নির্বাচনী ইশতেহারে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি রক্ষার বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত করতে হবে

দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি রক্ষায় একমত খুলনার সকল রাজনৈতিক দল 

Leaders of different political parties in a photo session after completion of the Workshop on Right to Food and Agriculture
রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে খুলনার কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় একমত হলেন সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবেলা করে যাতে ক্ষুদ্র কৃষক ও উৎপাদকদের অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হয় সেজন্য সকলে একই সুরে জাতীয় পর্যায়ে দাবি তুলে ধরবেন বলে অঙ্গীকারবদ্ধ হন। 
গত ৩১ অক্টোবর ২০১৮, বুধবার খুলনার স্থানীয় একটি হোটেলে উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন) ও খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক (খানি) আয়োজিত ‘কৃষি ও খাদ্য অধিকার : প্রত্যাশিত জন-ইশতেহার’ শীর্ষক কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এ অঙ্গীকার করেন। সাংবাদিক গৌরাঙ্গ নন্দীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), জাতীয় পার্টি ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃবৃন্দ ছাড়াও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকগণ অংশগ্রহণ করেন। 
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, বর্তমানে শিল্প ও সেবাখাতে যে পরিমাণে ভর্তুকি ও অন্যান্য প্রণোদনার তুলনায় কৃষিতে সহায়তার পরিমাণ যৎসামান্য। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা জমির উপর অধিকার হারিয়ে চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকে পরিণত হচ্ছে। কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় উৎপাদন নিরুৎসাহিত হচ্ছে, ফলে কৃষিতে প্রবৃদ্ধি ক্রমশ কমে যাচ্ছে। 
কর্মশালায় সকল রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে উপকূলীয় বেড়িবাঁধের ব্যবস্থাপনা ইউনিয়ন পরিষদের হাতে হস্তান্তর করা, নারী কৃষকের স্বীকৃতি ও অধিকার নিশ্চিত করা, উপকূলীয় খালগুলো দখলমুক্ত ও উন্মুক্ত করা, কৃষিখাতে তরুণদের অন্তর্ভূক্তির জন্য প্রণোদনা দেয়া, জলবায়ু বাস’চ্যূতসহ ভূমিহীনদের খাসজমি বরাদ্দের হার বৃদ্ধি করা, কৃষিবীমা প্রবর্তন করা, কৃষিপ্রযুক্তির আধুনিকায়নে সরাসরি কৃষকদের ভর্তুকি দেয়া, কৃষিশ্রমিকদের শ্রম-অধিকার নিশ্চিত করা, জলবায়ুসহিষ্ণু ফসলের জাত উদ্ভাবন ও উৎপাদনে অধিক হারে প্রণোদনা দান, সমবায়ভিত্তিক চাষাবাদ-ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা, খাস জলাশয় ও খাসজমিতে কৃষক ও জেলেদের অধিকার নিশ্চিত করা, কৃষিখাতে ভর্তুকি বৃদ্ধি, উপজেলা পর্যায়ে কৃষক-বাজার প্রতিষ্ঠা করা, কৃষিক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ের শিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ, আমিষের ঘাটতি মোকাবেলায় গবাদিপশু ও হাঁসমুরগি চাষে বিশেষ সহায়তা প্রদান, কৃষিখাতে মাঠভিত্তিক গবেষণা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি এবং গবেষণা ফলাফল দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত করার প্রচেষ্টা থাকবে বলে রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ অঙ্গীকার করেন। 
কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে উপসি’ত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শ্যামল সিংহ রায়, জেলা শাখার সভাপতি আশরাফুজ্জামান বাবুল, সাধারণ সম্পাদক মানিকুজ্জামান অশোক, সদস্য অরিন্দম মল্লিক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ খুলনা জেলার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির ববি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র খুলনা মহানগর শাখার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক তারিকুল ইসলাম, খুলনা মহানগর মহিলা দলের সভাপতি রেহানা আখতার, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র খুলনা মহানগর শাখার সভাপতি এইচএম শাহাদৎ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ হোসেন, খুলনা জেলার সাধারণ সম্পাদক স.ম. রেজাউল করিম, খুলনা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মন্টু, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির খুলনা জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য দেলোয়ার উদ্দীন দিলু, এসএম ফারুকুল ইসলাম, জাতীয় পার্টি খুলনা মহানগর শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক গাওসুল আজম, জনউদ্যোগ-খুলনার আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা, খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুবীর রায়, দৈনিক সমকালের মামুন রেজা, ক্লিন-এর মাহবুব আলম প্রিন্স, সাজ্জাদ হোসেন তুহিন, হাসান মেহেদী প্রমূখ।

প্রধানমন্ত্রী বরাবর আড়াই হাজার পোস্টকার্ড

জেলা সংবাদদাতা | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৮৩৮ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ৩১ মে ২০১৬
—————————————
CLEAN, Khulna: Postcard Campaign demanding increased allocation for Agriculture in National Budget
বাজেটে কৃষিখাতে বরাদ্দ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আড়াই হাজার পোস্টকার্ড পাঠিয়েছে গ্রামীণ জীবনযাত্রার স্থায়ীত্বশীল প্রচারঅভিযান (সিএসআরএল) ও উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোটসহ (ক্লনি) পাঁচ সংগঠন।
আন্তর্জাতিক দাতব্য সংগঠন অক্সফ্যাম ও গ্রো এর সহযোগিতায় সারা দেশ থেকে এ রকম এক লাখ পোস্টকার্ড প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে। পোস্টকার্ডে স্বাক্ষর করেছেন সংসদ সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ, কৃষিজীবী, শিক্ষার্থী, সাংবাদিকসহ নানা পেশাজীবী মানুষ।
পোস্টকার্ড ক্যাম্পেইনের শেষদিনে মঙ্গলবার নগরীর বয়রা বাজারে পাঁচ শতাধিক মানুষের স্বাক্ষরসহ খুলনা জিপিওতে পোস্টকার্ডগুলো জমা দেয়া হয়।
পোস্টকার্ড ক্যাম্পেইন থেকে জানানো হয়, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে কৃষিখাতে বাজেটের ৬.৬ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হয়, যা ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বরাদ্দ। ২০০৯-১০ অর্থবছরে বরাদ্দ কমতে থাকলেও ২০১৩-১৪ অর্থবছরে কিছুটা বেড়ে ৫.৫ শতাংশে পৌঁছায়। কিন্তু এরপর থেকে কৃষিখাতে বরাদ্দ কমতে কমতে এখন ৪.৩ শতাংশে পৌঁছেছে, যা দশ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। চার  বছরে বাজেটের আকার ৭০ শতাংশ বাড়লেও কৃষিখাতে বরাদ্দ কমেছে ১৫ শতাংশ। এছাড়া কৃষিতে ভর্তুকি কমেছে ২৫ শতাংশ।
পোস্টকার্ড ক্যাম্পেইনে কৃষিখাতে মোট বাজেটের সাত শতাংশ বরাদ্দ দেয়া এবং কৃষি উপকরণ ও মূল্য সহায়তা ভর্তুকি বাবদ মোট উৎপাদনের দশ শতাংশ বরাদ্দ দেয়ার দাবি জানানো হয়।
এ ক্যাম্পেইনে অন্যান্যদের সাথে অংশগ্রহণ করেন খানজাহান আলী কৃষি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ, বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির জেলা সংগঠক মনিরুল হক বাচ্চু প্রমুখ।

Link: http://www.newsbangladesh.com/details/28392

প্রধানমন্ত্রীর কাছে পোস্টকার্ড পাঠিয়ে কৃষিখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি

৩১ মে ২০১৬ মঙ্গলবার, ০৬:১৩  পিএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
———————————–
CLEAN, Khulna: Postcard Campaign demanding increased allocation for Agriculture in national Budget
আগামী বাজেটে কৃষিখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর নিকটে আড়াই হাজার পোস্টকার্ড প্রেরণ করলো গ্রামীণ জীবনযাত্রার স্থায়িত্বশীল প্রচারাভিযান (সিএসআরএল) ও উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন)সহ ৫টি সংগঠন।

আন্তর্জাতিক দাতব্য সংগঠন অক্সফ্যাম ও গ্রো-এর সহযোগিতায় সারাদেশ থেকে এরকম ১ লক্ষ পোস্টকার্ড প্রেরণ করা হয়। পোস্টকার্ডে সংসদ সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিক, কৃষক-কৃষাণী, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ সমাজের নানা পেশার প্রতিনিধিগণ স্বাক্ষর করেছেন।

মঙ্গলবার পোস্টকার্ড ক্যাম্পেইনের সমাপনী দিনে নগরীর বয়রা বাজারে ৫ শতাধিক মানুষের স্বাক্ষরসহ খুলনা জিপিওতে পোস্টকার্ডগুলো জমা দেয়া হয়।

পোস্টকার্ড ক্যাম্পেইনে জানানো হয়, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে কৃষিখাতে বাজেটের ৬.৬ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হয় যা বিগত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এরপর ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে বরাদ্দ কমতে থাকলেও ২০১৩-১৪ অর্থবছরে কিছুটা বেড়ে তা ৫.৫ শতাংশে পৌছায়। কিন্তু তারপর থেকে কৃষিখাতে বরাদ্দ কমতে কমতে বর্তমানে ৪.৩ শতাংশে পৌছেছে যা গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত চার বছরে বাজেটের আকার ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও কৃষিখাতে বরাদ্দ কমেছে ১৫ শতাংশ এবং কৃষিতে ভর্তুকি কমেছে ২৫ শতাংশ।

পোস্টকার্ড ক্যাম্পেইনে কৃষিখাতে মোট বাজেটের ৭ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া এবং কৃষি উপকরণ ও মূল্য সহায়তা ভর্তুকি বাবদ মোট কৃষি উৎপাদনের ১০ শতাংশ বরাদ্দ দেয়ার দাবি জানানো হয়।

পোস্টকার্ড ক্যাম্পেইনে অন্যান্যের মধ্যে অংশগ্রহণ করেন খানজাহান আলী কৃষি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির খুলনা জেলা সংগঠক মনিরুল হক বাচ্চু, অক্সফ্যাম-এর জায়মা জাহিন খান, ক্লিন-এর প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী, নাসিম রহমান কিরন, সূবর্ণা ইসলাম দিশা, রেজাউল করিম জিতু প্রমূখ।

Link: প্রধানমন্ত্রীর কাছে পোস্টকার্ড পাঠিয়ে কৃষিখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে সার্ক বীজব্যাংক চালু করার দাবি

Daily Jaijaidin
June 1, 2015
——————–
দক্ষিণ এশিয়ার দারিদ্র্য ও খাদ্যঝুঁঁকি দূর করতে সার্ক বীজব্যাংক চালু করা খুব জরুরি বলে দাবি জানিয়েছে বক্তারা।
রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই ভবনে দক্ষিণ এশীয় খাদ্য অধিকার সম্মেলনে খানি-বাংলাদেশ, কেন্দ্রীয় কৃষক মৈত্রী, এশীয় কৃষক সংগঠন (আফা), এশীয় খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক (এএফএসএন), আন্তর্জাতিক খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক (আইএফএসএন), ইনসিডিন বাংলাদেশ ও অ্যাকশনএইড কর্তৃক যৌথভাবে আয়োজিত বীজব্যাংক বিষয়ক কর্ম-অধিবেশনে বক্তারা এসব কথা বলেন।
অধিবেশনে ধারণাপত্র পাঠ করেন উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন)-এর প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী। অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য কাজী রোজী, সার্ক অ্যাগ্রিকালচারাল সেন্টারের সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট ড. টায়ান রাজ গুরুং, ইতালির আলবার্টা গুয়েরা, ভারতের হর্ষ মান্দের এবং পাকিস্তানের ড. মোহাম্মদ মুসা। অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন আইএফএসএন-এর নির্বাহী সদস্য রতন সরকার।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সার্ক বীজব্যাংক চুক্তিতে স্থানীয় জাতের বীজের স্বীকৃতি দেয়া হলেও হাজার হাজার বছর ধরে যেসব কৃষক এই জাতগুলো উন্নয়ন, বিনিময় ও সম্প্রসারণ করছেন, তাদের কোনো স্বীকৃতি ও অধিকার দেয়া হয়নি। সার্ক বীজব্যাংক বোর্ডে মাত্র একজন কৃষক প্রতিনিধি রাখা হয়েছে, অথচ বীজ কোম্পানি প্রতিনিধি রাখা হয়েছে দুজন। অপরদিকে নাগরিক সমাজের একজন প্রতিনিধিও বোর্ডে রাখা হয়নি। বক্তারা বীজব্যাংক বোর্ডে কমপক্ষে ৩ জন কৃষক প্রতিনিধি ও ১ জন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি রাখার দাবি জানান।