‘বাঘ’ নিয়ে সুন্দরবন রক্ষার দাবি খুলনায়

দৈনিক প্রথম আলো
খুলনা অফিস | ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৬
দুই পাশে দুই শাবক নিয়ে মা বাঘ বসে আছে। পেছনে ব্যানারে লেখা ‘তোমাদের বিদ্যুতের জন্য আমাদের আবাস ধ্বংস করো না’।

গতকাল বৃহস্পতিবার খুলনা শহরের শহীদ হাদিস পার্কে বাঘের তিনটি প্রতিকৃতি নিয়ে অভিনব এক প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে কয়েকটি সংগঠন। সুন্দরবনের পাশে বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ দূষণকারী শিল্পকারখানা বন্ধের দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্ম জোট (ক্লিন), ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ও সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) যৌথ উদ্যোগে এ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন ক্লিন-টিআইবি-সনাক ওয়ার্কিং গ্রুপের আহ্বায়ক কুদরত-ই-খুদা। পরিচালনা করেন ক্লিনের প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী।

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, সুন্দরবন-সংলগ্ন এলাকাগুলোতে একের পর এক শিল্পকারখানা গড়ে উঠছে। প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার পাশেই রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ছাড়াও ওরিয়ন বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, এলপিজি প্ল্যান্ট, খাদ্যগুদামসহ প্রায় দেড় শ শিল্পপ্রতিষ্ঠান সুন্দরবনের অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। সুন্দরবনের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকাসহ (ইসিএ) সংলগ্ন ভূমিতে দেড় শতাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্মিত হয়েছে বা হতে যাচ্ছে।

লিংক : http://m.prothom-alo.com/bangladesh/article/965305/%E2%80%98%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%98%E2%80%99-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%A8-%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BF-%E0%A6%96%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A7%9F

‘আমাদের আবাসস্থল ধ্বংস করো না’

Daily সূবর্ণভূমি : www.subornobhumi.com
01 September 2016
 খুলনা অফিস : মা বাঘ দুটো বাচ্চা নিয়ে বসে আছে। তাদের পেছনে ব্যানার। সেখানে আহ্বান জানানো হচ্ছে, ‘তোমাদের বিদ্যুতের জন্য আমাদের আবাসস্থল ধ্বংস করো না।’ ব্যানার ধরে দাঁড়িয়েছেন তরুণ পরিবেশকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিগণ। পেছনের পটভূমিতে জাতির গৌরবের প্রতীক শহীদ মিনার।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টায় খুলনার শহীদ হাদিস পার্কে শহীদ মিনারের পাদদেশে এভাবেই সুন্দরবনের পাশে বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ দুষণকারী শিল্প কারখানা বন্ধ করার দাবি জানালো সুন্দরবনের বেঙ্গল টাইগার।

উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন), ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)ও সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-এর যৌথ উদ্যোগে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। ক্লিন-টিআইবি-সনাক ওয়ার্কিং গ্রুপের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদার সভাপতিত্বে কর্মসূচি পরিচালনা করেন হাসান মেহেদী।

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, সুন্দরবন-সংলগ্ন এলাকাগুলোতে একের পর এক গড়ে উঠছে শিল্প-কারখানা। প্রতিবেশগত সঙ্কটাপন্ন এলাকার পাশেই রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ছাড়াও ওরিয়ন বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, এলপিজি প্ল্যান্ট, খাদ্যগুদামসহ প্রায় দেড়শ’ শিল্প প্রতিষ্ঠান সুন্দরবনের অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। সুন্দরবনের প্রতিবেশগত সঙ্কটাপন্ন এলাকা (ইসিএ)-সহ সংলগ্ন ভূমিতে দেড় শতাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্মিত হয়েছে বা হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে তেলবাহী ট্যাঙ্কার, গম, সার ও কয়লাবাহী জাহাজডুবির কারণে সুন্দরবনের অস্তিত্ব নিয়ে নানারকম আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরপর যত্রতত্র অপরিণামদর্শী দুষণকারী শিল্প-প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হলে সুন্দরবনের উপর তার অমোচনযোগ্য বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। এ অবস্থায় দ্রুততর সময়ের মধ্যে পরিবেশ আইন, বন আইন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের আওতায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বক্তারা বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ শিল্প-কারখানা নিয়ন্ত্রণ ও বন্ধ করার দাবি জানান।

বক্তারা আরো বলেন, বাংলাদেশের অন্যান্য বনের তুলনায় সুন্দরবনের বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ আলাদা। তাই সাধারণ বন সংরক্ষণের আইন দিয়ে বাদাবন সংরক্ষণ করা যাবে না। বক্তারা সুন্দরবন সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য স্বতন্ত্র আইন প্রণয়নের দাবি জানান।

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা এমএ হালিম, সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-এর মনোয়ারা বেগম, মাসাস-এর নির্বাহী পরিচালক শামীমা সুলতানা শিলু, অপরাজেয়-বাংলাদেশ’র মাহবুব আলম প্রিন্স, টিআইবির এরিয়া ম্যানেজার ফিরোজ উদ্দীন, স্বজন-এর এসকে সাহা, জেসমিন জালান, ফটোগ্রাফার সাঈদা ফারহানা, ইয়েস-এর সুস্মিত সরকার, মামুনুর রশীদ, আসাদুজ্জামান, ক্লিন-এর নাসিম রহমান কিরণ, সুবর্ণা ইসলাম দিশা, রেজাউল করিম জিতু, মাঈনুল ইসলাম সাকিব প্রমুখ।

লিংক : http://www.subornobhumi.com/view/%E2%80%98%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%86%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A6%B2-%E0%A6%A7%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%82%E0%A6%B8-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8B-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E2%80%99/4789

সুন্দরবন রক্ষার দাবিতে অভিনব প্রতিবাদ

বাংলা ট্রিবিউন
খুলনা প্রতিনিধি, সেপ্টেম্বর ০১, ২০১৬
মা বাঘ দুটো বাচ্চা নিয়ে বসে আছে। তাদের পেছনে ব্যানারে আহ্বান ‘তোমাদের বিদ্যুতের জন্য আমাদের আবাস ধ্বংস করো না।’ ব্যানার ধরে দাঁড়িয়েছেন তরুণ পরিবেশ কর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। পেছনের পটভূমিতে জাতির গৌরবের প্রতীক শহীদ মিনার।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় খুলনার শহীদ হাদিস পার্কে এভাবেই সুন্দরবনের পাশে বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ দূষণকারী শিল্প কারখানা বন্ধ করার দাবি জানালো সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার। উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন), ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)ও সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-এর যৌথ উদ্যোগে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। ক্লিন-টিআইবি-সনাক ওয়ার্কিং গ্রুপের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদার সভাপতিত্বে কর্মসূচিটি পরিচালনা করেন ক্লিন-এর প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী।

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকাগুলোতে একের পর এক গড়ে উঠছে শিল্প-কারখানা। প্রতিবেশগত সঙ্কটাপন্ন এলাকার পাশেই রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র ছাড়াও ওরিয়ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, এলপিজি প্ল্যান্ট, খাদ্য গুদামসহ প্রায় দেড়শ শিল্প প্রতিষ্ঠান সুন্দরবনের অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। সুন্দরবনের প্রতিবেশগত সঙ্কটাপন্ন এলাকা (ইসিএ)-সহ সংলগ্ন ভূমিতে দেড় শতাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্মিত হয়েছে বা হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে তেলবাহী ট্যাঙ্কার, গম, সার ও কয়লাবাহী জাহাজ ডুবির কারণে সুন্দরবনের অস্তিত্ব নিয়ে নানা রকম আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরপরও যত্রতত্র শিল্প-প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হলে ব্যাপক হুমকির মুখে পড়বে সুন্দরবনের পরিবেশ। এ অবস্থায় দ্রুত পরিবেশ আইন, বন আইন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের আওতায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বক্তারা  সুন্দরবন সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য স্বতন্ত্র আইন প্রণয়নেরও দাবি জানান।

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা এম এ হালিম, সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-এর মনোয়ারা বেগম, মাসাস- এর নির্বাহী পরিচালক শামীমা সুলতানা শিলু, অপরাজেয়-বাংলাদেশে’র মাহবুব আলম  প্রিন্স, টিআইবি’র এরিয়া ম্যানেজার ফিরোজ উদ্দীন, প্রমুখ।

‘তোমাদের বিদ্যুতের জন্য আমাদের আবাস ধ্বংস করো না’

দৈনিক ইনকিলাব
২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

খুলনা ব্যুরো : মা বাঘ দুটো বাচ্চা নিয়ে বসে আছে। তাদের পেছনে ব্যানার। সেখানে আহ্বান জানানো হচ্ছে ‘তোমাদের বিদ্যুতের জন্য আমাদের আবাস ধ্বংস করো না’।

ব্যানার ধরে দাঁড়িয়েছেন তরুণ পরিবেশকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিগণ। পেছনের পটভূমিতে জাতির গৌরবের প্রতীক শহীদ মিনার। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় খুলনার শহীদ হাদিস পার্কে এভাবেই সুন্দরবনের পাশে বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ দূষণকারী শিল্পকারখানা বন্ধ করার দাবি জানালো সুন্দরবনের বেঙ্গল টাইগার।

উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন), ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)ও সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-এর যৌথ উদ্যোগে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। ক্লিন-টিআইবি-সনাক ওয়ার্কিং গ্রুপের আহ্বায়ক এ্যাড. কুদরত-ই-খুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিটি পরিচালনা করেন ক্লিন’র প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী।

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা এমএ হালিম, সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-এর মনোয়ারা বেগম, মাসাস’র নির্বাহী পরিচালক শামীমা সুলতানা শিলু, অপরাজেয়-বাংলাদেশ’র মাহবুব আলম প্রিন্স, টিআইবি’র এরিয়া ম্যানেজার ফিরোজ উদ্দীন, স্বজন’র এস.কে সাহা, জেসমিন জালান, স্বাধীন ফটোগ্রাফার সাঈদা ফারহানা, ইয়েস’র সুস্মিত সরকার, মামুনুর রশীদ, আসাদুজ্জামান, ক্লিন’র নাসিম রহমান কিরন, সুবর্ণা ইসলাম দিশা, রেজাউল করিম জিতু ও মাঈনুল ইসলাম সাকিব প্রমুখ।

সুন্দরবন রক্ষার দাবিতে খুলনায় মানববন্ধন

দৈনিক কালের কণ্ঠ
খুলনা অফিস, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
প্রতীকী বাঘ ও শাবককে সামনে রেখে সুন্দরবন রক্ষায় ব্যতিক্রম মানববন্ধন করেছে উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন), ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ও সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)।

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, সুন্দরবনের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকাসহ (ইসিএ) সংলগ্ন ভূমিতে দেড় শতাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্মিত হয়েছে বা হতে যাচ্ছে। এভাবে একের পর এক শিল্প-কারখানা, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, ওরিয়ন বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবনের অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। তাই অবিলম্বে এগুলো বন্ধ করতে হবে।

ক্লিন-টিআইবি-সনাক ওয়ার্কিং গ্রুপের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিটি পরিচালনা করেন ক্লিনের প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী। বক্তব্য দেন মুক্তিযোদ্ধা এম এ হালিম, মনোয়ারা বেগম, শামীমা সুলতানা শিলু, মাহবুব আলম প্রিন্স, ফিরোজ উদ্দীন, এস কে সাহা, জেসমিন জালান, সাঈদা ফারহানা, সুস্মিত সরকার, মামুনুর রশীদ, আসাদুজ্জামান, ক্লিনের নাসিম রহমান কিরন, সুবর্ণা ইসলাম দিশা, রেজাউল করিম জিতু, মাঈনুল ইসলাম সাকিব প্রমুখ।

দৈনিক খুলনাঞ্চল : বন্যপ্রাণ রক্ষা ও আমাদের সুন্দরবন

The Daily Khulnanchal
6 June 2016, Monday
———————————-
Hasan Mehedi, Chief Executive, CLEAN
প্রতিবছরের মতো এবারও পৃথিবীব্যাপী পালিত হয়ে গেল বিশ্ব পরিবেশ দিবস। ১৯৭৩ সাল থেকে জাতিসঙ্ঘ পরিবেশ কর্মসূচির উদ্যোগে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘গো ওয়াইল্ড ফর লাইফ’ যার সরল বঙ্গার্থ দাঁড়ায় ‘জীবনের জন্য, বাঁচাও বন্যপ্রাণ’। বাংলাদেশ সরকার অবশ্য একটু ব্যাপক করে প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারণ করেছে ‘বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ, বাঁচায় প্রকৃতি বাঁচায় দেশ।’ কিন্তু ওয়াইল্ড বলতে শুধুমাত্র ‘প্রাণী’ বোঝায় না, বরং প্রাণীর বাইরেও যে ব্যাপক ‘প্রাণসম্পদ’ আছে সেগুলোকেও অন্তর্ভূক্ত করে।

মোটকথা, পৃথিবীতে যে হারে বন্যপ্রাণ কমে যাচ্ছে তা সবাইকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। জাতিসঙ্ঘের হিসাবমতে, গণ্ডার, হাতি, গরিলা, শিম্পাঞ্জি, বাঘ, বনরুই ও মাছের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। কেন কমে যাচ্ছে? জাতিসঙ্ঘেরই আরেক হিসাবমতে, বন্যপ্রাণী পাচারে এ বছর ২০ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা অবৈধ লেনদেন হয়েছে যা ২০১৪ সালের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি। ২০১২ সালে সুন্দরবনেরর এক চোরাশিকারী স্বীকার করেন যে, এক বছরে তিনিএকাই ২৭টি বাঘ মেরেছেন। যদিও বন বিভাগ তার বক্তব্য আমলে নেয়নি। তবে বন বিভাগের নিজেদের প্রতিবেদনই বলছে যে, ১৯৯৯-২০১৫ মেয়াদের ১৬ বছরে সুন্দরবনে বাঘ মারা হয়েছে ৫২টি। অর্থাৎ ৫২টি হত্যার ঘটনা বন বিভাগের নথিপত্রে আছে। নথিপত্রের বাইরে কিছুই নেই, এ কথা মানার যথেষ্ঠ কারণ দেখা যাচ্ছে না।

১৯৭২ সাল থেকেই জাতিসঙ্ঘ ও সদস্য দেশগুলো পৃথিবীর পরিবেশ রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছে। বিপন্ন বন্যপ্রাণীর বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ১৯৭৩ সালে গ্রহণ করা হয় আন্তর্জাতিক বিপন্ন বন্য উদ্ভিদ ও প্রাণীবাণিজ্য বিষয়ক কনভেনশন (সাইটেস)। এ সনদে স্বাক্ষরকারী ১৮২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। তার মানে পৃথিবীর ১৮২টি দেশই বন্যপ্রাণীর অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ করতে চায়। কিন্তু তাতেও রক্ষা পাচ্ছে না বন্যপ্রাণীরা।
২০১০-২০১২ এই দুই বছরে শুধু আফ্রিকায় ১ লাখ হাতি হত্যা করা হয়েছে আর তা থেকে বাজারে সরবরাহ হয়েছে ১৭০ টন গজদন্ত চূর্ণ। চীন, কোরিয়া ও থাইল্যান্ডের চোরাই বাজারে রয়েছে বাঘের বিভিন্ন অঙ্গের বিপুল চাহিদা। গবেষণার জন্য শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বছরে ৭২ হাজার বানর চোরাই বাজার থেকে কেনা হয়। হরিণ, কুমীর, উদবিড়াল, অজগরসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীরও রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। এ সবগুলোই প্রকাশিত তথ্য, পানিতে ভেসে থাকা বরফের সামান্য অংশমাত্র। অপ্রকাশিত বিপুল বন্যপ্রাণীর বাজার নিয়ন্ত্রণ করা এখন খুবই জরুরি।

পাভেল পার্থ আমাদের বন্ধু। জনপ্রতিবেশবিদ্যা নিয়ে কাজ করার জন্য পরিচিত তিনি। একদিনের আড্ডায় বাঘের সংখ্যা নিয়ে কথা উঠলে তিনি বললেন, “১৯৬০’র দশক থেকেই বাংলাদেশ সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা দেখা যাচ্ছে ৩৫০-৪৫০টি। পৃথিবীতে জন্মমৃত্যুর মধ্য দিয়ে পৃথিবীর সব প্রাণীর সংখ্যাবৃদ্ধি হয়। বাঘের কি এগুলো কিছুই হয় না?” আমরা অনেকক্ষণ বিষয়টি নিয়ে মজা করলেও ঘটনাটি কিন্তু মোটেই মজার না।

আগে ৩৫০-৪৫০ বাঘের কথা বললেও সাম্প্রতিক সময়ে সবথেকে আধুনিক যন্ত্রপাতি কাজে লাগিয়ে সরকারিভাবে যে গবেষণা হয়েছে তাতে বাঘের সংখ্যা পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১০৬টি। অথচ ‘জলে কুমীর ডাঙায় বাঘ’ বলেই সুন্দরবনের সাধারণ পরিচয় দেয়া হয়। বাঘ কমেছে, কিন্তু কুমীর বেড়েছে এমনটা নয় কিন্তু। ষাট ও সত্তরের দশকে সুন্দরবন-সংলগ্ন অঞ্চলে মানুষ কুমীরের ভয়ে নদীতে স্নান করতে নামতো না। তখনকার হিসাব অনুসারে সুন্দরবনে নোনাপানির কুমীরের সংখ্যা ছিলো দেড় হাজারেরও বেশি, এখন তা কমতে কমতে এসে দাঁড়িয়েছে ২০০-২৫০টিতে। দেড়লাখ থেকে হরিণেরসংখ্যাও নেমে এসেছে ৫০-৬০ হাজারে।

আর হারিয়ে যাবার দলে প্রতিদিন যোগ হচ্ছে নতুন নতুন বন্যপ্রাণ। ইতোমধ্যেই যা যা হারিয়ে গেছে তা কাঁদলেও ফিরে পাওয়া যাবে না। পারা হরিণ বা কুকুরে হরিণ, বারো শিঙ্গা, বুনোষাঁড়, জাভাগণ্ডার, চিতাবাঘের পাশাপাশি হারিয়ে গেছে বুনোমহিষও যা ষাটের দশকেও দলে দলে চরে বেড়াতো বলে সুন্দরবনের ইতিহাসবিদ এএফএম আব্দুল জলিল লিখে গেছেন। পাখির মধ্যে সাদা মানিক জোড়, কানঠুনি, বোঁচাহাঁস, গগনবেড়, জলার তিতিরসহ অন্তত ১৫টি প্রজাতি আর কোনোদিন সুন্দরবনে দেখা যাবে কি না সন্দেহ। রয়না, কালো হাঙ্গর, তীরন্দাজ, জাভা, কাইক্কা, কাজলী, শিলং, কাইন মাগুর, দাতিনা ও লাক্ষাসহ ১৫-২০ প্রজাতির মাছ হয় এখন আর পাওয়া যায় না, নতুবা খুব দ্রুতই হারিয়ে যাবে এ অঞ্চল থেকে।

বন্যপ্রাণ উজাড় হয়ে যাবার পেছনে যে শুধু অতিরিক্ত সংগ্রহ ও চোরাই শিকার দায়ী, তা নয়। উজানে আড়বাঁধ দেয়ার ফলে সুন্দরবনে স্বাদুপানির অভাব, নদী-খাল মরে যাওয়ায় প্রতিবেশের অধঃপাত, জলোচ্ছ্বাসে বনের ভেতরে নোনাপানি প্রবেশ, বৃক্ষনিধনের ফলে আবাসস্থল ধ্বংস হওয়া, অতিরিক্ত পর্যটকের আনাগোনা, শব্দদূষণ, বিসদৃশ রঙিন ও চকচকে অবকাঠামো এবং উজানের বর্জ্যও কম দায়ী নয়।

সবশেষ দায়টি দিয়েছে স্বয়ং বিশ্ব বন্যপ্রাণ তহবিল (ডাব্লিউডাব্লিউএফ)। এ বছর এপ্রিলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিশ্বসংস্থাটি বলছে যে, সুন্দরবনের বন্যপ্রাণীর বিপন্নতার কারণ মূলত পাঁচটি : বনসংলগ্ন এলাকায় ভারী শিল্প নির্মাণ, সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে জাহাজসহ নৌযান চলাচল, অতিরিক্ত মৎস্য সংগ্রহ, বৃক্ষনিধন এবং অদূরদর্শী পানি ব্যবস্থাপনা।

পৃথিবীর সবথেকে বড়ো একক বাদাবন, সুন্দরবন ও তাঁর বন্যপ্রাণ বাঁচাতে এখনই ক্ষতিকর উদ্যোগগুলো বন্ধ করা ও ব্যাপকভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।

হাসান মেহেদী : সদস্য সচিব, সুন্দরবন পর্যবেক্ষণ দল ([email protected])

দলিত ভয়েস : বন্যপ্রাণ রক্ষা ও আমাদের সুন্দরবন

Dalitvoice24.com
Jun 04, 2016 Asafur Rahman Kajal
——————————————
প্রতিবছরের মতো এবারও সারা পৃথিবীব্যাপী পালিত হয়ে গেল বিশ্ব পরিবেশ দিবস। ১৯৭৩ সাল থেকে জাতিসঙ্ঘ পরিবেশ কর্মসূচির উদ্যোগে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘গো ওয়াইল্ড ফর লাইফ’ যার সরল বঙ্গার্থ দাঁড়ায় ‘জীবনের জন্য, বাঁচাও বন্যপ্রাণ’। বাংলাদেশ সরকার অবশ্য একটু ব্যাপকতর করে প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারণ করেছে ‘বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ, বাঁচায় প্রকৃতি বাঁচায় দেশ।’ কিন্তু ওয়াইল্ড বলতে শুধুমাত্র ‘প্রাণী’ বোঝায় না, বরং প্রাণী ছাড়াও যে ব্যাপকতর ‘প্রাণসম্পদ’ আছে সেগুলোকেও অন্তর্ভূক্ত করে।

মোটকথা, পৃথিবীতে যে হারে বন্যপ্রাণ কমে যাচ্ছে তা সবাইকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। জাতিসঙ্ঘের হিসাবমতে, গন্ডার, হাতি, গরিলা, শিম্পাঞ্জি, বাঘ, বনরুই ও মাছের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। কেন কমে যাচ্ছে? এই জাতিসঙ্ঘেরই আরেক হিসাবমতে, বন্যপ্রাণী পাচারে এ বছর ২০ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকাঅবৈধ লেনদেন হয়েছে যা ২০১৪ সালের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি। ২০১২ সালে সুন্দরবনেরর এক চোরাশিকারী স্বীকার করেন যে, এক বছরে তিনি একাই ২৭টি বাঘ মেরেছেন। যদিও বন বিভাগ তার বক্তব্য আমলে নেয়নি। তবে খোদ বন বিভাগের প্রতিবেদন বলছে যে, ১৯৯৯-২০১৫ মেয়াদের ১৬ বছরে সুন্দরবনে বাঘ মারা হয়েছে ৫২টি। অর্থাৎ ৫২টি বাঘ মারার ঘটনা বন বিভাগের হাতে ধরা পড়েছে।

১৯৭২ সাল থেকেই জাতিসঙ্ঘ ও সদস্য দেশগুলো পৃথিবীর পরিবেশ রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছে। বিপন্ন বন্য প্রাণীর বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ১৯৭৩ সালে গ্রহণ করা হয় আন্তর্জাতিক বিপন্ন বন্য উদ্ভিদ ও প্রাণীবাণিজ্য বিষয়ক কনভেনশন (সাইটেস)। এ সনদে স্বাক্ষরকারী ১৮২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। তার মানে পৃথিবীর ১৮২টি দেশই বন্য প্রাণীর অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ করতে চায়। কিন্তু তাতেও রক্ষা পাচ্ছে না বন্যপ্রাণীরা।

২০১০-২০১২ এই দুই বছরে শুধু আফ্রিকায় ১ লাখ হাতি হত্যা করা হয়েছে আর তা থেকে বাজারে সরবরাহ হয়েছে ১৭০ টন গজদন্ত চূর্ণ। চীন, কোরিয়া ও থাইল্যান্ডের চোরাই বাজারে রয়েছে বাঘের বিভিন্ন অঙ্গের বিপুল চাহিদা। গবেষণার জন্য শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বছরে ৭২ হাজার বানর চোরাই বাজার থেকে কেনা হয়। হরিণ, কুমীর, উদবিড়াল, অজগরসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীরও রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। এ সবগুলোই প্রকাশিত তথ্য, পানিতে ভেসে থাকা বরফের সামান্য অংশমাত্র। অপ্রকাশিত বিপুল বন্য প্রাণীর বাজার নিয়ন্ত্রণ করা এখন খুবই জরুরি।

পাভেল পার্থ আমাদের বন্ধু। জনপ্রতিবেশবিদ্যা নিয়ে কাজ করার জন্য পরিচিত তিনি। একদিনের আড্ডায় বাঘের সংখ্যা নিয়ে কথা উঠলে তিনি বললেন, “১৯৬০’র দশক থেকেই বাংলাদেশ সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা দেখা যাচ্ছে ৩৫০-৪৫০টি। পৃথিবীতে জন্মমৃত্যুর মধ্য দিয়ে সব প্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধি হয়। বাঘের কি এগুলো কিছুই হয় না?” আমরা অনেকক্ষণ বিষয়টি নিয়ে মজা করলেও ঘটনাটি কিন্তু মোটেই মজার না।

এখন কিন্তু ৩৫০-৪৫০টিরও সময় শেষ। সাম্প্রতিক সময়ে সবথেকে আধুনিক যন্ত্রপাতি কাজে লাগিয়ে সরকারিভাবে যে গবেষণা হয়েছে তাতে বাঘের সংখ্যা পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১০৬টি। অথচ ‘জলে কুমীর ডাঙায় বাঘ’ বলেই সুন্দরবনের সাধারণ পরিচয় দেয়া হয়। বাঘ কমেছে, কিন্তু কুমীর বেড়েছে এমনটা নয় কিন্তু। ষাট ও সত্তরের দশকে সুন্দরবন-সংলগ্ন অঞ্চলে মানুষ কুমীরের ভয়ে নদীতে স্নান করতে নামতো না। তখনকার হিসাব অনুসারে সুন্দরবনে নোনাপানির কুমীরের সংখ্যা ছিলো দেড় হাজারেরও বেশি, এখন তা কমতে কমতে এসে দাঁড়িয়েছে ২০০-২৫০টিতে। দেড়লাখ থেকে হরিণের সংখ্যাও নেমে এসেছে ৫০-৬০ হাজারে।
হারিয়ে যাবার এই স্রোত কিন্তু থামছে না বরং দলে প্রতিদিন যোগ হচ্ছে নতুন নতুন বন্যপ্রাণ। ইতোমধ্যেই যা যা হারিয়ে গেছে তা কাঁদলেও আর ফিরে পাওয়া যাবে না। পারা হরিণ বা কুকুরে হরিণ, বারো শিঙ্গা, বুনোষাঁড়, জাভা গন্ডার, চিতাবাঘের পাশাপাশি হারিয়ে গেছে বুনোমহিষও যা ষাটের দশকেও দলে দলে চরে বেড়াতো বলে সুন্দরবনের ইতিহাসবিদ এএফএম আব্দুল জলিল লিখে গেছেন।

পাখির মধ্যে সাদা মানিকজোড়, কানঠুনি, বোঁচাহাঁস, গগনবেড়, জলার তিতিরসহ অন্তত ১৫টি প্রজাতি আর কোনোদিন সুন্দরবনে দেখা যাবে কি না সন্দেহ। রয়না, কালো হাঙ্গর, তীরন্দাজ, জাভা, কাইক্কা, কাজলী, শিলং, কাইন মাগুর, দাতিনা ও লাক্ষাসহ ১৫-২০ প্রজাতির মাছ হয় এখন আর পাওয়া যায় না, নতুবা বিপন্ন হয়ে পড়েছে সুন্দরবনের পার্শ্ববর্তী এলাকায়।

বন্যপ্রাণ উজাড় হয়ে যাবার পেছনে যে শুধু অতিরিক্ত সংগ্রহ ও চোরাই শিকার দায়ী, তা নয়। উজানে আড়বাঁধ দেয়ার ফলে সুন্দরবনে স্বাদুপানির অভাব, নদী-খাল মরে যাওয়ায় প্রতিবেশের অধঃপাত, জলোচ্ছ্বাসে বনের ভেতরে নোনাপানি প্রবেশ, বৃক্ষনিধনের ফলে আবাসস্থল ধ্বংস হওয়া, অতিরিক্ত পর্যটকের আনাগোনা, শব্দদূষণ, বিসদৃশ রঙিন ও চকচকে অবকাঠামো এবং উজানের বর্জ্যও কম দায়ী নয়।

সবশেষ দায়টি দিয়েছে স্বয়ং বিশ্ব বন্যপ্রাণ তহবিল (ডাব্লিউডাব্লিউএফ)। এ বছর এপ্রিলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিশ্বসংস্থাটি বলছে যে, সুন্দরবনের বন্যপ্রাণীর বিপন্নতার কারণ মূলত পাঁচটি : বনসংলগ্ন এলাকায় ভারী শিল্প নির্মাণ, সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে জাহাজসহ নৌযান চলাচল, অতিরিক্ত মৎস্য সংগ্রহ, বৃক্ষনিধন এবং অদূরদর্শী পানি ব্যবস্থাপনা।

পৃথিবীর সবথেকে বড়ো একক বাদাবন, সুন্দরবন ও তাঁর বন্যপ্রাণ বাঁচাতে এখনই ক্ষতিকর উদ্যোগগুলো বন্ধ করা ও ব্যাপকভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।

-হাসান মেহেদী : সদস্য সচিব, সুন্দরবন পর্যবেক্ষণ দল

দৈনিক সমকাল : বন্যপ্রাণ রক্ষা ও আমাদের সুন্দরবন

Daily Samakal, Dhaka
Post Editorial, 5 June 2016, Sunday
হাসান মেহেদী
——————————————-
পৃথিবীতে যে হারে বন্যপ্রাণ কমে যাচ্ছে তা সবাইকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। জাতিসংঘের হিসাবমতে, গণ্ডার, হাতি, গরিলা, শিম্পাঞ্জি, বাঘ, বনরুই ও মাছের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। কেন কমে যাচ্ছে? জাতিসংঘের হিসাবমতে, বন্যপ্রাণী পাচারে এ বছর ২০ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা অবৈধ লেনদেন হয়েছে, যা ২০১৪ সালের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি। ২০১২ সালে সুন্দরবনের এক চোরা শিকারি স্বীকার করে, এক বছরে সে একাই ২৭টি বাঘ মেরেছে। যদিও বন বিভাগ তার বক্তব্য আমলে নেয়নি। তবে বন বিভাগের প্রতিবেদন বলছে, ১৯৯৯-২০১৫ মেয়াদে ১৬ বছরে সুন্দরবনে বাঘ মারা হয়েছে ৫২টি।

১৯৭২ সাল থেকেই জাতিসংঘ ও সদস্য দেশগুলো পৃথিবীর পরিবেশ রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছে। বিপন্ন বন্যপ্রাণীর বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ১৯৭৩ সালে গ্রহণ করা হয় আন্তর্জাতিক বিপন্ন বন্য উদ্ভিদ ও প্রাণী বাণিজ্য বিষয়ক কনভেনশন (সাইটেস)। এ সনদে স্বাক্ষরকারী ১৮২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। তার মানে, পৃথিবীর ১৮২টি দেশই বন্যপ্রাণীর অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ করতে চায়। তাতেও রক্ষা পাচ্ছে না বন্যপ্রাণীরা।

২০১০-২০১২ এ দুই বছরে শুধু আফ্রিকায় ১ লাখ হাতি হত্যা করা হয়েছে। আর তা থেকে বাজারে সরবরাহ হয়েছে ১৭০ টন গজদন্ত চূর্ণ। চীন, কোরিয়া ও থাইল্যান্ডের চোরাই বাজারে রয়েছে বাঘের বিভিন্ন অঙ্গের বিপুল চাহিদা। গবেষণার জন্য শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বছরে ৭২ হাজার বানর চোরাই বাজার থেকে কেনা হয়। হরিণ, কুমির, উদ্বিড়াল, অজগরসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীরও রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। এসবই প্রকাশিত তথ্য, পানিতে ভেসে থাকা বরফের সামান্য অংশমাত্র। অপ্রকাশিত বিপুল বন্যপ্রাণীর বাজার নিয়ন্ত্রণ করা এখন খুবই জরুরি।

পাভেল পার্থ আমাদের বন্ধু। জনপ্রতিবেশবিদ্যা নিয়ে কাজ করার জন্য পরিচিত তিনি। একদিনের আড্ডায় বাঘের সংখ্যা নিয়ে কথা উঠলে তিনি বললেন, ‘১৯৬০-এর দশক থেকেই বাংলাদেশে সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা দেখা যাচ্ছে ৩৫০-৪৫০টি। পৃথিবীতে জন্ম-মৃত্যুর মধ্য দিয়ে পৃথিবীর সব প্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধি হয়। বাঘের কি এগুলো কিছুই হয় না?’ আমরা অনেকক্ষণ বিষয়টি নিয়ে মজা করলেও ঘটনাটি কিন্তু মোটেই মজার নয়।

সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আধুনিক যন্ত্রপাতি কাজে লাগিয়ে সরকারিভাবে যে গবেষণা হয়েছে, তাতে বাঘের সংখ্যা পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১০৬টি। অথচ ‘জলে কুমির ডাঙায় বাঘ’ বলেই সুন্দরবনের সাধারণ পরিচয় দেওয়া হয়। বাঘ কমেছে, কিন্তু কুমির বেড়েছে_ এমনটা নয় কিন্তু। ষাট ও সত্তরের দশকে সুন্দরবন-সংলগ্ন অঞ্চলে মানুষ কুমিরের ভয়ে নদীতে স্নান করতে নামত না। তখনকার হিসাব অনুসারে সুন্দরবনে নোনাপানির কুমিরের সংখ্যা ছিল দেড় হাজারেরও বেশি। এখন তা কমতে কমতে এসে দাঁড়িয়েছে ২০০-২৫০টিতে। দেড় লাখ থেকে হরিণের সংখ্যাও নেমে এসেছে ৫০ হাজারে।

আর হারিয়ে যাওয়ার দলে প্রতিদিন যোগ হচ্ছে নতুন নতুন বন্যপ্রাণ। ইতিমধ্যে যা যা হারিয়ে গেছে কাঁদলে তা ফিরে পাওয়া যাবে না। পারা হরিণ বা কুকুরে হরিণ, বারো শিঙ্গা, বুনো ষাঁড়, জাভা গণ্ডার, চিতাবাঘের পাশাপাশি হারিয়ে গেছে বুনো মহিষও, যা ষাটের দশকেও দলে দলে চরে বেড়াত বলে সুন্দরবনের ইতিহাসবিদ এএফএম আবদুুল জলিল লিখে গেছেন। পাখির মধ্যে সাদা মানিকজোড়, কানঠুনি, বোঁচা হাঁস, গগনবেড়, জলার তিতিরসহ অন্তত ১৫টি প্রজাতি আর কোনোদিন সুন্দরবনে দেখা যাবে কি-না সন্দেহ। রয়না, কালো হাঙ্গর, তীরন্দাজ, জাভা, কাইক্কা, কাজলী, শিলং, কাইন মাগুর, দাতিনা, লাক্ষাসহ ১৫-২০ প্রজাতির মাছ হয় এখন আর পাওয়া যায় না, নতুবা খুব দ্রুতই হারিয়ে যাবে এ অঞ্চল থেকে।

বন্যপ্রাণ উজাড় হয়ে যাওয়ার পেছনে যে শুধু অতিরিক্ত সংগ্রহ ও চোরাই শিকার দায়ী, তা নয়। উজানে আড়বাঁধ দেওয়ার ফলে সুন্দরবনে স্বাদুপানির অভাব, নদী-খাল মরে যাওয়ায় প্রতিবেশের অধঃপাত, জলোচ্ছ্বাসে বনের ভেতরে নোনাপানি প্রবেশ, বৃক্ষনিধনের ফলে আবাসস্থল ধ্বংস হওয়া, অতিরিক্ত পর্যটকের আনাগোনা, শব্দদূষণ, বিসদৃশ রঙিন ও চকচকে অবকাঠামো এবং উজানের বর্জ্যও কম দায়ী নয়।

সর্বশেষ দায়টি দিয়েছে স্বয়ং বিশ্ব বন্যপ্রাণ তহবিল (ডবি্লউডবি্লউএফ)। এ বছর এপ্রিলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিশ্বসংস্থাটি বলছে, সুন্দরবনের বন্যপ্রাণীর বিপন্নতার কারণ মূলত পাঁচটি :বনসংলগ্ন এলাকায় ভারী শিল্প নির্মাণ, সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে জাহাজসহ নৌযান চলাচল, অতিরিক্ত মৎস্য সংগ্রহ, বৃক্ষনিধন এবং অদূরদর্শী পানি ব্যবস্থাপনা।

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় একক বাদাবন সুন্দরবন ও তার বন্যপ্রাণ বাঁচাতে এখনই ক্ষতিকর উদ্যোগগুলো বন্ধ করা ও ব্যাপকভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।

প্রাকৃতিক সম্পদের মালিক জনগণ, সুন্দরবনের জন্য ক্ষতিকর উদ্যোগ ঠেকাতে জনগণকেই এগিয়ে আসতে হবে

সুন্দরবন সমাচার
১৫ মার্চ ২০১৬
—————
Meet the Press of Indian representatives in Sundarbans Long March

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দূষণ মাত্রা অনেক ও বহুমুখী। এর ফলে সুন্দরবনের প্রতিবেশ হুমকির মুখে পড়তে পারে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে ভারতের কিছু এলাকার জনসাধারণ ইতোমধ্যে তাদের জীবিকা হারিয়েছে, পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। এ কারণেই জনগণের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা উচিৎ এবং যৌথ আন্দোলন গড়ে তোলা উচিৎ।

তবে দেশে শিল্পায়নের কোন বিকল্প নেই। দেশের অগ্রগতি ও গণমানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অবশ্যই বিভিন্ন শিল্প-কারখানা গড়ে তুলতে হবে। আর শিল্প এবং কৃষির আধুনিকায়নের জন্য প্রয়োজন জ্বালানী অর্থাৎ বিদ্যুৎ। সে ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ কেন্দ্র অবশ্যই গড়ে তুলতে হবে, তবে লক্ষ্য রাখতে হবে দুষণের মাত্রা যেন পরিবেশের সর্বনাশ করতে সক্ষম না হয়, যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
মনে রাখতে হবে বিদেশী এজেন্ট উন্নয়ন বিরোধীরাও তৎপর, যারা উন্নয়নের বিপরিতে পরিবেশ-প্রতিবেশ’র দরদী হতে চায় আবার (ব্যক্তিসার্থে) লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে বিদেশী রাষ্ট্রকে সিসমিক সার্ভের অনুমতি দিতে প্রত্যক্ষ সমর্থন দিয়ে পরিবেশের সর্বনাশ ডেকে আনে। এরা স্বাধীনতার পর পর সমাজতন্ত্রের নামে দেশে সকল প্রকার বিনিয়োগ বন্ধের সিদ্ধান্ত দিয়েছিলো। ফলে সদ্যজাত বাংলাদেশ হয়ে পড়ে শিল্পোন্নত দেশের বাজার মাত্র। দেশ পিছিয়ে পড়ে বহুযুগ। আবার দেশের আকাশে দেখা দিয়েছে পুরোনো শকুণ!
আজ খুলনা প্রেস ক্লাবের শহীদ হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে সুন্দরবন পর্যবেক্ষণ দল, উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট, সর্বভারতীয় বনকর্মী ইউনিয়ন, সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড পার্টিসিপেটরি রিসার্চ (সিইপিআর), ভারত বিজ্ঞান যাত্রা, দিল্লি সলিডারিটি গ্রুপ, মাচ্ছিমার অধিকার সংগঠন (ম্যাস) ও জাতীয় মৎস্যজীবী ফোরাম কর্তৃক যৌথভাবে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে “কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও উপকূলীয় প্রতিবেশ” শীর্ষক আলোচনা সভায় ভারতীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা এ কথা বলেন।
আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন প্রতিনিধি দলের সদস্য ও সর্বভারতীয় বনকর্মী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অশোক চৌধুরী, উপ-সম্পাদক রোমা মালিক, ভারত জন-বিজ্ঞান যাত্রার আহ্বায়ক সৌম্য দত্ত, কেরালার জাতীয় মৎস্যজীবী ফোরামের ম্যাগলিন পিটার, গুজরাটের মাচ্ছিমার অধিকার সংঘর্ষ সংগঠন (ম্যাস)’র ভারত প্যাটেল, উত্তর প্রদেশের উমেশ বাবু, উড়িষ্যার শীলা মহাপাত্র, কেরালার মাজু ভারগেসে, মধ্য প্রদেশের রাজেশ কুমার ও মহারাষ্ট্রের আয়েশা ডি’সুজা। আলোচনা সভার সঞ্চালক ছিলেন উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন)’র প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী।
আলোচনায় অংশ নিয়ে ম্যাস’র ভারত প্যাটেল বলেন, গুজরাটের কচ্ছ উপসাগরের তীরে প্রথমে মাত্র ৩০০ মেগাওয়াটের একটি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উত্তপ্ত পানির কারণে উপকূল মৎস্যশূন্য হয়ে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ তাদের জীবিকা হারিয়েছে। অপরদিকে কর্মসংস্থান হয়েছে মাত্র ২শ’ মানুষের। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা সরবরাহের জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশেষ বন্দর। বন্দরের জাহাজের শব্দ ও দুষণে নষ্ট হয়ে গেছে এলাকার পরিবেশ। বিদ্যুৎকেন্দ্রের উপর নির্ভর করে গড়ে ওঠা শিল্প-কারখানার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে আরো বিদ্যুৎকেন্দ্র। মাত্র ৩০০ একর জায়গা নিয়ে শুরু করলেও এখন ১২০ কিলোমিটার ব্যাপী দুষণকারী কারখানা আর বিদ্যুৎকেন্দ্রে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা। কেরালার মৎস্যজীবী ফোরামের ম্যাগলিন পিটার বলেন, আদানী ও আম্বানি গ্রুপের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে হাজার হাজার জেলে তাদের জীবিকা হারিয়েছে।
সর্বভারতীয় বনকর্মী ইউনিয়নের অশোক চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্রীয় সংস্থা হিশেবে ভারতের জাতীয় তাপবিদ্যুৎ কোম্পানি (এনটিপিসি)’র দায়িত্ব হলো নিজ দেশের জনসাধারণকে বিদ্যুৎ পরিষেবা প্রদান করা। অন্য দেশে মুনাফার জন্য কোম্পানি তৈরি করার কোনো অধিকার এ সংস্থার নেই। ভারত জন-বিজ্ঞান যাত্রার সৌম্য দত্ত বলেন, ভারত-বাংলাদেশের একটাই সুন্দরবন। এর কোনো একটি অংশে নেতিবাচক প্রভাব পড়লে অপর অংশও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ভারতীয় কোম্পানি যদি সেই ক্ষতির জন্য দায়ী হয় তাহলে উদ্যোগ নিতে হবে যৌথভাবে। সেখানে ভারতীয় জনগণ নিজ কোম্পানিকে প্রতিরোধ করার জন্য কাজ করবেন, বাংলাদেশ কাজ করবে নিজ প্রতিবেশ রক্ষার জন্য। রোমা মালিক বলেন, সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদ নষ্ট করে মুষ্টিমেয় ধনী কোম্পানিগুলো মুনাফার পাহাড় গড়ছে। এর বিরুদ্ধে দক্ষিণ এশীয় জনসাধারণের সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ জানাতে হবে। তাই জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।
আলোচনা সভায় আরো আলোচনা করেন, হিউম্যানিটিওয়াচ’র শরিফুল ইসলাম সেলিম, শিশুস্বর্গ খেলাঘর আসরের মাইনুল ইসলাম সাকিব, ক্লিন’র রেজাউল করিম জিতু, সুবর্ণা ইসলাম দিশা, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাকিবৃন্দ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক গৌরাঙ্গ নন্দী।

সুন্দরবনের জন্য ক্ষতিকর উদ্যোগ ঠেকাতে দুই দেশের জনগণের ঐক্য দরকার প্রাকৃতিক সম্পদের মালিক জনগণ, তা বাঁচাতে জনতারই এগিয়ে আসতে হবে

Voice of Satkhira
মার্চ ১৫, ২০১৬
———————
খুলনা, ১৫ মার্চ ২০১৬ : কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষতির মাত্রা ভয়াবহ। এর ফলে সুন্দরবনের সঙ্কটাপন্ন প্রতিবেশ আরো হুমকির মুখে পড়বে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে ভারতের কিছু এলাকার জনসাধারণ ইতোমধ্যে তাদের জীবিকা হারিয়েছে, পরিবেশ নষ্ট হয়েছে এবং এ কারণে আদালত অনেকগুলো বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। এ কারণেই জনগণের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা উচিৎ এবং যৌথ আন্দোলন গড়ে তোলা উচিৎ। আজ (১৫ মার্চ ২০১৬, মঙ্গলবার) খুলনা প্রেসক্লাবের শহীদ হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে সুন্দরবন পর্যবেক্ষণ দল, উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন), সর্বভারতীয় বনকর্মী ইউনিয়ন, সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড পার্টিসিপেটরি রিসার্চ (সিইপিআর), ভারত বিজ্ঞান যাত্রা, দিল্লি সলিডারিটি গ্রুপ, মাচ্ছিমার অধিকার সংঘর্ষ সংগঠন (ম্যাস) ও জাতীয় মৎস্যজীবী ফোরাম কর্তৃক যৌথভাবে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে “কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও উপকূলীয় প্রতিবেশ” শীর্ষক আলোচনা সভায় ভারতীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা এ কথা বলেন।

বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সুন্দরবন পর্যবেক্ষণ দলের আহ্বায়ক গৌরাঙ্গ নন্দীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন প্রতিনিধি দলের সদস্য ও সর্বভারতীয় বনকর্মী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অশোক চৌধুরী, উপ-সম্পাদক রোমা মালিক, ভারত জন-বিজ্ঞান যাত্রার আহ্বায়ক সৌম্য দত্ত, কেরালার জাতীয় মৎস্যজীবী ফোরামের ম্যাগলিন পিটার, গুজরাটের মাচ্ছিমার অধিকার সংঘর্ষ সংগঠন (ম্যাস)-এর ভারত প্যাটেল, উত্তর প্রদেশের উমেশ বাবু, উড়িষ্যার শীলা মহাপাত্র, কেরালার মাজু ভারগেসে, মধ্য প্রদেশের রাজেশ কুমার ও মহারাষ্ট্রের আয়েশা ডি’সুজা। আলোচনা সভার সঞ্চালক ছিলেন উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন)-এর প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ম্যাস-এর ভারত প্যাটেল বলেন, গুজরাটের কচ্ছ উপসাগরের তীরে প্রথমে মাত্র ৩০০ মেগাওয়াটের একটি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উত্তপ্ত পানির কারণে উপকূল মৎস্যশূন্য হয়ে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ তাদের জীবিকা হারিয়েছে। অপরদিকে কর্মসংস্থান হয়েছে মাত্র ২শ’ মানুষের। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা সরবরাহের জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশেষ বন্দর। বন্দরের জাহাজের শব্দ ও দুষণে নষ্ট হয়ে গেছে এলাকার পরিবেশ। বিদ্যুৎকেন্দ্রের উপর নির্ভর করে গড়ে ওঠা শিল্প-কারখানার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে আরো বিদ্যুৎকেন্দ্র। মাত্র ৩০০ একর জায়গা নিয়ে শুরু করলেও এখন ১২০ কিলোমিটার ব্যাপী দুষণকারী কারখানা আর বিদ্যুৎকেন্দ্রে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা। কেরালার মৎস্যজীবী ফোরামের ম্যাগলিন পিটার বলেন, আদানী ও আম্বানি গ্রুপের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে হাজার হাজার জেলে তাদের জীবিকা হারিয়েছে। অথচ তাদেরকে কয়েক লাখ কর্মদিনের চাকরির লোভ দেখানো হয়েছিলো। পরবর্তীতে দেখা গেল, ১০ হাজার মানুষের মাত্র ২ মাসের কর্মসংস্থান হয়েছে।

সর্বভারতীয় বনকর্মী ইউনিয়নের অশোক চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্রীয় সংস্থা হিশেবে ভারতের জাতীয় তাপবিদ্যুৎ কোম্পানি (এনটিপিসি)’র দায়িত্ব হলো নিজ দেশের জনসাধারণকে বিদ্যুৎ পরিষেবা প্রদান করা। অন্য দেশে মুনাফার জন্য কোম্পানি তৈরি করার কোনো অধিকার এ সংস্থার নেই। ভারত জন-বিজ্ঞান যাত্রার সৌম্য দত্ত বলেন, ভারত-বাংলাদেশের একটাই সুন্দরবন। এর কোনো একটি অংশে নেতিবাচক প্রভাব পড়লে অপর অংশও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ভারতীয় কোম্পানি যদি সেই ক্ষতির জন্য দায়ী হয় তাহলে উদ্যোগ নিতে হবে যৌথভাবে। সেখানে ভারতীয় জনগণ নিজ কোম্পানিকে প্রতিরোধ করার জন্য কাজ করবেন, বাংলাদেশ কাজ করবে নিজ প্রতিবেশ রক্ষার জন্য। রোমা মালিক বলেন, সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদ নষ্ট করে মুষ্টিমেয় ধনী কোম্পানিগুলো মুনাফার পাহাড় গড়ছে। এর বিরুদ্ধে দক্ষিণ এশীয় জনসাধারণের সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ জানাতে হবে। তাই জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।

আলোচনা সভায় আরো আলোচনা করেন, এনটিভি’র মুহাম্মদ আবু তৈয়ব, বেলা’র মাহফুজুর রহমান মুকুল, মাছরাঙা টেলিভিশনের মোস্তফা জামাল পপলু, ওয়াটারকিপার্স-এর মানবেন্দ্র দেব, ছাত্র প্রতিনিধি কানাই মণ্ডল, দীপ্ত টেলিভিশনের ফারজানা ববি, দৈনিক পূর্বাঞ্চলের এইচএম আলাউদ্দীন, সাংবাদিক মাকসুদুর রহমান, এসএ টেলিভিশনের সুনীল দাস, গাজী শান্তনু কায়সার, একুশে টেলিভিশনের মহেন্দ্র নাথ সেন, হিউম্যানিটিওয়াচ-এর শরিফুল ইসলাম সেলিম, শিশুস্বর্গ খেলাঘর আসরের মাইনুল ইসলাম সাকিব, দৈনিক যুগান্তরের হেদায়েৎ হোসেন, বাংলানিউজ-এর মাহবুবুর রহমান মুন্না, দৈনিক তথ্যের নূর হাসান জনি, ক্লিন-এর রেজাউল করিম জিতু, সুবর্ণা ইসলাম দিশা প্রমূখ।