দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন’র প্রয়োগ না হওয়ায় সাত বছরেও দুর্ভোগ কাটেনি আইলা দুর্গতদের টেকসই হয়নি বেড়িবাঁধ

Sundarban Samachar, মে ২৪, ২০১৬

Shamim Ashraf Shelley
—————————–

সর্বনাশা আইলা’র ৭ বছর পূর্তি হ’ল আজ। ২০০৯ সালের ২৫ মে ঘূর্ণিঝড় আইলা আঘাত হানে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে। দীর্ঘ সাত বছর পার হয়ে গেলেও সমন্বয় হিনতা ও নতুন আইন প্রয়োগ না করায় দাকোপ ও কয়রার সাড়ে ৩ হাজার দুর্গত জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ আজও কাটেনি। বেড়িবাঁধ ভেঙে পানির তোড়ে ঘরবাড়ি-জমিজমা বিলীন হয়ে যাবার পর বাধ্য হয়ে এসব পরিবার বাস করছে বেড়িবাঁধের উপর। আবার সেই বেড়িবাঁধ কেটে ও ফুটো করে বেড়িবাঁধের আশ্রয়টুকুও কেড়ে নিতে নোনাপানি ঢোকানো হচ্ছে নোনাপানির চিংড়ি চাষের জন্য। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ থাকলেও যাদের হাতে ব্যবস্থা তারা চুপ!
২০১২ সালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনটি কার্যকর করার দাবি জানিয়ে আজ খুলনা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন)। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ক্লিন’র প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আইলার পর সাত বছর পার হয়ে গেলেও উপকূলীয় বেড়িবাঁধ সংস্কার না করায় ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানলে কোনো ভাবেই উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা রক্ষা করা যাবে না। তিনি বলেন, ২০১২ সালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনে বেড়িবাঁধের ক্ষতি করার জন্য দায়ীদের কঠোর শাস্তির বিধান থাকলেও আইনটি কার্যকর না হওয়ায় যত্রতত্র বেড়িবাঁধ কেটে বা ফুটো করে নোনাপানি ঢোকানো হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অবিলম্বে প্রয়োজনীয় বিধিমালা ও দাপ্তরিক আদেশ জারি করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন কার্যকর করা,আইলায় ক্ষতিগ্রস্থ ও ভূমিহীন পরিবারগুলোকে খাসজমি বিতরণ ও অন্যান্য সহায়তা দিয়ে পুনর্বাসন করা, উপকূলীয় বেড়িবাঁধগুলো পরিবেশসম্মত উপায়ে আরো শক্তিশালী করা, কৃষিজমিতে নোনাপানির চিংড়িঘের বন্ধ করা ও সমন্বিত উপকূলীয় ব্যবস্থাপনা নীতি (আইসিজেডএমপি) অনুসরণ বাধ্যতামলূক করাসহ ছয় দফা দাবিনামা উপস্থাপন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ক্লিন’র চেয়ারপার্সন সাজ্জাদুর রহিমপান্থ, এ্যাওসেড’র নির্বাহী পরিচালক শামীম আরফিন, পরিবর্তন-খুলনা’র নির্বাহী পরিচালক নাজমুল আযম ডেভিড, বলা’র বিভাগীয় সমন্বয়কারীমাহফুজুর রহমান মুকুল, বিপ্লবীওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সংগঠক মনিরুল হক বাচ্চু, ক্লিন’র সুবর্ণা ইসলাম দিশা, নাসিম রহমান কিরণ প্রমূখ।

এখনো বেড়িবাঁধে বসবাস

www.risingbd.com
25 May 2016   01:40:30 PM
———————————-
মুহাম্মদ নূরুজ্জামান, খুলনা : দক্ষিণাঞ্চলবাসীর কাছে মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে আছে ভয়াল সাইক্লোন আইলা। দীর্ঘ সাত বছর আগে ২৫ মে আইলার আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে যায় সবকিছু। এখন পর্যন্ত আইলাবিধ্বস্ত উপকূলবাসীর দিন-রাত কাটছে সেই বেড়িবাঁধের ওপর। এখনও নিশ্চিত করা যায়নি তাদের মাথাগোঁজার সামান্য ঠাঁই টুকুও।

এখনও খুলনার কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশী, মহারাজপুর এবং দাকোপ উপজেলার কামারখোলা ও সুতারখালী ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষ বেড়িবাঁধের উপরে বাস করছেন। অন্যদিকে আইলার পরে জরুরি ভিত্তিতে যে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিলো সেগুলোও মানসম্মত উপায়ে তৈরি করা হয়নি। ইতিমধ্যে বর্ষা মৌসুম এসে পড়েছে। ফলে উপকূলবাসী নতুন আতঙ্কে রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, ২০০৯ সালের আইলার আঘাতে এখানে ১৯৩ জনের মৃত্যু হয়, ৭ হাজার মানুষ আহত হন, সাড়ে ৬ হাজার গরু-বাছুর ও প্রায় ২ লাখ হাঁসমুরগি মারা যায়। উপকূলের ১১টি জেলায় প্রায় ৬ লাখ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়, ৮ হাজার ৮শ’ কিলোমিটার রাস্তাঘাট ভেঙে যায়। খুলনা ও সাতক্ষীরা এই দুই জেলাতেই ৭১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে প্রায় দেড় লাখ একর জমি নোনাপানিতে তলিয়ে যায়। ফলে এ দুটি জেলার প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার মানুষ স্থায়ীভাবে এবং প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষ অস্থায়ীভাবে বাস্তচ্যুত হয়ে পড়েন।

ঘুর্ণিঝড় আইলার প্রভাবে সেদিন সকাল সাড়ে সাতটার দিকে নদীতে জোয়ারের পানি বিদ্যুৎ বেগে বৃদ্ধি পেয়ে বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে হু হু করে লোনা পানি  প্রবেশ করে। মুহুর্তের মধ্যে মানুষের ঘরবাড়ি, চিংড়ি ঘের, ক্ষেত খামার, রাস্তাঘাট সবই পানিতে একাকার হয়ে যায়। হাজার হাজার নারী, পুরুষ, শিশু, গবাদিপশু সাইক্লোন শেল্টারে গিয়ে আশ্রয় নেয়। শত শত পরিবার ঘর ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে বেড়িবাঁধের ওপর আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। আইলার জলোচ্ছাসে কয়রায় ৯ ব্যক্তি প্রাণ হারায়। ২৪টি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। কয়রায় হারেজখালি, পদ্মপুকুর, মঠবাড়ি, পাথরখালি, আশাশুনির চাকলা, রুইয়ারবিল, দাকোপের গোলবুনি, সুতারখালি, গুনারি, শ্যামনগরের গাবুরা, বুড়িগোয়ালিনী বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত হয়ে দু’ বছর লোনা পানিতে তলিয়ে থাকে খুলনা-সাতক্ষীরা উপকূলের বিস্তীর্ন জনপদ।

মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত মঠবাড়ি ক্লোজার, হারেজখালি, পদ্মপুকুর, পাথরখালি, গোলবুনি ক্লোজার তিন বছর পর ২০১২ সালে সেনাবাহিনীর ততা¡বধানে পানি উন্নয়ন বোর্ড মেরামত করতে সক্ষম হয়। আজো কয়রা এলাকার মানুষ আইলার ধকল পুরোপুরি সামলে উঠতে পারেনি। পাউবোর বাঁধ প্রতিনিয়তই ভাঙছে। ভাঙনের কবলে পড়ে ভিটেমাটি হারাচ্ছে মানুষ।

পাউবোর বেড়িবাঁধ মেরামত প্রসঙ্গে খুলনাঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ বজলুর রশিদ বলেন, ষাটের দশকে নির্মিত উপকূলীয় এলাকার বেড়িবাঁধগুলো ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নিচু হয়ে গেছে। পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে পাউবো বাঁধ মেরামত করতে হিমশিম খাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বেড়িবাঁধের কিছুটা অংশে ড্যাম্পিং করে ব্লক বসানো হয়েছে। নদী ভাঙন ঠেকাতে জাইকার অর্থায়নে আগামী বছর থেকে বেড়িবাঁধে ব্লক বসানো কার্যক্রম শুরু হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বদিউজ্জামান বলেন, সাত বছর আগের আইলার ক্ষতি ইতিমধ্যে মানুষ কাটিয়ে উঠে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বেশি বেশি বরাদ্দ দেওয়ায় উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে। নদীভাঙন রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণে জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে।

এদিকে, আইলার সপ্তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দিনব্যাপী খুলনা প্রেস ক্লাব চত্বরে চলছে আইলার ভয়াল দৃশ্য সম্বলিত আলোকচিত্র প্রদর্শনী। বেসরকারি সংগঠন গ্রামীণ জীবনযাত্রার স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের জন্য প্রচারাভিযান (সিএসআরএল) ও এর সদস্য সংগঠনের পক্ষ থেকে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ক্লিন’র প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী বলেন, ‘দুর্গত জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করার জন্য একটি আইন হয়েছে। কিন্তু শুধুমাত্র দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর গঠন ছাড়া আইনটি দীর্ঘ ৪ বছরেও কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। তিনি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দুর্যোগে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা ও সম্পদ রক্ষার জন্য অবিলম্বে প্রয়োজনীয় বিধিমালা ও দাপ্তরিক আদেশ জারি করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনটি কার্যকর করার দাবি জানান হাসান মেহেদী ।

এ ছাড়া আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি হারানো পরিবারগুলোকে খাসজমি বিতরণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে পুনর্বাসন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন কার্যকর করার পূর্ব পর্যন্ত বেড়িবাঁধ কাটা ও ছিদ্র করার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি থেকে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে রক্ষায় বেড়িবাঁধগুলো শক্তিশালী করণ এবং উপকূলীয় অঞ্চলে যে কোনো কর্মসূচি গ্রহণের ক্ষেত্রে ‘সমন্বিত উপকূলীয় ব্যবস্থাপনা নীতি অনুসরণ বাধ্যতামূলক করারও দাবি জানান তিনি।

কয়রা ও দাকোপের বেড়িবাঁধে সাড়ে ৩ হাজার মানুষের বসবাস!

Daily Probaho, Khulna
 মুহাম্মদ নূরুজ্জামান, 26 May 2016
———————————–
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলবাসীর কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে ভয়াল সাইক্লোন আইলা। ২০০৯ সালের ২৫ মে এ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে। এতে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় সবকিছু। আজ আইলা’র সপ্তম বর্ষপূর্তি। কিন্তু এখন পর্যন্ত আইলা বিধ্বস্ত উপকূলবাসীর দিন-রাত কাটছে সেই বেড়িবাঁধের ওপর। এখনও নিশ্চিত করা যায়নি তাদের মাথা গোঁজার সামান্য ঠাঁইটুকুও। কয়রার উত্তর বেদকাশী, মহারাজপুর এবং দাকোপের কামারখোলা ও সূতারখালী ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষ এখনও বেড়িবাঁধের ওপরে বাস করছেন। কারণ আইলার সময় তাদের ঘরবাড়ি-জমিজমা সব বিলীন হয়। নিজস্ব কোনো জমি না থাকায় তারা সরকারের গৃহনির্মাণ তহবিলের সহায়তাও পাননি। এমনকি তাদেরকে কোনো খাস জমিও বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। আইলার পরে জরুরি ভিত্তিতে যে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিলো সেগুলোও মানসম্মত উপায়ে তৈরি করা হয়নি। ইতোমধ্যে বর্ষা মৌসুম শুরু হয়ে গেছে। ফলে উপকূলবাসী নতুন আতংকে রয়েছেন।

২০০৯ সালের ২৫ মে ঘূর্ণিঝড় আইলা আঘাত হানে। উপকূলের ১১টি জেলায় প্রায় ৬ লাখ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়, ৮ হাজার ৮শ কিলোমিটার রাস্তাঘাট ভেঙে যায়। খুলনা ও সাতক্ষীরার ৭১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে প্রায় দেড় লাখ একর জমি নোনা পানিতে তলিয়ে যায়। ঘূর্ণিঝড় আইলা আঘাত হানার পর ইতোমধ্যেই বঙ্গোপসাগরে লায়লা, গিরি, হুদহুদ, নিলোফার, নার্গিস ইত্যাদি নামের ১৭টি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়। মহাসেন ও কোমেন ছাড়া এ অঞ্চলে কোন ঝড় আঘাত হানেনি। ২০১৩ সালে ঘূর্ণিঝড় মহাসেন মধ্য উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানলে ১২ জন এবং ২০১৫ সালে ঘূর্ণিঝড় কোমেন-এর আঘাতে ৪ জনের মৃত্যু হয়। সর্বশেষ আইলার ৭ বছর পর গত ২১ মে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু দুর্বল হয়ে মধ্য ও পূর্ব উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানে। এতে ঝরে যায় ২৪টি প্রাণ। ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রায় ২ লাখ মানুষ। এবারও অন্তত ৮শ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে, লোনা পানিতে প্লাবিত হয়েছে ১ লাখ একর ফসলি জমি। এ ঘূর্ণিঝড় খুলনা-সাতক্ষীরা-বাগেরহাটে আঘাত না হানলেও কমপক্ষে ৬টি স্থানে বেড়িবাঁধে ফাঁটল ধরেছে। এছাড়া খুলনার ৪ নম্বর কয়রা, মহারাজপুর ও কালাবগীতে জলোচ্ছ্বাসের পানি বেড়িবাঁধ উপচে পড়ার উপক্রম হয়।

এদিকে, আইলা’র সপ্তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় খুলনা প্রেস ক্লাবের সাংবাদিক মানিক সাহা অভ্যর্থনা কক্ষে বেসরকারি সংগঠন গ্রামীণ জীবনযাত্রার স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের জন্য প্রচারাভিযান (সিএসআরএল) ও এর সদস্য সংগঠনের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলন থেকে আইলা বিধ্বস্ত অধিবাসী এবং তাদের এলাকার উন্নয়নের লক্ষ্যে ৬ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন)’র প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দুর্গত জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করার জন্য একটি আইন হয়েছে। কিন্তু আইনটি দীর্ঘ ৪ বছরেও কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দুর্যোগে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবন, জীবিকা ও সম্পদ রক্ষার জন্য সরকারের কাছে ৬টি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবির মধ্যে রয়েছে- অবিলম্বে প্রয়োজনীয় বিধিমালা ও দাপ্তরিক আদেশ জারি করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনটি কার্যকরকরণ, আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত ও ভূমি হারানো পরিবারগুলোকে খাসজমি বিতরণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে পুনর্বাসন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন কার্যকর করার পূর্ব পর্যন্ত বেড়িবাঁধ কাটা ও ছিদ্র করার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি থেকে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা রক্ষায় বেড়িবাঁধগুলো পরিবেশসম্মত ও শক্তিশালীকরণ, উপকূলীয় কৃষি ও জীবনযাত্রা রক্ষায় অপরিকল্পিত নোনাপানির চিংড়ি ঘের বন্ধকরণ এবং উপকূলীয় অঞ্চলে যে কোনো কর্মসূচি গ্রহণের ক্ষেত্রে ‘সমন্বিত উপকূলীয় ব্যবস্থাপনা নীতি অনুসরণ বাধ্যতামূলক করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বেলার মাহফুজুর রহমান মুকুল, ক্লিন এর সভাপতি সাজ্জাদুর রহিম পান্থ, এওসেড এর শামীম আরেফিন, পরিবর্তনের প্রধান নাজমুল আজম ডেভিড, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জিল্লুর রহমান ও মনিরুল হক বাচ্চু উপস্থিত ছিলেন।

আইলার সাত বছর পরও নির্মাণ হয়নি টেকসই বেড়িবাঁধ

Daily Inqilab, Dhaka
26 May 2016
—————-
এ.টি.এম. রফিক, খুলনা থেকে : সর্বনাশা আইলা’র ৭ বছর পূর্তি আজ ২৫ মে। ২০০৯ সালের এই দিনে ঘূর্ণিঝড় আইলা আঘাত হানে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে। ওই মহা দুর্যোগের দীর্ঘ সাত বছর পার হয়ে গেলেও খুলনার দাকোপ ও কয়রার সাড়ে ৩ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ আজও কাটে নি। বেড়িবাঁধ ভেঙে পানির তোড়ে ঘর-বাড়ি-জমিজমা বিলীন হয়ে যাবার পর বাধ্য হয়ে এসব পরিবার বাস করছে বেড়িবাঁধের উপর। আবার সেই বেড়িবাঁধ কেটে ও ফুটো করে আবারও নোনাপানি ঢোকানো হচ্ছে চিংড়ি চাষের জন্য। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ থাকলেও আইনটি কার্যকর না হওয়ায় কিছুই করা যাচ্ছে না। আটকে আছে কয়েকটি বিধিমালা তৈরিতে। তাই এ আইনটি কার্যকর করার জন্য বিধিমালা তৈরির দাবি উঠলো গ্রামীণ জীবনযাত্রার স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের জন্য প্রচারাভিযান (সিএসআরএল) ও সহযোগী পাঁচটিসংগঠন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে।

গতকাল মঙ্গলবার উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন), অ্যাওসেড, জেজেএস, রূপায়ন ও এসপিএস আইলার সাত বছর পূর্তি উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ক্লিন’র প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ২০০৯ সালের ২৫ মে আইলা নামক ঘূর্ণিঝড়ে খুলনার অন্তত ৪৫টি ইউনিয়ন এবং চালনা ও পাইকগাছা পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আইলায় ৫৭জনের প্রাণহানী, আর ৫ লাখ ৪৬ হাজার মানুষ সম্পদ হারায়, ৬৮ হাজার ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ এবং ৪৪ হাজার আংশিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ৫৯৭ কিলোমিটার পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সিডরে ৫ লাখ ২৫ হাজার মানুষের সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয় আর নিহত হন ১৮জন। সিডরের আঘাতে ৪৩ দশমিক ৩০ কিলোমিটার পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সর্বশেষ গত ২১ মে রোয়ানু’র বৃষ্টির সাথে ঝড়ো হাওয়ায় ১২০টি বাড়ি আংশিক এবং ৪০টি বাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চারটি উপজেলার এক হাজার একশ’ পরিবারের ৪ হাজার ৫৫৫ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো হচ্ছে কয়রার দক্ষিণ বেদকাশি, দাকোপ উপজেলার সুতারখালী ও তিলডাঙ্গা।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও উপকূলবাসীদের নিয়ে কাজ করা ক্লিন’র প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী বলেন, আইলার পর সাত বছর পার হয়ে গেলেও বেড়ি বাঁধ সংস্কার না করায় ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানলে কোনো ভাবেই উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা রক্ষা করা যাবে না। ২০১২ সালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনে বেড়িবাঁধের ক্ষতি করার জন্য দায়ীদের কঠোর শাস্তির বিধান থাকলেও আইনটি কার্যকর না হওয়ায় যত্রতত্র বেড়িবাঁধ কেটে বা ফুটো করে নোনাপানি ঢোকানো হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অবিলম্বে প্রয়োজনীয় বিধিমালাও দাপ্তরিক আদেশজারি করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন কার্যকর করা, আইলায় ক্ষতিগ্রস্থ ও ভূমিহীন পরিবারগুলোকে খাসজমি বিতরণ ও অন্যান্য সহায়তা দিয়ে পুনর্বাসন করা, উপকূলীয় বেড়িবাঁধগুলো পরিবেশসম্মত উপায়ে আরো শক্তিশালী করা, কৃষিজমিতে নোনাপানির চিংড়ি ঘের বন্ধ করা ও সমন্বিত উপকূলীয় ব্যবস্থাপনা নীতি (আইসিজেডএমপি) অনুসরণ বাধ্যতামলূক করাসহ ছয় দফা দাবিনামা উপস্থাপন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সংগঠক মনিরুলহক বাচ্চু, জিল্লুর রহমান, ক্লিন’র চেয়ারপারসন সাজ্জাদুর রহিম পান্থ, অ্যাওসেড-এর নির্বাহী পরিচালক শামীম আরফিন, বেলা’র বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল, পরিবর্তন খুলনা’র নির্বাহী পরিচালক নাজমুল আযম ডেভিড, ক্লিন’র সুবর্ণা ইসলাম দিশা ও নাসিম রহমান কিরণ প্রমুখ।

আইলার সাত বছর : দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন কার্যকরের দাবি

Daily Prothom Alo
০১:৪১, মে ২৫, ২০১৬
———————-
সাত বছর পেরিয়ে গেলেও খুলনার দাকোপ ও কয়রা উপজেলার দুর্গত সাড়ে তিন হাজার মানুষের দুর্ভোগ আজও কাটেনি। তারা এখনো বেড়িবাঁধের ওপর বসবাস করছে। ঘূর্ণিঝড় আইলার আঘাতে বেড়িবাঁধ ভেঙে তাদের বসতঘর ও জমি বিলীন হয়ে যায়। এত দিনেও সেই বাঁধ সংস্কার করা হয়নি।
গতকাল মঙ্গলবার খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশ নিয়ে কাজ করা পাঁচটি উন্নয়ন সংস্থা এই তথ্য জানায়। তারা বলেছে, এ অবস্থায় নতুন কোনো ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানলে কোনোভাবেই উপকূলের মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষা করা যাবে না। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবন ও সম্পদ রক্ষায় ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা’ আইনটি কার্যকর করা দরকার বলে তারা মত দিয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় আইলার ৭ বছর উপলক্ষে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পড়ে শোনান ‘উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্ম জোট (ক্লিন)’-এর প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী।
২০০৯ সালের ২৫ মে খুলনা উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় আইলা। এতে ১৯৭ জন নিহত হয়, আহত হয় ৭ হাজার মানুষ। ঘূর্ণিঝড়ে খুলনা ও সাতক্ষীরার ৭১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে দেড় লাখ একর জমি প্লাবিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০১২ সালের ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা’ আইনে বেড়িবাঁধের ক্ষতি করার জন্য দায়ীদের কঠোর শাস্তির বিধান থাকলেও আইনটি কার্যকর হয়নি। এ কারণে এখনো বেড়িবাঁধ কেটে বা ছিদ্র করে নোনাপানি ঢোকানো হচ্ছে। দুর্বল হয়ে পড়ছে বাঁধ।
অবিলম্বে প্রয়োজনীয় বিধিমালা ও দাপ্তরিক আদেশ জারি করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন কার্যকর করা, আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত ও ভূমিহীন পরিবারগুলোকে খাস জমি বিতরণ ও পুনর্বাসন করা, বেড়িবাঁধগুলো পরিবেশসম্মত উপায়ে আরও শক্তিশালী করা এবং কৃষিজমিতে নোনা পানির চিংড়ি ঘের বন্ধ করা ও সমন্বিত উপকূলীয় ব্যবস্থাপনা নীতি (আইসিজেডএমপি) অনুসরণ বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয় এ সংবাদ সম্মেলনে।

আইলা দুর্গতদের বাঁচাতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন কার্যকরের দাবি

www.bahumatrik.com
২৪ মে ২০১৬ মঙ্গলবার, ১১:০৯  পিএম
————————————
Hasan Mehedi read out the written speech in the press conference
 খুলনা : প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় আইলা’র ৭ বছরপূর্তিতে উপকূলের দূর্গতদের রক্ষায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন কার্যকরের দাবি জানিয়েছে গ্রামীণ জীবনযাত্রার স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের জন্য প্রচারাভিযান (সিএসআরএল) ও সহযোগী পাঁচটি সংগঠন।

মঙ্গলবার খুলনায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান সংগঠনগুলোর নেতারা। উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন), এ্যাওসেড, জেজেএস, রূপায়ন ও এসপিএস এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘ সাত বছর পার হয়ে গেলেও দাকোপ ও কয়রার সাড়ে ৩ হাজার দুর্গত জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ আজও কাটেনি। বেড়িবাঁধ ভেঙে পানির তোড়ে ঘরবাড়ি-জমিজমা বিলীন হয়ে যাবার পর বাধ্য হয়ে এসব পরিবার বাস করছে বেড়িবাঁধের উপর। আবার সেই বেড়িবাঁধ কেটে ও ফুটো করে আবারও নোনাপানি ঢোকানো হচ্ছে নোনাপানির চিংড়ি চাষের জন্য। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ থাকলেও আইনটি কার্যকর না হওয়ায় কিছুই করা যাচ্ছে না। আটকে আছে কয়েকটি বিধিমালা তৈরিতে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ক্লিন-এর প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী।

লিখিত বক্তব্যে হাসান মেহেদী বলেন, আইলার পর সাত বছর পার হয়ে গেলেও উপকূলীয় বেড়িবাঁধ সংস্কার না করায় ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানলে কোনোভাবেই উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা রক্ষা করা যাবে না। ২০১২ সালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনে বেড়িবাঁধের ক্ষতি করার জন্য দায়ীদের কঠোর শাস্তির বিধান থাকলেও আইনটি কার্যকর না হওয়ায় যত্রতত্র বেড়িবাঁধ কেটে বা ফুটো করে নোনাপানি ঢোকানো হচ্ছে।

বক্তারা অবিলম্বে প্রয়োজনীয় বিধিমালা ও দাপ্তরিক আদেশ জারি করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন কার্যকর করা, আইলায় ক্ষতিগ্রস্থ ও ভূমিহীন পরিবারগুলোকে খাসজমি বিতরণ ও অন্যান্য সহায়তা দিয়ে পুনর্বাসন করা, উপকূলীয় বেড়িবাঁধগুলো পরিবেশসম্মত উপায়ে আরো শক্তিশালী করা, কৃষিজমিতে নোনাপানির চিংড়িঘের বন্ধ করা ও সমন্বিত উপকূলীয় ব্যবস্থাপনা নীতি (আইসিজেডএমপি) অনুসরণ বাধ্যতামলূক করাসহ ছয় দফা দাবি অবিলম্বে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সংগঠক মনিরুল হক বাচ্চু, জিল্লুর রহমান, ক্লিন-এর চেয়ারপারসন সাজ্জাদুর রহিম পান্থ, এ্যাওসেড-এর নির্বাহী পরিচালক শামীম আরফিন, বেলা’র বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল, পরিবর্তন-খুলনা’র নির্বাহী পরিচালক নাজমুল আযম ডেভিড, ক্লিন-এর সুবর্ণা ইসলাম দিশা, নাসিম রহমান কিরণ প্রমূখ।

Link: আইলা দুর্গতদের বাঁচাতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন কার্যকরের দাবি

ভেড়ীবাঁধের ওপর সাড়ে ৩ হাজার মানুষের মানবেতর জীবনযাপন : খুলনায় আইলা’র সাত বছর পরের হালচিত্র

Daily Somoyer Khobor, Khulna
বুধবার, ২৫ মে ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দ
————————————–
নিজস্ব প্রতিবেদক : উপকূলবর্তী জেলা খুলনায় আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে তিন হাজার মানুষ শিবসা, পশুর ও শাকবাড়িয়া নদীর তীরে ভেড়ীবাঁধের ওপর বসবাস করছে। তাদের এখনও মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়নি। নিজস্ব জমি না থাকায় গৃহ নির্মাণের তহবিলের সহায়তাও পায়নি। এমনকি তাদের জন্য খাস জমিরও ব্যবস্থা করা হয়নি। ভেড়ীবাঁধের ওপর বসবাসকারী এলাকাগুলো হচ্ছে কয়রার উত্তর বেদকাশি, মহারাজপুর ইউনিয়ন, দাকোপ উপজেলার কামারখোলা ও সুতারখালী ইউনিয়ন। আইলায় জেলায় ৫৭ জনের প্রাণহানী হয়। ২০০৯ সালের ২৫ মে আইলা নামক ঘূর্ণিঝড় এ অঞ্চলে আঘাত হানে।
গতকাল উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন), এ্যাওসেড, জেজেএস, রূপায়ন ও এসপিএস ‘আইলা’র সাত বছর পূর্তি উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আইলার পর জরুরী ভিত্তিতে নির্মিত ভেড়ীবাঁধগুলো মানসম্মত উপায়ে তৈরি করা হয়নি। ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু আঘাত না হানলেও খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার ৬টি স্থানে ভেড়ীবাঁধে ফাটল ধরেছে। খুলনার দক্ষিণ প্রান্তের উপজেলা কয়রার মহারাজপুর ও দাকোপের কালাবগিতে জলোচ্ছ্বাসে পানি ভেড়ীবাঁধ উপচে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে মেরামতের উদ্যোগ নেয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপকূলের ৫৭ লাখ জনগোষ্ঠীর ঝুঁকিপূর্ণ জীবন-যাপন ও সম্পদ রক্ষার্থে এ সংগঠনের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি তোলা হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, প্রয়োজনীয় বিধিমালা, দাপ্তরিক আদেশ কার্যকর, ভেড়ীবাঁধ কাটার সাথে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে খাস জমি বিতরণ, পুনর্বাসনের পদক্ষেপ এবং নোনা পানির চিংড়ি ঘের বন্ধ করা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ক্লিন-এর প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সংগঠক মনিরুল হক বাচ্চু, জিল্লুর রহমান, ক্লিন-এর চেয়ারপারসন সাজ্জাদুর রহিম পান্থ, এ্যাওসেড-এর নির্বাহী পরিচালক শামীম আরফিন, বেলা’র বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল, পরিবর্তন-খুলনা’র নির্বাহী পরিচালক নাজমুল আযম ডেভিড, ক্লিন-এর সুবর্ণা ইসলাম দিশা ও নাসিম রহমান কিরণ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, আইলায় জেলার কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ, বটিয়াঘাটা, ডুমুরিয়া উপজেলার ৪৫ টি ইউনিয়ন, চালনা ও পাইকগাছা পৌরসভা এলাকার ৫ লাখ ৪৬ হাজার মানুষ সম্পদ হারায়। এছাড়া ৬৮ হাজার ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ এবং ৪৪ হাজার আংশিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ৫৯৭ কিলোমিটার পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভেড়ীবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সিডরে ৫ লাখ ২৫ হাজার মানুষের সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসময় ১৮ জনের প্রাণহানী হয় এবং ৪৩. ৩০ কিলোমিটার ভেড়ীবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গেল শনিবার রোয়ানু নামক ঘূর্ণিঝড় আঘাত না হানলেও জেলার ৩২ কিলোমিটার ভেড়ীবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অবিলম্বে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন সক্রিয় করার দাবি

http://ekusheralo24.com | November 15, 2014
Mehnaz Kabir Lipu
——————————————————
Professor Dilip Kumar Datta, Environmental Science discipline, Khulna University is addressing the participants of CLEAN’s program on Sidr Day 2014
দ্রুত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন সক্রিয় করা না হলে দুর্যোগের সময় দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ বহুগুণে বেড়ে যাবে। আজ সিএসএস আভা সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন। ২৫০টিরও বেশি সংগঠনের জোট গ্রামীণ জীবনযাত্রার স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের জন্য প্রচারাভিযান (সিএসআরএল) এবং উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন)-এর যৌথ উদ্যোগে সুপার সাইক্লোন সিডরের ৭ম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। দৈনিক কালের কণ্ঠের খুলনা ব্যুরো প্রধান ও পরিবেশ-কথক গৌরাঙ্গ নন্দীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট জলবায়ু বিজ্ঞানী ও সিএসআরএল-এর সাবেক সমন্বয়কারী ড. আহসান উদ্দীন আহমেদ এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. দিলীপ কুমার দত্ত। সভায় ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন ক্লিন-এর প্রধান সঞ্চালক হাসান মেহেদী।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ২০০৭ সালে সিডরের আঘাতে ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু, ৩৫ লাখ মানুষের বাস্তুচ্যূতি এবং ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতি হবার পর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন প্রণয়ন করার জন্য কয়েক বছর ধরে সিএসআরএল আন্দোলন করে। অবশেষে ২০১২ সালে আইনটি প্রণীত হলেও দু’ বছরেও প্রয়োজনীয় বিধিমালা ও প্রশাসনিক আদেশ জারি করা হয় নি। ফলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ আইনটি যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে না। ইতোমধ্যে অনেকগুলো বেড়িবাঁধ কেটে নোনাপানি ঢোকানোর ঘটনা ঘটলেও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনের আওতায় একটি মামলাও করা হয়নি। কারণ, দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা করার অধিকার শুধুমাত্র জেলা প্রশাসকের। প্রশাসনিক আদেশ জারি করা ছাড়া জেলা প্রশাসক এ ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন না।
বক্তারা অবিলম্বে প্রয়োজনীয় বিধিমালা ও প্রশাসনিক আদেশ জারি করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন সক্রিয় করা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট স্থানীয় ও জাতীয় কমিটিসমূহ কার্যকর করা, জাতীয় ও জেলা পর্যায়ে জরুরি দুর্যোগ মোকাবেলা তহবিল প্রদান করা, জলবায়ু অভিযোজন ও দুর্যোগ প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমকে সমন্বিত করা ও কেন্দ্রীভূত প্রশাসনিক জটিলতা দূর করাসহ ৬ দফা দাবি জানান।
আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাসাস-এর শামীমা সুলতানা শিলু, রূপায়নের খালিদ হোসেন, ছায়াবৃক্ষের মাহবুব আলম বাদশা, আইআরভি’র আজিজুর রহমান ছবি, এ্যাওসেড-এর পলাশ দাশ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারজানা খাতুন, ক্লিন-এর আকবর হোসেন, রেজাউল করিম জিতু প্রমূখ।