তেলের ট্যাঙ্কার তীরে, খোঁজ নেই মাস্টারের : শ্যালা নদীতে নৌযান বন্ধের নির্দেশ, আপাতত স্থানীয়রা সরাবে তেল

Subir Roy, Daily Ajker Patrika
12 December 2014
————————————-
অবশেষে দু’দিন পর টেনে তীরে তোলো হয়েছে শ্যালা নদীতে ডুবে যাওয়া তেলের ট্যাঙ্কার সাউদার্ন স্টার সেভেন। মালিকপক্ষ মেসার্স হারুন অ্যান্ড কোম্পানির ভাড়া করা ৩টি উদ্ধারকারী নৌযানের সহায়তায় ট্যাঙ্কারটি টেনে প্রথমে নদীর চরে সরিয়ে নেয়া হয়। পরে সেখান থেকে মংলার জয়মনিরঘোল এলাকায় রাখা হয়। তবে নিখোঁজের দুই দিনেও খোঁজ মেলেনি সাউদার্ন স্টার সেভেন ট্যাঙ্কারের মাস্টার মোকলেসুর রহমানের। সুন্দরবন চ্যানেল বাদ দিয়ে বিকল্প চ্যানেলে নৌযান চলাচলের নির্দেশ দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। এদিকে নদীতে ছড়িয়ে পড়া তেল অপসারণে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা জাহাজ কাণ্ডারি-১০ মংলায় পৌঁছেছে। আপাতত স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তেল উত্তোলন করা হবে। পরে বাকি তেল অপসারণে কাজ করবে কাণ্ডারি-১০।মংলার মেসার্স খানজাহান আলী স্যালভেজের ডুবুরি দল ডুবন্ত ট্যাঙ্কারের সঙ্গে লোহার তার পেঁচিয়ে গতকাল সকাল থেকে তীরে টেনে আনার কাজ শুরু করে। ট্যাঙ্কারটি টেনে তুলতে বিআইডব্লিউটিএর দু’টি উদ্ধারকারী জাহাজ আসার কথা থাকলেও সেগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারেনি।

বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান সামসুদোহা খন্দকার বলেন, পুনরায় আদেশ না দেয়া পর্যন্ত শ্যালা নদী দিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নদীতে ভেসে থাকা তেল স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় সরিয়ে নেয়া হবে। তিনি বলেন, এ চ্যানেল ছাড়াও বিকল্প অনেক চ্যানেল আছে, সেগুলোতে একটু বেশি ঘুরতে হলেও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ, বনবিভাগ, বিপিসির সঙ্গে যৌথ সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন। এদিকে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বিন্নি সংগঠনের নেতারা বলেছেন, বাংলাদেশের গর্বের ধন সুন্দরবন আজ হুমকির মুখে। এ অবস্থায় জরুরিভিত্তিতে তেল সরিয়ে নিতে উদোগ নেয়া দরকার। সরকার অবিলম্বে এ উদ্যোগ নিলে সুন্দরবন বিপন্নতার কবল থেকে রক্ষা পাবে। কিন্তু গত দুই দিনে সরকারের আন্তরিকতা চোখে পড়লেও জরুরি উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

গতকাল নাগরিক সমাজের জোট ‘সুন্দরবন পর্যবেক্ষণ দল’ বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন), গ্রামীণ জীবনযাত্রার স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের জন্য প্রচারাভিযান (সিএসআরএল), ইক্যুইটি অ্যান্ড জাস্টিস ওয়ার্কিং গ্রুপ, বাংলাদেশ (ইক্যুইটিবিডি), ফরেস্ট পিপলস প্রোগ্রাম (এফপিপি) ও ম্যানগ্রোভ অ্যাকশন প্রোজেক্ট (ম্যাপ) যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলন করে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ক্লিনের প্রধান সঞ্চালক হাসান মেহেদী।সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জানান, ২০০২ সালে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে তিনটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সুন্দরবনে তেল-দূষণের সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়ে একটি সমীক্ষা চালায়। তেল-দূষণ থামানো না গেলে প্রথম ১৫ দিনের মধ্যে পাখি, কচ্ছপ, ছোট মাছ ও অমেরুদণ্ডীপ্রাণী মারা যেতে পারে বলে ওই সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়। এ ছাড়া প্রতিবেদনে তেল-দূষণ রোধ করার জন্য বন বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উপকরণ ক্রয়, স্থানীয় জনগণ ও স্বেচ্ছাসেবীদের অংশগ্রহণে বাঁশ, কাঠের গুঁড়ি, কাঁচাপাট, খড়কুটো, বস্তা ও চট ব্যবহার করে দ্রুত উদ্যোগ নেয়ার সুপারিশও করা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনের পর এক যুগ পার হয়ে গেলেও কোনো প্রস্তুতি নেয়া হয়নি।

বক্তারা বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া না হলে প্রাণবৈচিত্র্য ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি মানবদেহে দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সার, কিডনি ও যকৃত অকেজো হয়ে যাওয়া, স্নায়ূর স্থায়ী ক্ষতিসাধন, রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া এবং রক্তের তারল্য বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বিপন্ন প্রাণীর অভয়াশ্রমকে নিরাপদ রাখার জন্য কোনো ধরনের রাসায়নিক পাউডার ব্যবহারের প্রতিবাদ জানানো হয়। বক্তারা বলেন, কোনো রাসায়নিক দ্রব্যের মাধ্যমে তেল অপসারণ করলে কিংবা বনের ভেতরে ঢুকে তেল দূরীভূত করার চেষ্টা করলে তা হবে আত্মঘাতের শামিল। তেল দূরীভূত করার জন্য আগুন ধরালে তা সুন্দরবনে আগুন ছড়িয়ে দিতে পারে বলেও সতর্ক করেন। তেলভুক ব্যাকটেরিয়া ছড়ানোর পদ্ধতিকে কার্যকর হলেও বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য সেটি খরচবহুল হবে বলে বক্তারা অভিমত দেন। বক্তারা যত দ্রুত সম্ভব কয়েকশ তরুণ স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ করে দেশি উপকরণ দিয়ে তেল সরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানান। বক্তারা জানান, ২০১১ সালের ২৪ নভেম্বর স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নৌ-রুট বন্ধ করার নির্দেশ দেন। এরপর ২০১২ সালের ২১ আগস্ট পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে একই দাবি জানায়। কিন্তু নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় এ নির্দেশ ও অনুরোধের কোনো তোয়াক্কা করেনি।

বক্তারা অবিলম্বে সুন্দরবনে পরিবেশগত দুর্যোগ ঘোষণা, জরুরিভিত্তিতে সুন্দরবনের নদী ও খাল থেকে তেল অপসারণের জন্য সম্মিলিত সামরিক ও বেসামরিক বাহিনী এবং স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও কোম্পানির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়, সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নৌ-চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধ করা, তেল অপসারণের কাজ প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে সরাসরি তদারক করা ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উপকরণ সংগ্রহে জরুরি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সুন্দরবন পর্যবেক্ষণ দলের আহ্বায়ক গৌরাঙ্গ নন্দী, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) খুলনা সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার, জন উদ্যোগের খুলনা সমন্বয়কারী মহেন্দ্রনাথ সেন, হিউম্যানিটিওয়াচের নির্বাহী সদস্য পলাশ দাশ।

অবিলম্বে সুন্দরবনে পরিবেশগত দুর্যোগ ঘোষণা করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

Sundarban Samachar | 11 December 2014
Staff Reporter
————————————————–
জরুরী ভিত্তিতে তেল-দূষণ দূর করার জন্য শত শত স্বেচ্ছাসেবক প্রয়োজন

সুন্দরবনে তেলবাহী জাহাজ ডুবির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে আজ বৃহস্পতিবার খুলনা প্রেসক্লাবে নাগরিক সমাজের জোট ‘সুন্দরবন পর্যবেক্ষণ দল’ বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন), গ্রামীণ জীবনযাত্রার স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের জন্য প্রচারাভিযান (সিএসআরএল), ইক্যুইটি অ্যান্ড জাস্টিস ওয়ার্কিং গ্রুপ – বাংলাদেশ (ইক্যুইটিবিডি), ফরেস্ট পিপলস্‌ প্রোগ্রাম (এফপিপি) ও ম্যানগ্রোভ অ্যাকশন প্রোজেক্ট (ম্যাপ) যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলনটি আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ক্লিন’র প্রধান সঞ্চালক হাসান মেহেদী।

“একটি বালুবাহী জাহাজকে তেল পরিবহনের অনুমতি প্রদান সুন্দরবনে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ” বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের গর্ব সুন্দরবন আজ ভয়াবহ হুমকির মুখোমুখি। এ অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে তেল-দূষণের বিস্তার রোধ ও অপসারণের জন্য স্থানীয়ভাবে প্রাপ্য উপকরণ দিয়ে শত শত স্বেচ্ছাসেবক নিযুক্ত করা দরকার। সরকার অবিলম্বে এ উদ্যোগ নিলে সুন্দরবনের বিপন্নতা কমানো সম্ভব হবে। কিন্তু গত দুই দিনে সরকারের আন্তরিকতা চোখে পড়লেও জরুরি উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।”

তিনি বলেন, ২০০২ সালে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে তিনটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সুন্দরবনে তেল-দূষণের সম্ভাব্য ক্ষতি বিষয়ে একটি সমীক্ষা চালায়। তেল-দূষণ থামানো না গেলে প্রথম ১৫ দিনের মধ্যে পাখি, কচ্ছপ, ছোট মাছ ও অমেরুদন্ডি প্রাণি মারা যেতে পারে বলে ওই সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিলো। এছাড়া প্রতিবেদনে তেল-দূষণ রোধ করার জন্য বন বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উপকরণ ক্রয়, স্থানীয় জনগণ ও স্বেচ্ছাসেবীদের অংশগ্রহণে বাঁশ, কাঠের গুড়ি, কাঁচাপাট, খড়কুটো, বস্তা ও চট ব্যবহার করে দ্রুত উদ্যোগ নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছিলো। ওই প্রতিবেদনের পর এক যুগ পার হয়ে গেলেও কোনো প্রস্তুতি নেয়া হয়নি।

তিনি বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে প্রাণবৈচিত্র্য ধ্বংস হবার পাশাপাশি মানবদেহে দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সার, কিডনি ও যকৃত অকেজো হয়ে যাওয়া, স্নায়ুর স্থায়ী ক্ষতিসাধন, রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া এবং রক্তের তারল্য বেড়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বিপন্ন প্রাণীর অভয়াশ্রমকে নিরাপদ রাখার জন্য কোনো ধরনের রাসায়নিক পাউডার ব্যবহারের প্রতিবাদ জানানো হয়।

তিনি বলেন, কোনো প্রকার রাসায়নিক দ্রব্যের মাধ্যমে তেল অপসারণ করলে কিংবা বনের ভেতরে ঢুকে তেল দূরীভূত করার চেষ্টা করলে তা হবে আত্মঘাতের শামিল। তেল দূরীভূত করার জন্য আগুন ধরালে তা সুন্দরবনে আগুন ছড়িয়ে দিতে পারে বলেও সতর্ক করেন। তেলভূক ব্যাকটেরিয়া ছড়ানোর পদ্ধতি কার্যকর হলেও বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য সেটি খরচবহুল হবে বলে বক্তারা অভিমত দেন। বক্তারা যতো দ্রুত সম্ভব শত শত তরুণ স্বেচ্ছাসেবীদেরকে দেশি উপকরণ দিয়ে নিযুক্ত করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ২০১১ সালের ২৪ নভেম্বর স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নৌরুট বন্ধ করার নির্দেশ দেন। এরপর ২০১২ সালের ২১ আগস্ট পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে একই দাবি জানায়। কিন্তু নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয় এ নির্দেশ ও অনুরোধের কোনো তোয়াক্কা করে নি।

তিনি অবিলম্বে সুন্দরবনে পরিবেশগত দুর্যোগ ঘোষণা, জরুরি ভিত্তিতে সুন্দরবনের নদী ও খাল থেকে তেল অপসারণের জন্য সম্মিলিত সামরিক ও বেসামরিক বাহিনী এবং স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও কোম্পানির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়, সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নৌ-চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধ করা, তেল অপসারণের কাজ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে সরাসরি তদারক করা ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উপকরণ সংগ্রহে জরুরি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সুন্দরবন পর্যবেক্ষণ দলের আহ্বায়ক গৌরাঙ্গ নন্দী, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)’র বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)’র খুলনা সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার,, হিউম্যানিটিওয়াচ-এর নির্বাহী সদস্য পলাশ দাশ প্রমূখ। 

অবিলম্বে সুন্দরবনে পরিবেশগত দুর্যোগ ঘোষণার দাবি পরিবেশবাদি সংগঠনসমূহের

Ekusheralo24.com | December 11, 2014
Mehnaz Kabir Lipu
———————————————–
“বাংলাদেশের গর্বের ধন সুন্দরবন আজ ভয়াবহ হুমকির মুখোমুখি। এ অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে তেল-দূষণের বিস্তার রোধ ও অপসারণের জন্য স্থানীয়ভাবে প্রাপ্য উপকরণ দিয়ে শত শত স্বেচ্ছাসেবক নিযুক্ত করা দরকার। সরকার অবিলম্বে এ উদ্যোগ নিলে সুন্দরবনের বিপন্নতা কমানো সম্ভব হবে। কিন্তু গত দুই দিনে সরকারের আন্তরিকতা চোখে পড়লেও জরুরি উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না”। আজ খুলনা প্রেসক্লাবে নাগরিক সমাজের জোট ‘সুন্দরবন পর্যবেক্ষণ দল’ বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন), গ্রামীণ জীবনযাত্রার স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের জন্য প্রচারাভিযান (সিএসআরএল), ইক্যুইটি অ্যান্ড জাস্টিস ওয়ার্কিং গ্রুপ – বাংলাদেশ (ইক্যুইটিবিডি), ফরেস্ট পিপলস্ প্রোগ্রাম (এফপিপি) ও ম্যানগ্রোভ অ্যাকশন প্রোজেক্ট (ম্যাপ) যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলনটি আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ক্লিন-এর প্রধান সঞ্চালক হাসান মেহেদী।
 

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জানান, ২০০২ সালে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে তিনটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সুন্দরবনে তেল-দূষণের সম্ভাব্য ক্ষতি বিষয়ে একটি সমীক্ষা চালায়। তেল-দূষণ থামানো না গেলে প্রথম ১৫ দিনের মধ্যে পাখি, কচ্ছপ, ছোট মাছ ও অমেরুদ-ী প্রাণি মারা যেতে পারে বলে ওই সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিলো। এছাড়া প্রতিবেদনে তেল-দূষণ রোধ করার জন্য বন বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উপকরণ ক্রয়, স্থানীয় জনগণ ও স্বেচ্ছাসেবীদের অংশগ্রহণে বাঁশ, কাঠের গুড়ি, কাঁচাপাট, খড়কুটো, বস্তা ও চট ব্যবহার করে দ্রুত উদ্যোগ নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছিলো। ওই প্রতিবেদনের পর এক যুগ পার হয়ে গেলেও কোনো প্রস্তুতি নেয়া হয়নি।

বক্তারা বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া না হলে প্রাণবৈচিত্র্য ধ্বংস হবার পাশাপাশি মানবদেহে দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সার, কিডনি ও যকৃত অকেজো হয়ে যাওয়া, স্নায়ুর স্থায়ী ক্ষতিসাধন, রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া এবং রক্তের তারল্য বেড়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বিপন্ন প্রাণীর অভয়াশ্রমকে নিরাপদ রাখার জন্য কোনো ধরনের রাসায়নিক পাউডার ব্যবহারের প্রতিবাদ জানানো হয়। বক্তারা বলেন, কোনো প্রকার রাসায়নিক দ্রব্যের মাধ্যমে তেল অপসারণ করলে কিংবা বনের ভেতরে ঢুকে তেল দূরীভূত করার চেষ্টা করলে তা হবে আত্মঘাতের শামিল। তেল দূরীভূত করার জন্য আগুন ধরালে তা সুন্দরবনে আগুন ছড়িয়ে দিতে পারে বলেও সতর্ক করেন। তেলভূক ব্যাকটেরিয়া ছড়ানোর পদ্ধতিকে কার্যকর হলেও বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য সেটি খরচবহুল হবে বলে বক্তারা অভিমত দেন। বক্তারা যতো দ্রুত সম্ভব শত শত তরুণ স্বেচ্ছাসেবীদেরকে দেশি উপকরণ দিয়ে নিযুক্ত করার আহ্বান জানান।

বক্তারা জানান, ২০১১ সালের ২৪ নভেম্বর স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নৌরুট বন্ধ করার নির্দেশ দেন। এরপর  ২০১২ সালের ২১ আগস্ট পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে একই দাবি জানায়। কিন্তু নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয় এ নির্দেশ ও অনুরোধের কোনো তোয়াক্কা করে নি। বক্তারা অবিলম্বে সুন্দরবনে পরিবেশগত দুর্যোগ ঘোষণা, জরুরি ভিত্তিতে সুন্দরবনের নদী ও খাল থেকে তেল অপসারণের জন্য সম্মিলিত সামরিক ও বেসামরিক বাহিনী এবং স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও কোম্পানির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়, সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নৌ-চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধ করা, তেল অপসারণের কাজ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে সরাসরি তদারক করা ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উপকরণ সংগ্রহে জরুরি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সুন্দরবন পর্যবেক্ষণ দলের আহ্বায়ক গৌরাঙ্গ নন্দী, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)’র বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)’র খুলনা সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার, জনউদ্যোগের খুলনা সমন্বয়কারী মহেন্দ্রনাথ সেন, হিউম্যানিটিওয়াচ-এর নির্বাহী সদস্য পলাশ দাশ প্রমূখ। 

অবিলম্বে সুন্দরবনে পরিবেশগত দুর্যোগ ঘোষণার দাবি

Bangla Tribune | রাত ০৯:৪৯ ডিসেম্বর ১৩, ২০১৪
খুলনা প্রতিনিধি
————————————————–

Human Chain of CLEAN, Janauddyog, Poribesh Bachao Andolan (POBA), BARCIK and CSRL for declaring environmental emergency in the Sundarbans due to oil spillage
 অবিলম্বে সুন্দরবনে পরিবেশগত দুর্যোগ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে কয়েকটি পরিবেশবাদী সংগঠন। শনিবার বিকাল তিনটায় খুলনা পিকচার প্যালেস মোড়ে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন চলাকালে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা এ দাবি জানান। উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন), গ্রামীণ জীবনযাত্রার স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের জন্য প্রচারাভিযান (সিএসআরএল), জনউদ্যোগ ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)’র যৌথ আয়োজনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, একটি বালি বহনকারী কার্গো কিভাবে তেলের ট্যাংকারে পরিণত হলো কিংবা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরও কেন শ্যালা নদীতে বাণিজ্যিক নৌযান চলার অনুমতি দেয়া হলো সে প্রশ্নের উত্তর ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিবিধান করা জরুরি। তবে তার চেয়েও জরুরি এখনই সুন্দরবনে পরিবেশগত দুর্যোগ ঘোষণা করা এবং যতো বেশি সম্ভব স্বেচ্ছাসেবক নিযুক্ত করে নদী থেকে তেল অপসারণ করা।

তারা অভিযোগ করেন, সুন্দরবনে তেল ট্যাঙ্কার দুর্ঘটনার পর পরিবেশ যখন চরম বিপর্যয়ের মুখোমুখি তখন সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা কোনও কার্যকরী পদক্ষেপ না নিয়ে ধারাবাহিক সভা আর কমিটি গঠন করে যাচ্ছে। অপরদিকে দুর্ঘটনার ৪ দিন পার হয়ে গেলেও দায়ী ট্যাংকারের মালিক বা কর্মকর্তা এখনও গ্রেফতার হয়নি।

বক্তারা তেল অপসারণের জন্য বেসামরিক প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী নিয়োগের দাবি জানান। এছাড়া বক্তারা তেল অপসারণের কার্যক্রম সরাসরি তদারক করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জন উদ্যোগের খুলনা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা। বক্তৃতা করেন পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)’র চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, ক্লিন-এর প্রধান সঞ্চালক হাসান মেহেদী, পবা’র সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল, অধ্যাপক শেখ সাদী ভূঞা, বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

সুন্দরবনে জরুরি পরিবেশগত দুর্যোগ ঘোষণার দাবি

Thereport24.com | 11 December 2014
Khulna Bureau
———————————————-
‘বাংলাদেশের গর্বের ধন সুন্দরবন আজ ভয়াবহ হুমকির মুখে। এ অবস্থায় জরুরিভিত্তিতে তেল-দূষণের বিস্তার রোধ এবং তা অপসারণের জন্য স্থানীয়ভাবে প্রাপ্য উপকরণ দিয়ে শত শত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা দরকার।’ খুলনা প্রেসক্লাবে নাগরিক সমাজের জোট ‘সুন্দরবন পর্যবেক্ষণ দল’ বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ দাবি জানায়। সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে সরকারকে ওই উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। এর মাধ্যমে সুন্দরবনের বিপন্নতা কমানো সম্ভব হবে বলে দাবি করা হয়। ‘গত দুই দিনে সরকারের আন্তরিকতা চোখে পড়লেও জরুরি উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না’ বলেও সংবাদ সম্মেলন থেকে অভিযোগ করা হয়।

নাগরিক সমাজের জোট ‘সুন্দরবন পর্যবেক্ষণ দল’ বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন), গ্রামীণ জীবনযাত্রার স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের জন্য প্রচারাভিযান (সিএসআরএল), ইক্যুইটি এ্যান্ড জাস্টিস ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশ (ইক্যুইটিবিডি), ফরেস্ট পিপলস্ প্রোগ্রাম (এফপিপি) ও ম্যানগ্রোভ এ্যাকশন প্রোজেক্ট (ম্যাপ) যৌথভাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ক্লিনের প্রধান সঞ্চালক হাসান মেহেদী। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘২০০২ সালে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে তিনটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সুন্দরবনের তেল-দূষণের সম্ভাব্য ক্ষতি বিষয়ে একটি সমীক্ষা চালায়। তেল-দূষণ থামানো না গেলে প্রথম ১৫ দিনের মধ্যে পাখি, কচ্ছপ, ছোট মাছ ও অমেরুদণ্ডী প্রাণী মারা যেতে পারে বলে ওই সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘ওই প্রতিবেদনে তেল-দূষণ রোধ করার জন্য বন বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উপকরণ ক্রয়, স্থানীয় জনগণ ও স্বেচ্ছাসেবীদের অংশগ্রহণে বাঁশ, কাঠের গুঁড়ি, কাঁচাপাট, খড়কুটো, বস্তা ও চট ব্যবহার করে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনের পর এক যুগ পার হয়ে গেলেও কোনো প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি।’

হাসান মেহেদী বলেন, ‘ট্যাংকার ডুবির ঘটনায় সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে প্রাণবৈচিত্র্য ধ্বংস হবার পাশাপাশি মানবদেহে দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সার, কিডনি ও যকৃত অকেজো হয়ে যাওয়া, স্নায়ুর স্থায়ী ক্ষতিসাধন, রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া এবং রক্তের তারল্য বেড়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে।’ সংবাদ সম্মেলন থেকে বিপন্ন প্রাণীর ‘অভয়াশ্রম’ নিরাপদ রাখার জন্য কোনো ধরনের রাসায়নিক পাউডার ব্যবহারের প্রতিবাদ জানানো হয়। বক্তারা বলেন, ‘কোনো প্রকার রাসায়নিক দ্রব্যের মাধ্যমে তেল অপসারণ করলে কিংবা বনের ভেতরে ঢুকে তেল দূরীভূত করার চেষ্টা করলে তা হবে আত্মঘাতের শামিল। তেল দূরীভূত করার জন্য আগুন ধরালে তা সুন্দরবনে ছড়িয়ে যেতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করা হয়।’

‘তেলখেকো ব্যাকটেরিয়া ছড়ানোর পদ্ধতি কার্যকর হলেও বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য সেটি খরচবহুল’ বলেও অভিমত প্রকাশ করেন বক্তারা। বক্তারা যত দ্রুত সম্ভব শত শত তরুণ স্বেচ্ছাসেবীদের দেশী উপকরণ দিয়ে তেল অপসারণের জন্য ঘটনাস্থলে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়, ২০১১ সালের ২৪ নভেম্বর স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নৌরুট বন্ধ করার নির্দেশ দেন। ২০১২ সালের ২১ আগস্ট পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে একই অনুরোধ জানায়। কিন্তু নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় ওই নির্দেশ ও অনুরোধের কোনো তোয়াক্কাই করেনি।

‘সুন্দরবনে জরুরি পরিবেশগত দুর্যোগ ঘোষণা করো, জরুরি ভিত্তিতে তেল অপসারণের উদ্যোগ নাও, ক্ষতিপূরণ আদায় করো এবং প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষা করো’- এসব দাবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে সুন্দরবন রক্ষায় সামরিক ও বেসামরিক বাহিনীসহ স্থানীয়ভাবে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের মাধ্যমে বর্তমান বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ ছাড়া ওই দুর্ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেফতার এবং যথাযথ ক্ষতিপূরণ আদায়, সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নৌ-চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধসহ তেল অপসারণের কাজ প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে সরাসরি তদারকিরও আহ্বান জানানো হয়।

এ ধরনের দুর্ঘটনা মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উপকরণ সংগ্রহে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সুন্দরবন পর্যবেক্ষণ দলের আহ্বায়ক গৌরাঙ্গ নন্দী, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) খুলনা অঞ্চলের সমন্বয়কারী এ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার, জনউদ্যোগের খুলনা সমন্বয়কারী মহেন্দ্রনাথ সেন, হিউম্যানিটিওয়াচের নির্বাহী সদস্য পলাশ দাশ প্রমুখ।

সুন্দরবনে পরিবেশগত দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবি

Sampadona.com | 12 December 2014
———————————————
Drowned Oil tanker and slicked oil in Shela River
বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবে সুন্দরবন পর্যবেক্ষণ দলের ব্যানারে বাপা, বেলা, ক্লিন, সিএসআরএল, এফপিপি ও ম্যাপ এর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে ৬ দফা দাবি উপস্থাপন করেন। দাবি গুলো হলো, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ২০১২৫ ও পরিবেশ সংরক্ষণ আইন (সংশোধিত ২০১০) এর আওতায় সুন্দরবনে পরিবেশগত দুর্গত এলাকা ঘোষণা করতে হবে; জরুরী ভিত্তিতে সুন্দরবনের নদী ও খাল থেকে তেল অপসারণের জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করতে হবে। এজন্য সম্মিলিত সামরিক ও বেসামরিক বাহিনী নিয়োগ করতে হবে এবং দেশি ও সহজলভ্য উপকরণ দিয়ে সরকারি-বেসরকারি সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবক নিযুক্ত করতে হবে; যদিও কোনো অর্থমূল্যে পরিবেশগত ক্ষতি পুরোপুরি থামানো যাবে না; তবুও তেল-দূষণের জন্য দায়ী কোম্পানির কর্তৃপক্ষকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ আদায় করতে হবে যাতে তেল অপসারণ ও বাদাবন পুনর্বাসনের খরচ মেটানো যায় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা বন্ধ হয়; সুন্দরবনের ভেতর থেকে বাণিজ্যিক নৌযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে; তেল অপসারণের কার্যক্রম যথাযথভাবে করার জন্য তদারকির দায়িত্ব পরিবেশ মন্ত্রীকে গ্রহণ করতে হবে; জরুরিভিত্তিতে তেল-দূষণ দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উপকরণ ক্রয়ে অবিলম্বে উদ্যোগ নিতে হবে। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সদস্য সচিব হাসান মেহেদী। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গৌরাঙ্গ নন্দী, এডভোকেট বাবুল হাওলাদার, মাহফুজুর রহমান প্রমুখ। সম্মেলনে খুলনা বেলার সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল বলেন, ট্যাঙ্কার ডুবিতে তেল দূষণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৫শ’ থেকে হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

খুলনায় পরিবেশবাদী সংগঠনসমূহের সংবাদ সম্মেলন

The daily Inqilab | 12 December 2014
খুলনা ব্যুরো
———————————————
CLEAN chief executive Hasan Mehedi is reading written speech in the Press Conference on Oil Spillage in the Sundarbans
“বাংলাদেশের গর্বের ধন সুন্দরবন আজ ভয়াবহ হুমকির মুখোমুখি। এ অবস্থায় জরুরিভিত্তিতে তেল-দূষণের বিস্তার রোধ ও অপসারণের জন্য স্থানীয়ভাবে প্রাপ্য উপকরণ দিয়ে শত শত স্বেচ্ছাসেবক নিযুক্ত করা দরকার। সরকার অবিলম্বে এ উদ্যোগ নিলে সুন্দরবনের বিপন্নতা কমানো সম্ভব হবে। কিন্তু গত দুই দিনে সরকারের আন্তরিকতা চোখে পড়লেও জরুরি উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না”।
গতকাল খুলনা প্রেসক্লাবে নাগরিক সমাজের জোট ‘সুন্দরবন পর্যবেক্ষণ দল’ বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন), গ্রামীণ জীবনযাত্রার স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের জন্য প্রচারাভিযান (সিএসআরএল), ইক্যুইটি অ্যান্ড জাস্টিস ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশ (ইক্যুইটিবিডি), ফরেস্ট পিপলস্ প্রোগ্রাম (এফপিপি) ও ম্যানগ্রোভ অ্যাকশন প্রোজেক্ট (ম্যাপ) যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলনটি আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ক্লিন-এর প্রধান সঞ্চালক হাসান মেহেদী।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, সুন্দরবন পর্যবেক্ষণ দলের আহক্ষায়ক গৌরাঙ্গ নন্দী, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)’র বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)’র খুলনা সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার, জনউদ্যোগের খুলনা সমন্বয়কারী মহেন্দ্রনাথ সেন, হিউম্যানিটিওয়াচ-এর নির্বাহী সদস্য পলাশ দাশ প্রমুখ।

Link: http://dailyinqilab.net/2014/12/12/225118.php?sid=

তেলে কালো চারদিক ডলফিনের দেখা নেই : দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি

Daily Kaler Kantho | 12 December 2014
নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা ও মংলা
নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা ও মংলা
————————————————
* জাহাজ উদ্ধার, তেল তুলবে এলাকাবাসী – See more at: http://www.kalerkantho.com/print-edition/first-page/2014/12/12/162034#sthash.VhnQ2yVC.dpuf

পানির ওপর ভাসছে থকথকে কালো তেল। সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে এমন ভয়াবহ দৃশ্যই চোখে পড়ে। ছবি : কালের কণ্ঠ
জরুরিভিত্তিতে তেল দূষণের বিস্তার রোধ ও তা অপসারণে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা দরকার। সরকার অবিলম্বে এ উদ্যোগ নিলে সুন্দরবনের বিপন্নতা কমানো সম্ভব হবে। সরকারের আন্তরিকতা চোখে পড়লেও জরুরি উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। গতকাল খুলনা প্রেসক্লাবে নাগরিক সমাজের জোট ‘সুন্দরবন পর্যবেক্ষণ দল’ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন), গ্রামীণ জীবনযাত্রার স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের জন্য প্রচারাভিযান (সিএসআরএল), ইক্যুইটি অ্যান্ড জাস্টিস ওয়ার্কিং গ্রুপ- বাংলাদেশ (ইক্যুইটিবিডি), ফরেস্ট পিপলস্ প্রোগ্রাম (এফপিপি) ও ম্যানগ্রোভ অ্যাকশন প্রোজেক্ট (ম্যাপ) যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ক্লিনের প্রধান সঞ্চালক হাসান মেহেদী।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ২০০২ সালে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে তিনটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সুন্দরবনে তেল দূষণের সম্ভাব্য ক্ষতি বিষয়ে একটি সমীক্ষা চালায়। তেল দূষণ থামানো না গেলে প্রথম ১৫ দিনের মধ্যে পাখি, কচ্ছপ, ছোট মাছ ও অমেরুদণ্ডী প্রাণী মারা যেতে পারে বলে ওই সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল। তবে তারপর এক যুগ পেরিয়ে গেলেও কোনো প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি।

বক্তারা বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে প্রাণবৈচিত্র্য ধ্বংসের পাশাপাশি মানবদেহেও দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সার, কিডনি ও যকৃত অকেজো হয়ে যাওয়া, স্নায়ুর স্থায়ী ক্ষতিসাধন, রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া এবং রক্তের তারল্য বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 জাহাজধার, তেল
তুলবে এলাকাবাসী – See more at: http://www.kalerkantho.com/print-edition/first-page/2014/12/12/162034#sthash.VhnQ2yVC.dpuf
ইউএনডিপির উদ্বেগ, পাশে থাকার আগ্রহ
* জাহাজ উদ্ধার, তেল তুলবে এলাকাবাসী – See more at: http://www.kalerkantho.com/print-edition/first-page/2014/12/12/162034#sthash.VhnQ2yVC.dpuf
নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা ও মংলা

Sundarban left unprotected for years: Govt ignores its own suggestions

Daily NewAge | December 20, 2014 12:38 am
Tapos Kanti Das
——————————————————-
Non-implementation of decisions and suggestions of different government and green organisations has left Sundarban vulnerable for years. Experts and greens believe that the Sundarban oil spill disaster could have been avoided if the decisions and recommendations had been implemented.
On December 9, oil tanker OT Southern Star-7 sank in the Shela River flowing through Sundarban emptying into the river most of the  3.58 lakh litres of furnace oil it was carrying, affecting 350 square kilometres of forest. ‘We had opposed the operation of vessels through the Shela River route in Sundarban when it began in 2011,’ environment and forest minister Anwar Hossain Manju told New Age on Friday after visiting the affected areas.
He, however, said that the damage inflicted on the environment and bio-diversity of Sundarban by the oil spill was ‘not as grave as we had feared’. After the suggestions of the ministry were ignored in 2011, the forest department imposed a ban on movement of vessels through the Shela River route at night, but the order was also not executed, senior forest department officials said. They said that OT Southern Star-7 was sailing at night before it capsized in dense fog before daybreak.
The greens, however, alleged that the government never paid heed to their concern and took the Sundarban issue lightly. Preservation of Sundarban was never a priority of the government. Referring to ‘Oil spill impact on the Sundarban Mangrove Forest Report’ of 2002 under the government’s ‘Oil spill impact and response management programme’, they alleged that the government knew how and when an oil spill problem should be addressed for reduction of losses, but they did not do so.
The study conducted by Japan Oil Engineering Company Limited, in association with Fuyo Ocean Development and Engineering Company Ltd of Japan and Consolidated Services Limited, Bangladesh, suggested earliest coordinated response by all departments concerned, use of booms and skimmers to prevent the spilled oil from spreading and immediate start of cleaning procedures.
‘Improvised booms may be made  from readily available materials, such as bamboos, logs, gunny bags, raw jute, rags, and straw bales to collect the floating oils on the water surface. Involvement of local people in combating the oil spills, if possible, is highly recommended from the viewpoint of more cost-effective operation,’ the July 2002 report said.
‘The accident occurred on November 9, but the government agencies concerned waited for three days to take a decision to begin oil slick cleanup operation using villagers,’ Sundarban Watch Group member-secretary Hasan Mehedi said and alleged that the time allowed the spilled oil to spread over vast areas through six high tides and as many low tides. Actually, he said, the government ignored its own suggestions and had no preparedness to face such accidents though it allowed commercial ships to carry oil and other materials harmful for nature through the Sundarban river route.
‘Actually, Sundarban was never a priority concern of the government and it has been proved by the accident, the government’s belated response and taking the matter lightly,’ Sundarban Rokhkha Jatiya Committee member-secretary Abdul Matin alleged. He alleged that the government had never paid heed to the concerns expressed by the greens and experts on plying of vessels on Sundarban rivers and destructive projects near the mangrove forest.

Govt negligence accelerates Sunderbans’ degradation

Daily NewAge | 2015-11-30
Tapos Kanti Das
———————————
The government’s negligence is accelerating environmental degradation in the Sunderbans, said experts. As a result, they said that the unique biodiversity of the world’s largest continuous mangrove forest was under threat. They squarely blamed the government decision of allowing commercial vessel movement along the rivers passing through the Sunderbans for the degradation of the world heritage site.
They said three major accidents in last one year endangered the mangrove forest by spilling oil  and chemical fertilizers and dropping cargo boat load of coal. They said that several factories and other establishments were  polluting the forest. Salinity intrusion facilitated by India’s withdrawal of the Ganges waters from the upstream also posed threats  to less salt tolerant species of the Sunderbans, said Dilip Dutta, who teaches environmental science at Khulna University.
A joint report of the United Nations and a government  Mission on last year’s oil spills was a serious wake up call to stop vessel movements through the Sunderbans. Commercial vessels, mechanized fishing and tourist boats  drop pollutants and cause noise pollution in the mangrove forest,  Sunderbans Watch Group member secretary Hasan Mehedi told New Age. No tigers can be seen at Kotka known as a tiger spot only five year ago, he said. Citing a report of the department of environment, he said that 149 factories and  establishments located at environmentally critical areas also posed threats to  the Sunderbans.
Unauthorised tree felling by dishonest traders by greasing palms of forest personnel is also endangering the mangrove forest, said golpata collector Arshad Sarder from Koira. He said fishermen often trespass into the protected sanctuaries in search of more fish. He said that golpata collectors often harvest more than their permits allow to please traders employing them which endanger the golpata palms.
The Sunderbans west divisional forest officer Jahir Uddin, said that that they had already written to the ministry concerned to issue a directive for stooping cutting of Golpata. ‘We have already managed to stop cutting of trees in the mangrove forest and continued our drives against the poachers,’ he added. A recent survey using camera trapping found a sharp decline in tiger population in the Bangladesh part of the Sunderbans due poaching and allowing vessel movements.
A coal-fired power plant under implementation in Bangladesh would bisect the Sunderbans tiger population said YV Jhala, professor of the Wildlife Institute of India and chief adviser of the camera trapped tiger count. At least 52 tigers were killed by poachers, angry villagers or natural disasters in last 16 years, said Forest Department’s Wildlife Management and Nature Conservation official in Khulna Md Jahidul Kabir.
Forest Departments probes following recovery of three tiger hides from Khulna in August found that the adult big cats were poisoned by poachers. Khulna University forestry and wood technology professor AK Fazlul Huq, an acknowledged expert on the Sunderbans, blamed uncontrolled human intervention and excessive extractions of forests resources for the degradation of the forest and its environment. Besides, he said, there was none to check tourist movement and stay within the Sunderbans for which its ecology was under threat.
He called for the introduction of  nature friendly integrated tourist and forest management. He called for banning commercial vessel movement through the Sunerbans and keeping the Mongla-Ghosiakhali channel fit for round the year movement of all sorts of vessels. He also said that the use of Passure channel should be strictly regulated banning vessel movement at night and by imposing controls on speed and anchoring.
Bangladesh Inland Water Transport Authority chief engineer Md Abdul Matin told New Age that it could not be said right now when Mongla-Ghasiakhali channel would be opened for all types of vessels as the channel had been facing continuous siltation.