৭ বছরেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি উপকূলের মানুষ

Banglapress.com.bd
বুধবার, ২৫ মে ২০১৬, ০৮:২৯ পূর্বাহ্ণ
———————————-

A village in Dacope after cyclone Aila
সৈয়দা লায়লা আক্তার, খুলনা: আজ সেই ২৫ মে। উপকূলে আইলার আঘাতের ৭ বছর পূর্তি। ভয়ংকর আইলার দানবীয় আঘাতের ক্ষত চিহ্ন এখনও মুছেনি। এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি উপকূলের ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ।
২০০৯ সালের ২৫ মে এ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে উপকূলে। এতে লন্ডভন্ড হয়ে যায় সবকিছু। আজ আইলা’র সপ্তম বর্ষপূর্তি। কিন্তুএখন পর্যন্ত আইলাবিদ্ধস্ত উপকূলবাসীর দিন-রাত কাটছে সেই বেড়িবাঁধের ওপর। এখনও নিশ্চিত করা যায়নি তাদের মাথাগোজার সামান্য ঠাঁই টুকুও।
কয়রার উত্তর বেদকাশী, মহারাজপুর এবং দাকোপের কামারখোলা ও সুতারখালী ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষ এখনও বেড়িবাঁধের উপরে বাস করছেন। কারণ আইলার সময় তাদের ঘরবাড়ি-জমিজমা সব বিলীন হয়। নিজস্ব কোনো জমি না থাকায় তারা সরকারের গৃহনির্মাণ তহবিলের সহায়তাও পাননি। এমনকি তাদেরকে কোনো খাস জমিও বরাদ্দ দেয়া হয়নি। আইলার পরে জরুরীভিত্তিতে যে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিলো সেগুলোও মানসম্মত উপায়ে তৈরি করা হয়নি। ইতোমধ্যে বর্ষা মৌসুম শুরু হয়ে গেছে। ফলে উপকূলবাসী নতুন আতংকে রয়েছেন।

২০০৯ সালের ২৫ মে ঘূর্ণিঝড় আইলা আঘাত হানে। উপকূলের ১১টি জেলায় প্রায় ৬ লাখ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়, ৮ হাজার ৮শ’ কিলোমিটার রাস্তাঘাট ভেঙে যায়। খুলনা ও সাতক্ষীরার ৭১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে প্রায় দেড় লাখ একর জমি নোনা পানিতে তলিয়ে যায়। ঘূর্ণিঝড় আইলা আঘাত হানার পর ইতোমধ্যেই বঙ্গোপসাগরে লায়লা, গিরি, হুদহুদ, নিলোফার, নার্গিস ইত্যাদি নামের ১৭টি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়। মহাসেন ও কোমেন ছাড়া এ অঞ্চলে কোন ঝড় আঘাত হানেনি। ২০১৩ সালে ঘূর্ণিঝড় মহাসেন মধ্য উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানলে ১২ জন, এবং ২০১৫ সালে ঘূর্ণিঝড় কোমেন-এর আঘাতে ৪ জনের মৃত্যু হয়।

Pratapsarani Primary School, High School and Community Clinic was grabbed by the new current made by cyclone Aila
সর্বশেষ আইলার ৭ বছর পর গত ২১ মে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু দুর্বল হয়ে মধ্য ও পূর্ব উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানে। এতে ঝরে যায় ২৪টি প্রাণ। ক্ষতিগ্রস্থ হয় প্রায় ২ লাখ মানুষ। এবারও অন্তত ৮শ’ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে, লোনা পানিতে প্লাবিত হয়েছে ১ লাখ একর ফসলি জমি। এ ঘূর্ণিঝড় খুলনা-সাতক্ষীরা-বাগেরহাটে আঘাত না হানলেও কমপক্ষে ৬টি স্থানে বেড়িবাঁধে ফাঁটল ধরেছে। এছাড়া খুলনার ৪ নম্বর কয়রা, মহারাজপুর ও কালাবগীতে জলোচ্ছ্বাসের পানি বেড়িবাঁধ উপচে পড়ার উপক্রম হয়।
শ্যামনগরের গাবুরা ও পদ্মপুকুর, আশাশুনির প্রতাপনগরের মানুষ। তাদের রাস্তা ও বাঁধ নির্মাণ হয়েছে। নতুন ঘর তৈরি হয়েছে। কিন্তু এলাকায় কৃষি নেই, চিংড়ি চাষেও মন্দা। কর্মসংস্থান না থাকায় দক্ষিণের এই মানুষ কাজের সন্ধানে এখন ভিটেমাটি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন ভিন্ন জেলায়।
গাবুরা ইউনিয়নে গেলে ৯নং সোরা গ্রামের কৃষিজীবী হাসান মোল্লা, ডুুমুরিয়া গ্রামের রেজাউল করিম ও নেবুবুনিয়া গ্রামের রাবেয়া খাতুন জানান, টানা দুই বছর পর তারা সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে ঘর বাড়ি পেয়েছেন। কিন্তু এলাকায় কাজ না থাকা আর বারবার দুর্যোগের মুখে বসতি টিকছে না তাদের। কাজের খোঁজে বেরিয়ে যাচ্ছেন দুর্গত মানুষ। তারা জানান, গাবুরা ইউনিয়নের ১৮টি গ্রামে কোনো কৃষি জমি নেই বললেই চলে। আছে শুধু নোনা পাানির চিংড়ি ঘের। এ সব ঘেরে কাজ হয় বছরে পাঁচ মাস। বাকি সময় তাদের থাকতে হয় বেকার। কাজের অভাবে তারা নদীতে পোনা ধরতেন। তাও বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। আর জলদস্যু ও বাঘের ভয়ে সুন্দরবনে যেতে পারছেন না তারা। তারা আরো জানান, ক্ষতিগ্রস্ত অনেকেই এখনো বাড়ি বানাতে পারেনি।
জোয়ারের তাণ্ডবে প্রতি বছর নতুন নতুন জায়গায় নদীর বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। আইলায় ভেঙ্গে জমিতে বালি ভরাট হয়ে গেছে। মাছও হয় না। খাবার পানি , চিকিৎসার সুযোগও নেই। সাইক্লোন সেন্টার ও কমিউনিটি ক্লিনিকের সংখ্যা যথেষ্ট কম। চার কিলোমিটার দূর থেকে পানি আনতে হয়। এছাড়া বৃষ্টির পানি ধরে রেখে সারা বছর পান করতে হয়। পাত্রের অভাবে বৃষ্টির পানি সঞ্চয় করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। পুকুরের মিষ্টি পানিই দু’টি ইউনিয়নের ৭৬ হাজার মানুষের খাওয়ার পানির প্রধান উৎস। অসুস্থ্য হলে এক কিলোমিটার নদীর খেয়াঘাট পার করে ৩০ কিলোমিটার দুরে শ্যামনগরে বা ৮০ কিলোমিটার দূরে সাতক্ষীরা শহরে নিয়ে যেতে হয়। কিন্তু নদী খাল এলাকা হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই খারাপ।

পাউবোর আমাদীর উপ-বিভাগীয় শাখার সা্েবক কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মতিন বাংলাপ্রেস.কম.বিডিকে বলেন, ঝুকিপূর্ণ কিছু বাঁধে মাটি দেয়ার কাজ চলছে। তাছাড়া ভাঙন কবলিত বাঁধে ডাম্পিং ব্লক ফেলা হয়েছে। এছাড়া ভয়াবহ ভাঙনের কবলে থাকা বাঁধগুলো মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ বদিউজ্জামান বাংলাপ্রেস.কম.বিডিকে জানান, প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময় উপকূলবাসীদের আশ্রয়ের জন্য সরকারের তত্ত্বাবধায়নে ঘুর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, উপকূলবর্তী কয়রা উপজেলাবাসীর জন্য ২ শতাধিক আশ্রয় কেন্দ্র জরুরী প্রয়োজন। তিনি বলেন, আইলা বিধ্বস্ত কয়রা এলাকার মানুষের পুর্নবাসনে সরকারিভাবে সহায়তা করা হচ্ছে। কয়রাকে আইলার পূর্ব অবস্থায় ফিরে যেতে সব রকমের সাহায্য সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি জানান।
কয়রা উপজেলা চেয়ারম্যান আ খ ম তমিজ উদ্দীন বাংলাপ্রেস.কম.বিডিকে বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ কয়রাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যহত রাখা হয়েছে।
উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন) এর প্রধান সির্বাহী হাসান মেহেদী বাংলাপ্রেস.কম.বিডিকে বলেন, ৭ বছর কেটে গেলেও এখনও কয়রার উল্টর কেবদকাশি ও মহারাজপুর এবং দাকোপের কামারখোলা ও সুতারখালী ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষ বেড়িবাঁধের ওপর বসবাস করছেন। কেননা আইলার সময় তাদের ঘর-বাড়ি, জমি-জমা সব বিলীন হয়ে গেছে। নিজস্ব কোন জমি না থাকার কারণে তারা সরকারের গৃহনির্মাণ তহবিলের সহায়তা পাননি। এমনকি আজ পর্যন্ত তাদের কোন খাস জমিসতেও বরাদ্দ দেয়া হয়নি। আইলার পর জরুরীভিত্তিতে যে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল, সেগুলোও মানসম্মত উপায়ে তৈরী করা হয়নি। ফলে জোয়ারের চাপ বা ভারী বর্ষণে বাঁধগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২১ মে খুলনায় ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাত না পড়লেও সামান্য চাপেই ৬টি স্থানে বাধে ফাটল দেখা দেয়। তাই পরিবেশ সম্মত উপায়ে প্রতিরোধক্ষম বেড়িবাধ নির্মাণ ছাড়া সামনে আর কোন বিকল্প নেই।
কয়রার পরিবেশবিদ আঃ আজিজ বাংলাপ্রেস.কম.বিডিকে বলেন, পৃথিবীর বৈশ্বায়িক উষ্ণায়নের ফলে ঘটছে জলবায়ুর পরিবর্তন। পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম দূর্যোগ ঝুকিপূর্ণ দেশ। আর দেশের মধ্যে সবচেয়ে ঝুকিপূর্ণ রয়েছে দক্ষিণ উপকূলীয় বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী সুন্দরবন কোলঘেষা খুলনার কয়রা।
Nalian Ferry Ghat had been vanished several times after cyclone Aila
উপেজলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার রায় বাংলাপ্রেস.কম.বিডিকে বলেন, দূর্যোগ মোকাবেলায় সার্বিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার অভাবে ঘুর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাসে প্লাবিত হওয়ার আতংক রয়েছে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ৩ লাখ মানুষ। যে জন্য দূর্যোগে হাইরেক্স জোন হিসেবে কয়রা এলাকায় পর্যাপ্ত সাইক্লোন সেন্টারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
কয়রা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডঃ শেখ আব্দুর রশিদ বাংলাপ্রেস.কম.বিডিকে জানান, কয়রাবাসী প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময় অসহায় হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা গোলখালী, জোড়শিং, আংটিহারা, ৪নং কয়রা, গোবরা, গাটাখালী, হরিণখোলা, কাটকাটা, নয়ানী, তেতুলতলার চর, পাথরখালী, হরিহরপুর, ঘড়িলাল ও হড্ডা এলাকার মানুষ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঘুর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মানুষ দূর্যোগকালীন সময়ে আশ্রয় গ্রহণ করে থাকেন। ঘুর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রগুলোর ধারণ ক্ষমতা অত্যান্ত কম। তিনি সরকারি প্রাথমিক ও মাদরাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে একটি করে আশ্রয় কেন্দ্র স্থাপনের দাবী জানিয়েছেন।
কয়রা উপজেলা প্রকৌশলী অধিদপ্তরের প্রকৌশলী নিরাপদ পাল বাংলাপ্রেস.কম.বিডিকে জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আমাদী ইউনিয়ন ছাড়া বাকী ৬টি ইউনিয়নের কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদীরতীরবর্তী গ্রামগুলো ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, কয়রা, মহারাজপুর, মহেশ্বরীপুর, বাগালী ইউনিয়নে যে সাইক্লোন সেন্টার রয়েছে তা যথেষ্ট। কিন্তু দক্ষিণ ও উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নে আরো সাইক্লোন সেন্টারের প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

দাকোপের গুনারী গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ মীর বাংলাপ্রেস.কম.বিডিকে জানান, আইলায় তার ঘর-বাড়ি ফসলি জমি সবকিছুই শিবসা নদীতে বিলিন হয়েছে। এখন পাশ্ববর্তী বাঁধের উপর পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। দীর্ঘ ৭ বছর ফসলি জমিতে আমন ধান উৎপাদন করতে পারছি না। ফলে সংসারে অভাব অনটন লেগেই আছে।

সুতারখালী ইফপির সাবেক চেয়ারম্যান গাজী আশরাফ হোসেন বলেন, আইলার জলোচ্ছাসে বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ৭ হাজার বিঘা জমি নলিয়ান নদীগর্ভে বিলিন হয়। আইলার ক্ষত কাটিয়ে উঠতে না পারা মানুষ নদী ভাঙ্গনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। জমিতে বালির চর পড়ে ভরাট হওয়ায় কৃষকরা জমিতে ফসল ফলাতে পারছে না।

সুতারখালী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মাসুম আলী ফকির বাংলাপ্রেস.কম.বিডিকে বলেন, ৭ বছরেও অনেক পরিবারকে পুনর্বাসনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। এলাকার অনেক পরিবার এখনো বেড়িবাঁধের উপর মানবেতর জীবনজাপন করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মোসাদ্দেক হোসেন বাংলাপ্রেস.কম.বিডিকে জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ও নদী ভাঙ্গনের কারণে জমির পরিমান কমতে থাকে। আইলার আগে ১৯ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে আমন চাষাবাদ হত। আইলায় প্রায় ২শ হেক্টর জমি নদী গর্ভে চলে যায়।
শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের পাখিমারা গ্রামের শওকত আলী ও গৃহবধু নূরজাহান বেগম জানান, বেশিরভাগ এলাকা লবণাক্ত। এ এলাকা এক ফসলী। ফলে বছর জুড়ে কৃষি কাজের সুযোগ না থাকায় তারা গ্রাম ছেড়ে কাজের সন্ধানে চলে যান বাইরে। আগে তারা বনে যেতেন। এখন ডাকাতদের উৎপাত আর বাঘের ভয়ে বনে যাওয়াও বন্ধ হয়ে গেছে। তাছাড়া আগে নদীতে বাগদার রেনু ধরে সংসার চালানো যেতো। এখন সরকারিভাবে নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও পেটের জ্বালায় কোষ্টগার্ড ও বনভিাগের চোখ এড়িয়ে নদীতে নামতে হয় বাগদার রেণু ধরতে। এছাড়া এলাকার অনেকই ঢাকা, আমিনবাজার, গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন ইটভাটায় ৬ মাস করে কাজ করে থাকেন। কেই কেই শহরে রিক্সা চালায়। বাকি সময়ে তারা এলাকায় ফিরে এসে দিন মজুর খেটে কোন প্রকারে সংসার চালায়।
প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাহনিয়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান জানান, সুভদ্রকাটি, রুইয়ার বিলসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ আইলার পর থেকে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি। তাছাড়া ২০১২ সালে জলবায়ু ট্রাষ্টের আওতায় প্রতিটি চার লাখ টাকা ব্যয়ে আইলা দুর্গত মানুষের জন্য ৪০০টি গৃহনির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হলেও জেলা পরিষদের অনিয়ম ও দূর্ণীতির ফলে উচ্চ আদালতে কয়েকটি রিট পিটিশন দাখিল হওয়ায় ওই কার্যক্রম এক পর্যায়ে বন্ধ হয়ে গেছে। তাছাড়া প্রতি বছর কয়েকবার নদীবাঁধ ভাঙনের ফলে নতুনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নিরুপায় হয়ে এলাকা ছাড়ছে মানুষ।
গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান আলি আযম টিটো জানান আইলা দুর্গত গাবুরা ও পদ্মপুকুরের মানুষের জীবনধারনের সব সুযোগ হারিয়ে গেছে। চিকিৎসা নেই। যথেষ্ট সংখ্যক সাইক্লোন শেল্টারও নেই। লেখাপড়ার সুযোগ কম। কর্মসংস্থানের সূযোগ নেই। শিশু চিকিৎসার সুবিধাও অনুপস্থিত। প্রতি বছর ভাঙছে নদীর বাঁধ। ফলে এলাকা ছাড়ছে সাধারণ মানুষ। এসব কারণে জনবসতি স্থায়ী হচ্ছে না গাবুরা ও পদ্মপুকুরে। গো-খাদ্যের অভাব এবং মাটি ও পানি লবণাক্ত হওয়ায় গবাদি পশু পালনও কঠিন এ এলাকায়। গাবুরা ইউনিয়নে বর্তমানে ৬ হাজার ৮০০ পরিবারে জনসংখ্যা ৪৩ হাজার। ২০০৯ সালে গাবুরায় যে জনসংখ্যা ছিল বর্তমানে তা অর্ধেকে এসে দাঁড়িয়েছে। এলাকাবাসীর আর্থ সামজিক উন্নয়নে সরকারকে বড় ধরণের প্রকল্প হাতে নেওয়ার আবেদন জানান তিনি।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সায়েদ মোঃ মঞ্জুর আলম বাংলাপ্রেস.কম.বিডিকে জানান, ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধ নির্মাণ করা হলেও তা যথেষ্ট মজবুত নয়। নতুন করে ভাঙন প্রতিরোধে চাই নতুনপ্রযুক্তি। অর্থনৈতিক দুর্বলতার কারণে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও জনগণকে বাঁধ সংস্কারে সম্পৃক্ত করতে হবে। সুপেয় পানি ও কর্মসংস্থানের কিছু ব্যবস্থা করা হয়েছে। জনবল সঙ্কটের কারণে স্বাস্থ্যসেবার জন্য বাইরে থেকে লোক এনে কাজ করাতে হয়। কর্মসংস্থানের জন্য কাঁকড়া মোটা তাজাকরণসহ কয়েকটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৯ এর এই দিনে মাত্র ৩০ মিনিটের তান্ডব নিশ্চিহ্ণ করে দিয়েছিল শ্যামনগরের দুটি ইউনিয়ন নদীবেষ্টিত গাবুরা ও পদ্মপুকুর। এছাড়াও বিধ্বস্ত হয় আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়ন। ৩৬টি গ্রামের ৭৩টি জীবন মুহুর্তেই কেড়ে নিয়েছিল আইলা। নদীবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হওয়ায় গৃহহীন মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল রাস্তার ধারে ও উঁচু স্থানে।

Link: http://banglapress.com.bd/news/khulna/23209

আইলা’র ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা যায়নি ৭ বছরেও

Daily Karotoa
২৫ মে, ২০১৬ ১১:৪৫:১৯
————————

আজ ২৫ মে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় আইলার ৭ বছর পূর্তি। ২০০৯ সালের এই দিনে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় দক্ষিণ জনপদের উপকূলীয় অঞ্চল। এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় খুলনার কয়রা ও দাকোপসহ সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকা।

দেখতে দেখতে আইলার ৭ বছর পার হচ্ছে। কিন্তু এখনও ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। কয়রা ও দাকোপের সাড়ে ৩ হাজার পরিবার এখনও সরকারি তহবিলের সহায়তা না পেয়ে বাঁধের ওপর বসবাস করছে। অভিশপ্ত এই দিনটির কথা মনে হলে আজও ভয়ে শিউরে ওঠেন উপকূলবাসী। কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে দুর্যোগের সঙ্গে যুদ্ধ করে আজও টিকে আছে এ অঞ্চলের অসহায় মানুষ। আইলার কারণে কয়রা ও দাকোপ উপজেলার অনেক এলাকা এখনও প্রায় ফসলশূন্য। বিকল্প কর্মসংস্থানের কোনও ব্যবস্থা না থাকায় মানুষের অভাব অনটন বেড়েই চলেছে।  শুধু ঘর-বাড়ি নয়, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষেরা খাদ্য, সুপেয় পানি আর চিকিৎসা সেবাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত।

পাউবোর আমাদীর উপ-বিভাগীয় শাখার  সাবেক কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কিছু বাঁধে মাটি দেওয়ার কাজ চলছে। তাছাড়া ভাঙন কবলিত বাঁধে ডাম্পিং ব্লক ফেলা হয়েছে। এছাড়া,ভাঙনের কবলে থাকা বাঁধগুলো মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বদিউজ্জামান জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় উপকূলবাসীর আশ্রয়ের জন্য সরকারের তত্ত্বাবধানে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি বলেন, উপকূলবর্তী কয়রা উপজেলাবাসীর জন্য  ২ শতাধিক আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ জরুরি। আইলা বিধ্বস্ত কয়রা এলাকার মানুষের পুনর্বাসনে সরকারিভাবে সহায়তা করা হচ্ছে। কয়রাকে আইলার পূর্ব অবস্থায় ফিরে যেতে সব ধরনের সাহায্য সহযোগিতা করা হবে বলে  জানান তিনি।

কয়রা উপজেলা চেয়ারম্যান আ খ ম তমিজ উদ্দীন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কয়রাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।

উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন) -এর প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী বলেন, ৭ বছর কেটে গেলেও এখনও কয়রার উত্তর বেদকাশি ও মহারাজপুর এবং দাকোপের কামারখোলা ও সুতারখালী ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষ বেড়িবাঁধের ওপর বসবাস করছেন। আইলায় তাদের ঘর-বাড়ি, জমি-জমা সব বিলীন হয়ে গেছে নদীতে। নিজস্ব কোনও জমি না থাকায় তারা সরকারের গৃহনির্মাণ তহবিলের সহায়তা পাননি। এমনকি আজ পর্যন্ত তাদের কোনও খাস জমিও বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। আইলার পর জরুরিভিত্তিতে যেসব বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল, সেগুলো মানসম্মত না হওয়ায় জোয়ারের চাপ বা ভারী বর্ষণে বাঁধগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গত ২১ মে খুলনায় ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু আঘাত না হানলেও সামান্য চাপেই ৬টি স্থানে বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে।

কয়রার পরিবেশবিদ আ. আজিজ বলেন, পৃথিবীর বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটছে। পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। আর দেশের মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে দক্ষিণ উপকূলীয় বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী সুন্দরবন কোলঘেষা কয়রা।

উপেজলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার রায় বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় সার্বিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার অভাবে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হওয়ার আতঙ্কে রয়েছেন উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ৩ লাখ মানুষ। যে জন্য দুর্যোগে হাইরিক্স জোন হিসেবে কয়রা এলাকায় পর্যাপ্ত সাইক্লোন সেন্টারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

কয়রা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুর রশিদ জানান, কয়রাবাসী প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় অসহায় হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হলো গোলখালী, জোড়শিং, আংটিহারা, ৪নং কয়রা, গোবরা, গাটাখালী, হরিণখোলা, কাটকাটা, নয়ানী, তেতুলতলার চর, পাথরখালী, হরিহরপুর, ঘড়িলাল ও হড্ডা।এসব এলাকার মানুষ দুর্যোগকালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঘুর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় গ্রহণ করে থাকেন। ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রগুলোর ধারণ ক্ষমতা অত্যন্ত কম। তিনি সরকারি প্রাথমিক ও মাদরাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি করে আশ্রয় কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।

কয়রা উপজেলা প্রকৌশলী অধিদফতরের প্রকৌশলী নিরাপদ পাল জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আমাদী ইউনিয়ন ছাড়া বাকি ৬টি ইউনিয়নের কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদী তীরবর্তী গ্রামগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, কয়রা, মহারাজপুর, মহেশ্বরীপুর, বাগালী ইউনিয়নে যে সাইক্লোন সেন্টার রয়েছে তা যথেষ্ট। কিন্তু দক্ষিণ ও উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নে আরও সাইক্লোন সেন্টারের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

দাকোপের গুনারী গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ মীর জানান, আইলায় তার ঘর-বাড়ি ফসলি জমি সব কিছুই শিবসা নদীতে বিলিন হয়েছে। এখন পার্শ্ববর্তী বাঁধের ওপর পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। ৭ বছর ধরে ফসলি জমিতে আমন ধান উৎপাদন করতে পারছি না। ফলে সংসারে অভাব অনটন লেগেই আছে।

আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষেরা

সুতারখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গাজী আশরাফ হোসেন বলেন, আইলার জলোচ্ছ্বাসে বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ৭ হাজার বিঘা জমি নলিয়ান নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। আইলার ক্ষত কাটিয়ে উঠতে না পারা মানুষ নদী ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। জমিতে বালির চর পড়ে ভরাট হওয়ায় কৃষকরা ফসল ফলাতে পারছে না।

সুতারখালী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মাসুম আলী ফকির বলেন, ৭ বছরেও অনেক পরিবারকে পুনর্বাসনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। এলাকার অনেক পরিবার এখনও বেড়িবাঁধের ওপর মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.মোসাদ্দেক হোসেন জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ও নদী ভাঙনের কারণে জমির পরিমাণ কমছে। আইলার আগে ১৯ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে আমন চাষাবাদ হতো। আইলায় প্রায় ২শ’ হেক্টর জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় আইলার আঘাতে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার ৩৮টি পোল্ডারের সবই কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৬৫১ কিলোমিটার বেঁড়িবাধের মধ্যে ৬৮৪ কিলোমিটার বিধ্বস্ত হয়। ৬৩৯টি স্লুইস গেটের মধ্যে ১০৯টি অকেজ হয়ে যায়। তবে আইলার পর ৩৩টি পোল্ডারের ২৫০ কিলোমিটার এলাকা মেরামত করা হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশি, উত্তর বেদকাশি, কয়রা সদর ও মহারাজপুর ইউনিয়নের পাউবোর বেড়িবাঁধের ওপর মানুষ এখনও সেই ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছেন। মাথা গোজার ঠাঁই না পেয়ে কষ্টের মধ্যে বেড়িবাঁধ আকড়ে আছেন তারা। আইলার পর ভেঙে যাওয়া পবনা বাঁধ, হারেজখালি, পদ্মপুকুর, শিকারিবাড়ি, পাথরখালি মেরামত হয়েছে। কিন্তু কয়রার ক্ষতিগ্রস্ত ৬টি ইউনিয়নের কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদীর প্রায় ৬০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধে পর্যাপ্ত মাটি নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় মাটি দেওয়ার উদ্যোগ না নেওয়ায় বাঁধগুলো ঝুঁকির মুখে রয়েছে। দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের আংটিহারা, খাসিটানা, জোড়শিং, মাটিয়াভাঙ্গা, উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের গাতিরঘেরি, গাববুনিয়া, গাজিপাড়া, কাটকাটা, কয়রা সদর ইউনিয়নের ৬নং কয়রা, ৪নং কয়রার পুরাতন লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকা, ঘাটাখালি, হরিণখোলা, মহারাজপুর ইউনিয়নের উত্তর মঠবাড়ি, দশালিয়া, লোকা, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের কালিবাড়ি, নয়ানি, শেখেরটেক এলাকার বেড়িবাঁধগুলো অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ সকল বাঁধ সংস্কার করা হয়নি। ফলে এসব বাঁধ ভেঙে আবারো গোটা উপজেলা লোনা পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আইলার জলোচ্ছ্বাসে খাবার পানির উৎস নষ্ট হয়ে যায়। গত ৭ বছরেও বিকল্প ব্যবস্থা না হওয়ায় বিশুদ্ধ পানির জন্য স্থানীয় জনগোষ্ঠী দারুণ কষ্টে রয়েছেন। তারা ১০/১২ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে নলকূপ থেকে পানি সংগ্রহ করছেন। পরিকল্পনা মাফিক গভীর নলকূপ স্থাপন ও পুকুর সংস্কার করে পিএসএফ স্থাপন করা যায়নি এখনও। আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর আজও সংস্কার হয়নি। প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষকে দুর্যোগকালীন নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত আশ্রয় কেন্দ্র নেই। উপজেলার অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলো এখনও পুরোপুরি সংস্কার সম্ভব হয়নি।

আইলা’র ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা যায়নি ৭ বছরেও
অন্যদিকে দাকোপে ক্ষতিগ্রস্তদের এখনও পুনর্বাসনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। কিছু কিছু এলাকার যাতায়াত ব্যবস্থার সামান্য উন্নতি হয়েছে। বেশির ভাগ রাস্তার বেহাল দশা। জোয়ারের চাপে পাউবোর ৩১, ৩২ ও ৩৩ নং পোল্ডারের ৩৪টি স্থানে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকাগুলো হচ্ছে-সুতারখালী ইউনিয়নের নলিয়ান বাজার, গুনারী, সুতারখালী ফরেস্ট অফিসের পশ্চিম কোনা, কালাবগী পন্ডিত চন্দ্র স্কুল, কালিবাড়ি লঞ্চঘাট,কামারখোলা ইউনিয়নের কালিনগর টাওয়ার এলাকা, কামারখোলা, জালিয়াখালী, ভিটেভাঙ্গা, জয়নগর, তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের কামিনিবাসিয়া পুলিশ ফাঁড়ি, মোজামনগর, আন্ধারমানিক, গড়খালী, বটবুনিয়া, বানিশান্তা ইউনিয়নের আমতলা পুলিশ ফাঁড়ি, বানিশান্তা বাজার, পতিতা পল্লী, পূর্ব ঢাংমারী বড় বাড়ি, ভোজন খালী, খেজুরিয়া, বাজুয়া ইউনিয়নের চুনকুড়ি খেয়াঘাট, কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের রামনগর হাটখোলা, বুড়ির ডাবুর, পানখালী ইউনিয়নের ফেরীঘাট, খোনা, মৌখালী, পানখালী, দাকোপ ইউনিয়নের দাকোপ লঞ্চঘাট, পোদ্দারগঞ্জ বাজার, দাকোপ খেয়াঘাট (কালিনগর আড়পার) চালনা পৌরসভার নলোপাড়া থেকে চালনা বাজার পুরান জামে মসজিদ পর্যন্ত, চালনা বাজার লঞ্চঘাট থেকে পাকা ঘাট পর্যন্ত।

ভেড়ীবাঁধের ওপর সাড়ে ৩ হাজার মানুষের মানবেতর জীবনযাপন : খুলনায় আইলা’র সাত বছর পরের হালচিত্র

Daily Somoyer Khobor, Khulna
বুধবার, ২৫ মে ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দ
————————————–
নিজস্ব প্রতিবেদক : উপকূলবর্তী জেলা খুলনায় আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে তিন হাজার মানুষ শিবসা, পশুর ও শাকবাড়িয়া নদীর তীরে ভেড়ীবাঁধের ওপর বসবাস করছে। তাদের এখনও মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়নি। নিজস্ব জমি না থাকায় গৃহ নির্মাণের তহবিলের সহায়তাও পায়নি। এমনকি তাদের জন্য খাস জমিরও ব্যবস্থা করা হয়নি। ভেড়ীবাঁধের ওপর বসবাসকারী এলাকাগুলো হচ্ছে কয়রার উত্তর বেদকাশি, মহারাজপুর ইউনিয়ন, দাকোপ উপজেলার কামারখোলা ও সুতারখালী ইউনিয়ন। আইলায় জেলায় ৫৭ জনের প্রাণহানী হয়। ২০০৯ সালের ২৫ মে আইলা নামক ঘূর্ণিঝড় এ অঞ্চলে আঘাত হানে।
গতকাল উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন), এ্যাওসেড, জেজেএস, রূপায়ন ও এসপিএস ‘আইলা’র সাত বছর পূর্তি উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আইলার পর জরুরী ভিত্তিতে নির্মিত ভেড়ীবাঁধগুলো মানসম্মত উপায়ে তৈরি করা হয়নি। ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু আঘাত না হানলেও খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার ৬টি স্থানে ভেড়ীবাঁধে ফাটল ধরেছে। খুলনার দক্ষিণ প্রান্তের উপজেলা কয়রার মহারাজপুর ও দাকোপের কালাবগিতে জলোচ্ছ্বাসে পানি ভেড়ীবাঁধ উপচে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে মেরামতের উদ্যোগ নেয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপকূলের ৫৭ লাখ জনগোষ্ঠীর ঝুঁকিপূর্ণ জীবন-যাপন ও সম্পদ রক্ষার্থে এ সংগঠনের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি তোলা হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, প্রয়োজনীয় বিধিমালা, দাপ্তরিক আদেশ কার্যকর, ভেড়ীবাঁধ কাটার সাথে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে খাস জমি বিতরণ, পুনর্বাসনের পদক্ষেপ এবং নোনা পানির চিংড়ি ঘের বন্ধ করা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ক্লিন-এর প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সংগঠক মনিরুল হক বাচ্চু, জিল্লুর রহমান, ক্লিন-এর চেয়ারপারসন সাজ্জাদুর রহিম পান্থ, এ্যাওসেড-এর নির্বাহী পরিচালক শামীম আরফিন, বেলা’র বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল, পরিবর্তন-খুলনা’র নির্বাহী পরিচালক নাজমুল আযম ডেভিড, ক্লিন-এর সুবর্ণা ইসলাম দিশা ও নাসিম রহমান কিরণ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, আইলায় জেলার কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ, বটিয়াঘাটা, ডুমুরিয়া উপজেলার ৪৫ টি ইউনিয়ন, চালনা ও পাইকগাছা পৌরসভা এলাকার ৫ লাখ ৪৬ হাজার মানুষ সম্পদ হারায়। এছাড়া ৬৮ হাজার ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ এবং ৪৪ হাজার আংশিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ৫৯৭ কিলোমিটার পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভেড়ীবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সিডরে ৫ লাখ ২৫ হাজার মানুষের সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসময় ১৮ জনের প্রাণহানী হয় এবং ৪৩. ৩০ কিলোমিটার ভেড়ীবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গেল শনিবার রোয়ানু নামক ঘূর্ণিঝড় আঘাত না হানলেও জেলার ৩২ কিলোমিটার ভেড়ীবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

7 Years of Cyclone Aila: 3,500 Affected People Still On Embankments: Greens

Daily NewAge, Dhaka
Tapos Kanti Das
May 25, 2016 12:36 am
—————————–
A makeshift on embankment in Dacope, Khulna
About 3,500 people in severely Aila affected areas of Dacope and Koyra upazilas in Khulna are still living on embankments even after seven years of the cyclonic storm that hit the country’s southwest region on May 25, 2009.

At a press conference at Khulna Press Club on Tuesday, green activists said that the ill-fated victims had to take refuge on embankments for long years as their houses were destroyed by Aila and they became landless as their lands had been eroded.
Campaign for Sustainable Rural Livelihoods and five Khulna-based organisations – Coastal Livelihood and Environmental Action Network, An Organisation for Socio-Economic Development, Jagrata Juba Sangha, Rupayan and Samaj Progoti Sangstha jointly organised the press conference to share their field level experience about Aila affected people marking the seventh anniversary of Aila.
Reading out the written speech, Coastal Livelihood and Environmental Action Network chief executive Hasan Mehedi said that coastal embankments were still weak keeping the locals vulnerable to water surges.

He said that influential quarters had constantly been weakening the embankments damaging them to pour saline water in their shrimp enclosures as the authorities concerned were not active to resist them.

Hasan Mehedi said that such acts of the influential quarters could be resisted if the government implemented the Disaster Management Act.

He placed six-point demands including strict enforcement of the Disaster Management Act, rehabilitation of the people who were still suffering in the affected areas, strengthening coastal embankments in an environment-friendly way, stopping saline water shrimp farms in agricultural lands and enforcing the Integrated Coastal Zone Management Policy in every programme in the coastal areas.

Hasan Mehedi told New Age that the government could allocate Khas lands for the people living on embankments and provide them with easy loans to construct homes and for their rehabilitation.

Revolutionary Workers Party leader Monirul Huq Bachchu, AOSED executive director Shamim Arfeen, Bangladesh Environmental Lawyers Association Khulna divisional coordinator Mahfuzur Rahman Mukul and Paribartan-Khulna executive director Nazmul Azam David also spoke.

As per statistics of the upazila administrations, Aila damaged 25,067 houses totally and 8,349 houses partially at Dacope upazila and 23,820 houses totally and 18,620 houses partly at Koyra upazila.

Support Aila Victims for Eid 2010

CLEAN News, 20 September 2010
Hasan Mehedi, Khulna
—————————————–
The Aila-Durgoto Sanghati Mancho (Aila-victims solidarity platform) and Aila-biddhosto Upokulyo Beribandh Nirman Gonosongram Committee (Peoples Movement Committee for Reconstruction of Aila-damaged Coastal Embankments) jointly organised a press conference on 6 September 2010 11:30 AM in Khulna Press Club, Khulna, Bangladesh with demand of emergency support to the Aila-victims for observing coming Eid-ul-fitr festival, the main religious festival of Muslims.
The leaders of the Mancho also urge for immediate reconstruction of cyclone Aila-damaged embankments so that the affected people can go back home to recover their traditional livelihoods and normal life. They presented five-points demands including emergency Eid support; reconstruction of breached embankments; publishing report of Parliamentary Probing Committee formed in March 2010; investigation of corruption in relief, construction and rehabilitation works; and protection and agricultural subsidiary for small and marginal farmers.

The written speech was presented by Mancho convener Advocate Feroz Ahmed. In the written speech Feroz Ahmed said, “after only four or five days, the whole nation is going to observe holy Eid with amusement and joy. But the Eid does not bring any joy to hundreds of thousands of Aila victims of Dacope and Koyra Upazila under Khulna district and Assasuni and Shyamnagar Upazila under Satkhira district. More than 100 thousand people still living under the open sky on the embankments even though 15 months have passed after the devastating cyclone Aila had hit the area on 25th May 2009”.

Mr. Ahmed said, “After continuous movement of Aila-durgoto Sanghati Mancho and Aila-biddhosto Upokulyo Beribandh Nirman Gonosongram Committee, the high profile government policy makers had visited the area several times and express commitment to repair the embankments before April 2010. But there is no noticeable improvement of the situation though the government has already spent around Tk 6 billion”.

He said, “the local MP (Member of Parliament) of Khulna-1 Mr. Nani Gopal Mondal has committed to complete tender process within last July 2010. The honourable Prime Minister Sheikh Hasina visited the Aila-affected area on 23rd July 2010 and declared that the breached embankments would be reconstructed within next dry season in 2010. But no progress observed till now”. The platform blamed four interlinked forces such as BWDB (Bangladesh Water Development Board), contractors, owners of brackish water shrimp farms and local influential leaders for failure of reconstruction.

In the speech, the Platform said, “the Aila-hit people break their fast during Ramadan by drinking only water. They cannot always take Sehri (early morning meal), let alone prepare for Eid celebration. Their children are looking forward for a new dress like ours. But they are not able to provide any dress or improved food to their children. The Prime Minister has inaugurated distribution of House Grants for the Aila-affected people on 23rd July. Under this project, every family was expected to get Tk 20,000. However, those allowances are yet to be distributed”.

After report of several newspapers tracked by the Platform the Government has distributed 1,600 sharies among the women and 10 kgs of rice to each of the 6,000 affected families to observe Eid festival. The platform leaders alleged that such assistance from the government is ‘not adequate’. Besides, the holy Durga Puja of Hindu communities, who are majority in these affected areas, is going to observe in 2nd week of October. But no preparation is observed to support the communities to enjoy this main religious festival of Hindu communities.

Among others, political and civil society leaders including Greater Khulna Movement Committee vice president Sheikh Ashraf-Uz-Zaman, JSD city president Rafiqul Huq Khokon and district secretary Mohammad Kaykobad, CPB district secretary SA Rashid, Revolutionary Workers Party district leader Monirul Huq Bacchu, Bangladesher Workers Party leader Farukul Islam and Monir Ahmed, NAP district president Fazlur Rahman and secretary Tapan Roy, and Aila-durgoto Sanghati Mancho secretary Hasan Mehedi was present in the Press Conference.

Bangladeshi national leading newspaper daily Prothom Alo, daily Jugantor, daily Jaijaidin and online newspaper Bdnews24.com along with local newspapers such as daily Anirban, daily Janmabhumi, daily Probaho, daily Probartan, daily Somoyer Khobor and daily Tathya published the news of press conference with due treatment.

Khulna Declaration to Protect Lives and Livelihoods of Southwest Coastal Region

Saturday, 10 July 2010, 25 Asharh 1416
Khulna, Bangladesh
——————————————————–
We, more than two hundred representatives from different sectors of the society including members of parliament and representatives from local government, political parties, researcher, teacher, women rights movement, socio-cultural organization, students’ organization, development organization, small and marginal farmer and forest and indigenous communities of southwest coastal region of Bangladesh,
Gathering today on tenth of July Two thousand Ten AD in the eve of ‘Southwest Coastal Conference on Impact of Climate Change on Coastal Livelihood: Perspective Cyclone Aila’ at Khulna Divisional City,
Recalling the potentials of world heritage the Sundarbans Mangrove Forest, fertile alluvial land, billion tons of sediments, disaster-tolerant local rice varieties, rivers and canals like arteries and rich traditional cultural practices;
Concerned for the vulnerabilities of the rural livelihoods such as small and marginal farmer, agricultural labour, fisherman and other natural resource dependant people of Southwest region due to frequent and intensive natural disasters including cyclone Aila, adverse impact of climate change and environmental degradation and unwise development initiatives;
Emphasizing on emergence of short, mid and long term initiatives as because the livelihood and ecological problems becomes complicated for climate change induced vulnerabilities and adverse impacts of infrastructural mega projects financed by the Multinational Development Banks (MDBs), Transnational Corporations (TNCs) and ‘Donor Organizations’ from developed countries;
Solely proclaiming these 21-point demands as Khulna Declaration and urging the Government of Bangladesh to implement this declaration for sustainable rural livelihoods of southwest coastal region of Bangladesh:

  1. Allocate sufficient financial resources immediately for reconstruction of cyclone Aila damaged embankments. Finalize working schedule, tender notice and other necessary activities within September 2010 to complete reconstruction of the breached embankments within December 2010. Take alternative measures to complete this task considering failure of Bangladesh Water Development Board (BWDB) in last year;
  2. Identify and repair all weakened coastal embankments of southwest coastal region in priority basis. Inter alia ensuring transparency and accountability of BWDB is must to complete this task;
  3. Depositing sedimentation in cultivable wetlands of southwest coastal region is must to meet the challenges of land subsidence, sea level rise and wide-spread water logging. To achieve this end, implement Tidal River Management (TRM) in this region as an integral part of the embankments;
  4. Update the Embankment Protection Act 1952 and adopt seven years jail for making hole in, illegal cut or any other damage of the embankments. Simultaneously, ensure local small and marginal farmers participation in embankment management;
  5. Increase the height of coastal embankments southwest region to eight mitres like southeast and use geo-fibre and iron-net to make it capable of protecting cyclone and tidal surges. Construct roads and highways on the embankments to ensure proper and regular use of them;
  6. Stop leasing of riverbanks create environments of planting mangrove forest at outside of the embankments. Stop leasing of state-owned canals and water bodies within the polder. Protect these common resources to use for freshwater reservoir for irrigation for agricultural production, and for natural fish varieties;
  7. Provide agricultural tools including fertilizer, seeds and irrigation support to the cyclone Aila affected small and marginal farmers. At the same time, promote local saline and disaster tolerant varieties by banning distribution of hybrid and Genetically Modified (GM) seeds which have come from unknown sources;
  8. Provide adequate scholarships and free educational materials to the cyclone Aila affected students to ensure their smooth primary, secondary and higher education;
  9. Change the mindset of Cordon Approach of implementing cross dams, river training, flood control and water development, and adopt a different Embankment Management Policy with attitude of sedimentation and water management. Simultaneously, crash the upstream dams to ensure freshwater in the coastal river and canals;
  10. Ban the brackish water shrimp cultivation in the agricultural land of coastal region considering its adverse long term socioeconomic and environmental impact.
  11. Immediately finance and undertake socioeconomic development projects for climate victims including cyclone Aila induced refugees;
  12. Create joint and continuous international pressure on the developed industrialised countries to reduce greenhouse gases (GHGs) emission and ensure reparations for capacity building to reduce vulnerabilities of climate induced disasters;
  13. Assess environmental impacts and take local people’s opinion considering negative impacts of climate change before undertaking Asian Development Bank (ADB), World Bank (WB), International Monetary Fund (IMF) and other IFIs financed mega project in the coastal zone;
  14. Establish an Adaptation and Mitigation Centre in southwest coastal region considering frequency and adversity of disasters in this region. At the same time, construct one cyclone shelter for every one thousand people in the disaster-prone areas;
  15. Provide support to the poor people for constructing disaster-tolerant, environment-friendly and long-lasting houses in southwest coastal region. To this end, undertake an Integrated Settlement Plan for this region. Simultaneously, undertake sustainable measures for safe drinking water and sanitation considering increased salinity and tidal surge;
  16. Protect illegal wood extraction, forest bandits and corruption to protect world’s largest single track mangrove forest, the Sundarbans;
  17. Stop refusing traditional rights of forest peoples of the Sundarbans in the name of conserving biodiversity after disasters like cyclone Aila. At the same time, stop using the Sundarbans as a Carbon Reservoir for corporate Carbon Trading in the name of Climate Change Mitigation;
  18. Excavate and dredge dead rivers of the region and smash the entire infrastructure which are creating barrier to drainage. Keep at least fifty mitres water channel in every kilometre of roads and highways;
  19. Do not allow any international debt-trade or profit-driven trade aggression to take chance of disaster, extreme salinity, climate-tolerant seed, Clean Development Mechanism (CDM), green technology, water scarcity etc.;
  20. Reactivate Coastal Development Board (CDB) and implement the recommendation of Integrated Coastal Zone Management Plan (ICZMP) for sustainable development of coastal zone;
  21. Amend the National Water Policy and Agricultural Policy to incorporate specific measures for reducing vulnerabilities of coastal zone;

We again urge to the Government of Bangladesh to implement these demands of Khulna Declaration and to promote sustainable rural livelihoods of coastal disaster affected people.

Southwest Coastal Conference on Impact of Climate Change on Coastal Rural Livelihood

10 July 2010, Saturday
Divisional Museum Auditorium, Khulna, Bangladesh
———————————
Even after more than 14 months of cyclone Aila the the affected 11 Unions of 3 Upazilas under Khulna and Satkhira Districts of Southwest Coastal Region of Bangladesh are still under water as the breached coastal embankments yet to be repaired. More than 125 thousand people are still living on the embankments while more than 87 thousand people had to become climate refugees because they lost their houses, possessions and traditional livelihoods. The areas are shifting to abandoned land as the trees and other environmental elements are degrading due to extreme saline water which remains in the localities since 25th May 2009, the date of Aila hit the areas. Water and Sanitation system of the areas are totally collapsed and thousands of people are crying for safe drinking water rather than food or shelter.
With support from Campaign for Sustainable Rural Livelihoods (CSRL) local people organized several movements under Aila Durgato Sanghati Mancho (Aila Victims Solidarity Committee) and Aila Biddhosto Bandh Nirman Gonosangram Parisad (Mass Movement Committee for Reconstruction of Aila damaged Embankments) when the government failed to reconstruct damaged embankments within December 2009. They organized Press Conference, Submission of Memorandum, Signboard Set-up, Sit-In Program, Human Chain, Dialogue with Policy Makers, Procession, Barricade, Child Rally, Student Movement, Journalists’ Demonstration, Celebrity Visit and Regular updating letter to the Cabinet. Ally organization Nagorik Sanghati also organized several programs including Human Chain, Intellectual’s Visit to the affected areas and media mobilization on the same demand.
After continuous movement in local and national level the BWDB issued Working Order in February 2010 but the reconstruction did not start in time. In the mean time monsoon came and water level started to rise. The contractors started reconstructing in Mid March but they did not follow the approve design, use inappropriate materials and construct in shorter in height and thickness. As a result the embankments collapsed again in the monsoon and people were again in peril.
The Food and Disaster Management Minister, Water Resource Minister and Parliamentary Standing committee said sorry to the people several times. The parliamentary committee formed a probing body to investigate inner cause of this failure and declared punishment of the Bangladesh Water Development Board (BWDB) officials if they fail to reconstruct the embankments before 14th April 2010. But the situation remains unchanged even after strict order of the Prime Minister of Bangladesh on 7th April 2010.
In the mean time, the Government of Bangladesh has allocated some 2,500 billion taka for reconstruction and maintenance of the embankments. Additionally, it is heard that the World Bank (WB) and Asian Development Bank (ADB) is coming forward to invest money for mega-projects on embankment maintenance from their climate change related funds. Due to bitter experience of Coastal Embankment Project (CEP) of 1960s and Khulna-Jessore Drainage Rehabilitation Project (KJDRP) of 1990’s the coastal people are anxious about the future impacts of present initiatives.
The Southwest Coastal Conference is to seek a common position of Policy makers, Local Government leaders, Politicians, Academicians, Development Activists, Social movement leaders, Students and common peoples on Coastal Development with due consideration to climate change adaptation and mitigation and environmental equilibrium. The conference is also to sensitize the policy leaders to take adequate measures to reconstruct Aila damaged embankments immediately.