে জানান, কয়রাবাসী প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময় অসহায় হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা গোলখালী, জোড়শিং, আংটিহারা, ৪নং কয়রা, গোবরা, গাটাখালী, হরিণখোলা, কাটকাটা, নয়ানী, তেতুলতলার চর, পাথরখালী, হরিহরপুর, ঘড়িলাল ও হড্ডা এলাকার মানুষ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঘুর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মানুষ দূর্যোগকালীন সময়ে আশ্রয় গ্রহণ করে থাকেন। ঘুর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রগুলোর ধারণ ক্ষমতা অত্যান্ত কম। তিনি সরকারি প্রাথমিক ও মাদরাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে একটি করে আশ্রয় কেন্দ্র স্থাপনের দাবী জানিয়েছেন।
কয়রা উপজেলা প্রকৌশলী অধিদপ্তরের প্রকৌশলী নিরাপদ পাল বাংলাপ্রেস.কম.বিডিকে জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আমাদী ইউনিয়ন ছাড়া বাকী ৬টি ইউনিয়নের কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদীরতীরবর্তী গ্রামগুলো ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, কয়রা, মহারাজপুর, মহেশ্বরীপুর, বাগালী ইউনিয়নে যে সাইক্লোন সেন্টার রয়েছে তা যথেষ্ট। কিন্তু দক্ষিণ ও উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নে আরো সাইক্লোন সেন্টারের প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

দাকোপের গুনারী গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ মীর বাংলাপ্রেস.কম.বিডিকে জানান, আইলায় তার ঘর-বাড়ি ফসলি জমি সবকিছুই শিবসা নদীতে বিলিন হয়েছে। এখন পাশ্ববর্তী বাঁধের উপর পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। দীর্ঘ ৭ বছর ফসলি জমিতে আমন ধান উৎপাদন করতে পারছি না। ফলে সংসারে অভাব অনটন লেগেই আছে।

সুতারখালী ইফপির সাবেক চেয়ারম্যান গাজী আশরাফ হোসেন বলেন, আইলার জলোচ্ছাসে বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ৭ হাজার বিঘা জমি নলিয়ান নদীগর্ভে বিলিন হয়। আইলার ক্ষত কাটিয়ে উঠতে না পারা মানুষ নদী ভাঙ্গনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। জমিতে বালির চর পড়ে ভরাট হওয়ায় কৃষকরা জমিতে ফসল ফলাতে পারছে না।

সুতারখালী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মাসুম আলী ফকির বাংলাপ্রেস.কম.বিডিকে বলেন, ৭ বছরেও অনেক পরিবারকে পুনর্বাসনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। এলাকার অনেক পরিবার এখনো বেড়িবাঁধের উপর মানবেতর জীবনজাপন করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মোসাদ্দেক হোসেন বাংলাপ্রেস.কম.বিডিকে জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ও নদী ভাঙ্গনের কারণে জমির পরিমান কমতে থাকে। আইলার আগে ১৯ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে আমন চাষাবাদ হত। আইলায় প্রায় ২শ হেক্টর জমি নদী গর্ভে চলে যায়।
শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের পাখিমারা গ্রামের শওকত আলী ও গৃহবধু নূরজাহান বেগম জানান, বেশিরভাগ এলাকা লবণাক্ত। এ এলাকা এক ফসলী। ফলে বছর জুড়ে কৃষি কাজের সুযোগ না থাকায় তারা গ্রাম ছেড়ে কাজের সন্ধানে চলে যান বাইরে। আগে তারা বনে যেতেন। এখন ডাকাতদের উৎপাত আর বাঘের ভয়ে বনে যাওয়াও বন্ধ হয়ে গেছে। তাছাড়া আগে নদীতে বাগদার রেনু ধরে সংসার চালানো যেতো। এখন সরকারিভাবে নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও পেটের জ্বালায় কোষ্টগার্ড ও বনভিাগের চোখ এড়িয়ে নদীতে নামতে হয় বাগদার রেণু ধরতে। এছাড়া এলাকার অনেকই ঢাকা, আমিনবাজার, গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন ইটভাটায় ৬ মাস করে কাজ করে থাকেন। কেই কেই শহরে রিক্সা চালায়। বাকি সময়ে তারা এলাকায় ফিরে এসে দিন মজুর খেটে কোন প্রকারে সংসার চালায়।
প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাহনিয়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান জানান, সুভদ্রকাটি, রুইয়ার বিলসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ আইলার পর থেকে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি। তাছাড়া ২০১২ সালে জলবায়ু ট্রাষ্টের আওতায় প্রতিটি চার লাখ টাকা ব্যয়ে আইলা দুর্গত মানুষের জন্য ৪০০টি গৃহনির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হলেও জেলা পরিষদের অনিয়ম ও দূর্ণীতির ফলে উচ্চ আদালতে কয়েকটি রিট পিটিশন দাখিল হওয়ায় ওই কার্যক্রম এক পর্যায়ে বন্ধ হয়ে গেছে। তাছাড়া প্রতি বছর কয়েকবার নদীবাঁধ ভাঙনের ফলে নতুনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নিরুপায় হয়ে এলাকা ছাড়ছে মানুষ।
গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান আলি আযম টিটো জানান আইলা দুর্গত গাবুরা ও পদ্মপুকুরের মানুষের জীবনধারনের সব সুযোগ হারিয়ে গেছে। চিকিৎসা নেই। যথেষ্ট সংখ্যক সাইক্লোন শেল্টারও নেই। লেখাপড়ার সুযোগ কম। কর্মসংস্থানের সূযোগ নেই। শিশু চিকিৎসার সুবিধাও অনুপস্থিত। প্রতি বছর ভাঙছে নদীর বাঁধ। ফলে এলাকা ছাড়ছে সাধারণ মানুষ। এসব কারণে জনবসতি স্থায়ী হচ্ছে না গাবুরা ও পদ্মপুকুরে। গো-খাদ্যের অভাব এবং মাটি ও পানি লবণাক্ত হওয়ায় গবাদি পশু পালনও কঠিন এ এলাকায়। গাবুরা ইউনিয়নে বর্তমানে ৬ হাজার ৮০০ পরিবারে জনসংখ্যা ৪৩ হাজার। ২০০৯ সালে গাবুরায় যে জনসংখ্যা ছিল বর্তমানে তা অর্ধেকে এসে দাঁড়িয়েছে। এলাকাবাসীর আর্থ সামজিক উন্নয়নে সরকারকে বড় ধরণের প্রকল্প হাতে নেওয়ার আবেদন জানান তিনি।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সায়েদ মোঃ মঞ্জুর আলম বাংলাপ্রেস.কম.বিডিকে জানান, ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধ নির্মাণ করা হলেও তা যথেষ্ট মজবুত নয়। নতুন করে ভাঙন প্রতিরোধে চাই নতুনপ্রযুক্তি। অর্থনৈতিক দুর্বলতার কারণে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও জনগণকে বাঁধ সংস্কারে সম্পৃক্ত করতে হবে। সুপেয় পানি ও কর্মসংস্থানের কিছু ব্যবস্থা করা হয়েছে। জনবল সঙ্কটের কারণে স্বাস্থ্যসেবার জন্য বাইরে থেকে লোক এনে কাজ করাতে হয়। কর্মসংস্থানের জন্য কাঁকড়া মোটা তাজাকরণসহ কয়েকটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৯ এর এই দিনে মাত্র ৩০ মিনিটের তান্ডব নিশ্চিহ্ণ করে দিয়েছিল শ্যামনগরের দুটি ইউনিয়ন নদীবেষ্টিত গাবুরা ও পদ্মপুকুর। এছাড়াও বিধ্বস্ত হয় আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়ন। ৩৬টি গ্রামের ৭৩টি জীবন মুহুর্তেই কেড়ে নিয়েছিল আইলা। নদীবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হওয়ায় গৃহহীন মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল রাস্তার ধারে ও উঁচু স্থানে।

Link: http://banglapress.com.bd/news/khulna/23209

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>